Advertisement
E-Paper

রাজ্যের প্রাক্তন সাংসদের নামই বাদ দ্বিতীয় দফার তালিকায়, সিইও মনোজের সঙ্গে সাক্ষাৎ, দিল্লিতে চিঠি লেখার প্রস্তুতিও

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিবেচনাধীন নাম পরীক্ষা করছে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। যা তত্ত্বাবধান করছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৭:২৮
SIR: Former MP Tarun Mondal name was omitted from the voter list

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ছিলেন ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায়। তা থেকে বাছবিচার করে দ্বিতীয় দফার তালিকা শুক্রবার মধ্যরাতে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ‘বিবেচনাধীন’ থেকে ‘বাদ’ যাওয়ার তালিকায় চলে গেলেন পশ্চিমবঙ্গের এক প্রাক্তন সাংসদ!

২০০৯ সালে কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের সমর্থনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থেকে জিতেছিলেন এসইউসি-র তরুণ মণ্ডল। পেশায় চিকিৎসক ওই প্রাক্তন সাংসদের নাম তালিকা থেকে বাদের তালিকায় চলে গিয়েছে। তরুণ দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা। সেই বিধানসভার ২৭৯ নম্বর বুথে তাঁর নাম ছিল। কিন্তু ‘বিয়োজন’ তালিকায় জ্বলজ্বল করছে তরুণের নাম। তাঁর স্ত্রী মহুয়ার নামও বিবেচনাধীন ছিল। কিন্তু শুক্রবার প্রকাশিত তালিকায় মহুয়াকে বৈধ ভোটার হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। তবে বাদ পড়ে গিয়েছে প্রাক্তন সাংসদ তরুণের নাম।

তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রাক্তন সাংসদ তরুণ মণ্ডলের নাম।

তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রাক্তন সাংসদ তরুণ মণ্ডলের নাম। ছবি: সংগৃহীত।

শনিবারই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন তরুণ। তিনি বলছেন, ‘‘আমিই সিইও-কে আমার কথা জানালাম। আমি সরকারি চাকরি করতাম, পেনশন পাই, সাংসদ ছিলাম। এক ডজন নথি দিয়েছি। কিন্তু উনি বললেন, এখন যা করার ট্রাইবুনাল করবে। কথা শুনে মনে হল উনি নির্বিকার।’’ তরুণ জানিয়েছেন, সিইও-কে স্মারকলিপি দেওয়ার পরে এক ডজন নথি সহ-চিঠি পাঠাচ্ছেন লোকসভার বর্তমান অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকেও। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি সাংসদ ছিলাম। আমার এই অবস্থা হলে বোঝাই যাচ্ছে রাজ্যের প্রান্তিক মানুষের কী অবস্থা! পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা থেকে এই প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।’’

এসআইআর-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে তরুণকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তিনি সেখানেও নথি জমা দিয়েছিলেন। তার পরে তাঁর নাম যুক্ত হয় বিবেচনাধীন তালিকায়। সেখানে থেকে বাদের খাতায় পড়ে গেলেন প্রাক্তন সাংসদ। তরুণের ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, প্রাক্তন সাংসদ হওয়ার ফলে তিনি হয়তো ট্রাইবুনাল পর্যন্ত পৌঁছোবেন এবং নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করার জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবেন। কিন্তু গরিব মানুষের এমন অবস্থায় কী পরিস্থিতি হচ্ছে?

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর প্রক্রিয়ার পরে বিবেচনাধীন নাম পরীক্ষা করছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। যা তত্ত্বাবধান করছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। তরুণের নাম যেমন বাদের খাতায়, তেমনই শাসকদল তৃণমূলের অনেক প্রার্থীর নামও বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে। গত বুধবার এ ব্যাপারে দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছে তৃণমূলও। ১১ জন প্রার্থীর নাম বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছে তৃণমূল। তবে শুক্রবার তালিকা প্রকাশের পরে দেখা গিয়েছে শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং বীরভূমের হাসনের তৃণমূল প্রার্থী তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের নাম বিবেচনাধীন থেকে ‘বৈধ’ তালিকায় জায়গা পেয়েছে। তাঁদের দু’জনের নামই বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল। তবে এখনও ঝুলে রয়েছে ন’জনের ভবিষ্যৎ। এর মধ্যেই প্রকাশ্য়ে এল রাজ্যের এক প্রাক্তন সাংসদের নাম বাদ পড়ার ঘটনা।

Manoj Agarwal Election Commission Voter List
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy