নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে রণক্ষেত্র পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন। বিজেপির বাইক র্যালিতে হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জখম হয়েছেন দুই পক্ষের লোকজন। তবে বিজেপির দাবি, তাদের লোকজনকেই মারধর করা হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী অজিত জানা স্বয়ং মার খেয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ১৫ জন কর্মীকে ওড়িশার জলেশ্বরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। এক জনের শারীরিক পরিস্থিতি গুরুতর। তাঁকে ওড়িশার বালেশ্বরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে মোহনপুর থানা ঘেরাও করেন বিজেপির কর্মীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে মোহনপুর ব্লকের আঁতলা এলাকায় বিজেপি প্রার্থী অজিতের বাইক র্যালি ছিল। পদ্মশিবিরের অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় অতর্কিতে তাঁদের উপর হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। হরিপুর থেকে র্যালি শুরু হয়েছিল। মোহনপুরের দিকে যাচ্ছিলেন প্রার্থী অজিত এবং তাঁর সমর্থকেরা। আঁতলা এলাকায় তাঁরা পৌঁছোতেই একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তা আটকে দিয়ে মারধর শুরু করে। বেশ কয়েকটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ। বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের তড়িঘড়ি মোহনপুর ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখান থেকে অনেককে ভিন্রাজ্যে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ওই ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল। দাঁতনের তৃণমূল প্রার্থী মানিক মাইতি বলেন, ‘‘পুরো সাজানো... নাটক করছে বিজেপি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘প্রায় তিন মাস ধরে এলাকায় ঘুরলেন বিজেপি প্রার্থী। তখন কিচ্ছু হল না। আজ শেষ প্রচারের দিনে এলাকায় হঠাৎ গন্ডগোল তৈরি করে ব্যান্ডেজ বেঁধে ভোট পাওয়ার নাটক করছে।’’ তাঁর দাবি, বিজেপির আক্রমণে তৃণমূলেরই ১৫ জনের বেশি লোক আহত হয়েছেন। অন্য দিকে, বিজেপি প্রার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত