বিজেপির সঙ্গে ‘গোপন আঁতাঁত’ রয়েছে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের? ভিডিয়ো ‘ফাঁস’ করে এমনটাই দাবি করছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তৃণমূলের দাবি, বিজেপির কাছ থেকে ১০০০ কোটি টাকা চেয়েছেন হুমায়ুন।ভিডিয়োটিতে তারিখ উল্লেখ রয়েছে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে ভিডিয়োয়। এর আগেও ভোটের আগে দু’টি স্টিং অপারেশন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছিল— ২০১৬ সালের নারদ এবং ২০২৪ সালে সন্দেশখালি। এর পর আরও একটি স্টিং অপারেশন প্রকাশ্যে এল। তৃণমূলের ‘ফাঁস’ করা এই ভিডিয়োর সত্যাসত্য যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। কথোপকথনের কিছু অংশ এখানে তুলে দেওয়া হল।
হুমায়ুন: আজকের দিনে যে বিষয়টা তুলেছি না বাবরি মসজিদে… সেটা হবে কি না হবে, তা পরের বিষয়। আজকের দিনে পুরো ভারতের মুসলিমেরা আমার সঙ্গে আছে।
প্রশ্নকর্তা: স্যর, মুর্শিদাবাদের মুসলিমদের সমর্থন পাচ্ছেন? না কি গোটা রাজ্যের?
হুমায়ুন: পুরো রাজ্যের। পুরো রাজ্যের মুসলিমদের সমর্থন পাচ্ছি। দেখুন না, ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার ছিল। তার পরের দিন ছিল শনিবার। তার ছ’দিন পর জুম্মার দিনে কাউকে ডাকিনি। নিজে থেকেই পুরো রাজ্যের ১ লক্ষ মুসলিম লোক চলে এলেন জুম্মার নমাজ পড়ার জন্য। ওদের ঘরে ঘরে ভাল মার্বেল দেওয়া মসজিদ আছে। সেই মসজিদ ছেড়ে এখানে চলে আসছে। এতটাই আবেগ। রাজ্যের তো আসছেই, পাশের ঝাড়খণ্ড, বিহার, অসম, ত্রিপুরারও কিছু লোক আসছে। ২ লক্ষ…। নমাজ পড়ার জন্য। মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। সেটা ফেব্রুয়ারি-মার্চে হবে শুরু। কিন্তু এতটাই আবেগ, আগের শুক্রবারও এক লক্ষ লোক এসেছিল। আজ আরও দ্বিগুণ হয়ে গেল।
প্রশ্নকর্তা: ধরুন আপনাকে যদি এখানে তৃণমূলকে সরাতে হয়— তবে আপনাকে দু’টি জিনিস করতে হবে। বিজেপির কাছে হিন্দু ভোট।
হুমায়ুন: সেটা তো হয়েই যাবে। আমি যত মুসলিম লোককে আমার জন্য ভোট দেওয়ার আওয়াজ তুলছি, তো অটোমেটিক্যালি আপনার হিন্দু ভোট, আপনার কাছে যাবে। বিজেপির কাছে যাবে।
প্রশ্নকর্তা: কী ভাবে যাবে?
হুমায়ুন: যে হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা করছেন, তাঁরা ভাল ভাবে জানেন ৯০-১০০ শতাংশ মুসলিম সমর্থন মমতার কাছে আছে। ওই মুসলিম ভোট সরে গেলে হিন্দুরা দেখবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ক্ষমতায় আসবেন না। তখন তাঁদের একটাই বিকল্প, যেটা বিজেপি। আমি সোজাসুজি বলছি, আমাকে ভোট দাও। ওখানে মুখ্যমন্ত্রী যে-ই হবেন, নির্ণায়ক ভূমিকা আমার হাতে থাকবে। আগামী দিনে যে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার হোন। হিন্দু হলে হবেন। আমার কোনও টার্গেট নেই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার। কিন্তু যে-ই হবেন, আমার কাছে ২৯৪টির মধ্যে ৮০-৯০টা সিট থাকলে, আগামী দিনে সেই মুখ্যমন্ত্রীকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য এজেন্ডা রাখব।
প্রশ্নকর্তা: মানে বিজেপির থেকে মুখ্যমন্ত্রী হলে আপনি সমর্থন করবেন?
হুমায়ুন: পুরো সাপোর্ট দেব। কোনও অসুবিধা নেই। আমি মমতাকে কোনও ভাবেই আসতে দেব না।
সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘ভয়ঙ্কর বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার বিপুল ভোটে জিতছেন বলে মানুষ নিশ্চিত, বাংলা নিশ্চিত, বিজেপি নিশ্চিত। সে জন্য কত রকম ভাবে ভোটে কারচুপি বিজেপি চালিয়ে যাচ্ছে, তার উদাহরণ এই ভিডিয়ো। বিজেপি ‘বি’ টিম, ‘সি’ টিম তৈরি করছে ভোট ভাগের জন্য। মুসলিমদের ভোট ভাগের জন্য হুমায়ুন কবীরের মতো লোককে ব্যবহার করছে।’’
ফিরহাদ হাকিমের সংযোজন, ‘‘এই ঘটনা লজ্জার। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, ধর্মীয় আবেগ নিয়ে ভোট কেনাবেচা যায়! বিজেপি যখন এসআইআর করেও বাংলাকে আটকাতে পারছে না, তাই এখন পিছনে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় আবেগকে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। একজন নেতা, যিনি পাল্টিবাজ, তাঁকে ধরে এবং হায়দরাবাদের এক নেতাকে ধরে নোংরা খেলা খেলছে। মুসলিম মানুষের ধর্মাবেগ নিয়ে যে খেলা চলছে, তার তীব্র নিন্দা করি।’’ ফিরহাদ বলেন, ‘‘ভিডিয়ো শুনলেন! কী ভাবে মুসলিম ধর্মকে বিক্রি করছে এই কুলাঙ্গার। মসজিদের নামে ভাবাবেগ সওদা করছে। হাজার কোটি টাকা চাইছে, ৩০০ কোটি টাকা আগাম চাইছে। আমরা যাঁরা মুসলিম সমাজের মানুষ, আমরা কি বুদ্ধিহীন, যে আমাদের ধর্মীয় আবেগ বিক্রি করে দেবে, তার পরেও আমরা চুপ করে থাকব? আমার এই প্রশ্ন মুসলিম সমাজের কাছে রইল। এই মানুষটিকে ধিক্কার জানাব।’’
ফিরহাদ যোগ করেন, ‘‘আমাদের আবেগ বিক্রি করার জায়গা? বাবরের নাম দিয়েছে, যাতে ভাবাবেগ বিক্রি করতে পারে! বিজেপির এই ‘সি’ টিম তৈরি করা, এসআইআর করে মালদহ, মুর্শিদাবাদে মুসলিম ভাইদের নাম বাদ দিচ্ছে, তাতেও শান্তি হচ্ছে না। বেইমানদের কিনে নিয়ে ভোটভাগের রাজনীতি করছে। মুসলমান ভাইদের এর জবাব দিতে হবে। এটা পাপ, ধর্মকে বিক্রি করে দেব? আমি ওঁকে চিনি বলেই এখানে বসে সাসপেন্ড করেছিলাম। যাঁরা এখনও ওঁর সঙ্গে রয়েছেন, চিনুন ওঁকে। ছিঃ!’’
ফিরহাদ এর সঙ্গে জুড়ে দেন, ‘‘ছিঃ, হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সারদাকাণ্ডের পরে চলে গিয়েছিল বিজেপি-তে। সেই টাকা দিয়ে এ সব করছো! ছিঃ ওয়াইসি! এই কলঙ্কে নামলেন। আমরা সবাই জানি, বিজেপির ‘বি’ টিম আপনি।’’
এর পর অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘‘বিজেপি ভোটের আগেই হেরে গিয়েছে। বাংলাকে এত ভাবে বঞ্চনা করে, এসআইআর করে লাভ হল না। বিজেপি এখন নেমেছে টাকা দিয়ে ‘বি’ টিম তৈরি করে মানুষের ভোট কিনতে। পক্ষান্তরে আজও বলছি, বিজেপি ৫০ পার হতে পারবে না।’’
অরূপের বক্তব্য, ‘‘বাংলার মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা মাকে বাঁচাতে হবে। বাংলায় কথা বললে মেরে ফেলছে। পৃথিবীতে এক জন সৎ মানুষ থাকলে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওরা ভেবেছিল বিহার, মহারাষ্ট্রে যে ভাবে জিতেছে, এখানেও পারবে। বাংলার মাটি অত সহজ না। তাই এসআইআর নিয়ে আজও মমতা লড়ছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করুক বিজেপি, বাংলার মানুষ ওদের মেনে নেবে না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
২০:২৯
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল টিএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার? -
১৯:১৭
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা -
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত