Advertisement

নবান্ন অভিযান

শুভেন্দুর হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতীক তুলে দিলেন শমীক! সোমবারই নন্দীগ্রাম আসনের মনোনয়ন, সঙ্গে যাবেন দিলীপও

প্রতীক তুলে দেওয়ার সময়ে শমীক জানান, শুভেন্দু নিজেই চেয়েছিলেন ভবানীপুরের প্রার্থী হতে। দলের কাছে সে কথা নিজেই জানান তিনি। তবে দল শুভেন্দুকে নন্দীগ্রাম থেকে সরাতে চায়নি। তাই নন্দীগ্রামে তাঁকে রেখেই ভবানীপুরেরও টিকিট দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩২
রবিবার বিকেলে বিজেপির মুরলীধর সেন লেনের দফতরে শমীক ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী।

রবিবার বিকেলে বিজেপির মুরলীধর সেন লেনের দফতরে শমীক ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী। — নিজস্ব চিত্র।

মনোনয়নের জন্য শুভেন্দু অধিকারীর হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর— দুই বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনয়নের জন্যই রবিবার দলীয় প্রতীক সংগ্রহ করেন তিনি। নন্দীগ্রাম আসনের জন্য সোমবারই মনোনয়নপত্র জমা দেবেন শুভেন্দু। সেখানে তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে থাকবেন দিলীপ ঘোষও।

সল্টলেকের দফতর নয়, বিজেপির মুরলীধর সেন লেনের দফতর থেকে এই প্রতীক তুলে দেওয়া হয় শুভেন্দুর হাতে। সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই প্রতীক তুলে দেওয়া হয় বিধানসভার বিরোধী দলনেতার হাতে। সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীনই রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী প্রতীক সংক্রান্ত নথি বার করে শমীকের হাতে দেন। তার পরে সেই নথিতে সই করে তা শুভেন্দুর হাতে তুলে দেন তিনি। প্রথমে নন্দীগ্রামের। তার পরে ভবানীপুরের।

প্রতীক তুলে দেওয়ার সময়ে শমীক জানান, শুভেন্দু নিজেই চেয়েছিলেন ভবানীপুরের প্রার্থী হতে। দলের কাছে সে কথা নিজেই জানান তিনি। তবে দল শুভেন্দুকে নন্দীগ্রাম থেকে সরাতে চায়নি। তাই নন্দীগ্রামে তাঁকে রেখেই ভবানীপুরেরও টিকিট দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শমীক বলেন, “বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বার বার দলকে বলেছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁর উপরে ভরসা রেখেছে, আস্থা রেখেছে। ঠিক ছিল তিনি সেখান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি সেখান থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং সরাসরি তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন।”

মুরলীধর সেন লেনে রাজ্য বিজেপির দফতরের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে শমীক বলেন, “আজ তিনি (শুভেন্দু) এখানে এসেছেন দলের প্রতীক নিতে। দলের প্রতীক তিনি এই অফিস থেকে নিয়ে যাবেন। আমাদের আত্মা, আমাদের প্রাণ এই অফিস।” প্রতীক সংক্রান্ত নথি গ্রহণের পরে শুভেন্দুও বলেন, “শমীক ভট্টাচার্য আমাকে প্রতীক দিয়ে গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন। নন্দীগ্রামে মার্জিন বাড়িয়ে ভবানীপুরে হারাতে হবে। আমি শৃঙ্খলাপরায়ণ দলীয় কর্মী। বিজেপি পরিবার আমার উপর যে দায়িত্ব এবং বিশ্বাস রেখেছেন, তার মর্যাদা রাখার আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব।”

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করে নন্দীগ্রামের বিধায়ক হন শুভেন্দু। এ বারের ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূলের প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগে থেকেই বিস্তর জল্পনা চলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া পবিত্র করকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যান তিনি। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থিবাছাই ঘিরেও খোঁচা দিয়েছেন শমীক।

বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, “আমরা শুনেছিলাম অনেক রথী-মহারথীরা নাকি গত বারের ক্ষতে প্রলেপ লাগানোর জন্য নন্দীগ্রামের নির্বাচনে লড়াই করতে যাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল বিজেপির থেকে প্রায় এক বছরের সম্পর্ক ছিন্ন এক জন কর্মীকে সেখানে নির্বাচনে দাঁড় করানো হয়েছে। যাই হোক, বাইরের প্লেয়ার নিয়ে খেলবেন।”

মুরলীধর সেন লেনের দফতর থেকে প্রতীক সংগ্রহ করে শুভেন্দু ফের পৌঁছে যান ভবানীপুরে। বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করেছেন তিনি। সোমবার হলদিয়ায় তিনি নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মনোনয়ন জমা দেবেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। থাকবেন প্রাক্তন সাংসদ তথা এ বার খড়্গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ এবং উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী জেপিএস রাঠৌরও। এ ছাড়া মহিষাদল এবং হলদিয়ার বিজেপি প্রার্থীরাও থাকবেন শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা পর্বে। শুভেন্দু জানান, আগামিকাল জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে ৩২টি এফআইআরের কথা উল্লেখ থাকবে। এই সবগুলিই ২০২১ সালের ভোটের গণনার পরে রুজু হয়েছে বলে জানান বিরোধী দলনেতা।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Suvendu Adhikari BJP West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy