রাজ্যের মন্ত্রীদের লালবাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোয় বছর পাঁচেক আগেই নিষেধাজ্ঞা এনেছিল তৃণমূল। কিন্তু লালবাতির প্রতি ‘টান’ এখনও কারও কারও রয়েছে। নির্বাচনী প্রচার করতে গিয়ে তৃণমূলপ্রার্থীকে সেটাই মনে করিয়ে দিলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জামুড়িয়ার তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিংহকে মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ছেলেকে সাবধান করে দিতে। বললেন, প্রার্থীর পুত্র যেন লালবাতি দেওয়া গাড়ি নিয়ে ঘুরে না বেড়ান। অন্য দিকে, ওই তৃণমূলপ্রার্থীর পুত্র প্রেমপালের ‘আমি-ই বিধায়ক’ মন্তব্য ইতিমধ্যে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের অন্দরেই শোরগোল তৈরি করেছে। কটাক্ষ করেছে বিজেপিও।
শনিবার নির্বাচনী প্রচারের তৃতীয় দিনে মমতা রানিগঞ্জে সভা করেছেন। সেখানে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ শোনানোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথাও সর্বসমক্ষে তুলে ধরেন। সভামঞ্চ থেকেই তৃণমূলপ্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক হরেরামকে সাবধান করে দেন তৃণমূলনেত্রী। জামুড়িয়ার তৃণমূল প্রার্থীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘ছেলেকে বলবে, লালবাতি নিয়ে যেন না ঘোরে।”
জামুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক হরেরামের পুত্র প্রেমপাল আসানসোল জেলা তৃণমূলের অন্যতম যুব সম্পাদক। তাঁর গাড়িতে লালবাতি লাগানো নিয়ে আগেও অভিযোগ উঠেছে। আবার শুক্রবার রামনবমী উপলক্ষে জামুড়িয়ার একটি কর্মসূচিতে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ভাইরাল ভিডিয়োয় প্রেমপালকে বলতে শোনা যায়, “মন্ত্রী ওরাই বানায়। আমার মন্ত্রিপদ দরকার নেই। আমি শুরু থেকেই বিধায়ক, বিধায়কই থাকব।” বিজেপির কটাক্ষ, বিধায়কের ছেলে মনে করেন তিনিই বিধায়ক।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, দলনেত্রীর অনুযোগ এবং সাবধানবাণী নিয়ে তৃণমূলপ্রার্থী হরেরামের মন্তব্য, “দিদি কী বলেছেন, তা সবাই তো শুনেছে। জামুড়িয়ার মানুষ দলকে দেখেই ভোট দেবে।” তিনি দাবি করেছেন, লালবাতির বিষয়টি বিরোধীরা অযথা বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। পাল্টা বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘জামুড়িয়া শান্তিপূর্ণ এলাকা। গত দু’দিন ধরে যা চলছিল, সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৩:১৬
ভোটের দু’দিন আগে থেকেই বাইক চালানোয় বিধিনিষেধ জারি করে দিল নির্বাচন কমিশন! কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে ছাড় -
১১:২৫
ভোট মিটলে প্রত্যেক গোর্খার নাম ভোটার তালিকায় জুড়ব! নাম বাদ যাওয়া গোর্খাদের প্রতিশ্রুতি শাহের -
২১:৫২
‘গোপন বৈঠক ডেকেছেন শাহ, ১৫০ ঘণ্টায় গুরুতর কিছু ঘটানো হবে পশ্চিমবঙ্গে’! দাবি এবং আশঙ্কাপ্রকাশ তৃণমূলের -
২১:২৯
নিজের কেন্দ্রে জনসংযোগে জোর মুখ্যমন্ত্রীর, ভবানীপুরে একের পর এক আবাসনে প্রচার সারলেন বিদায়ী বিধায়ক মমতা -
১৯:০৮
‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও ‘যুবসাথী’র প্রত্যেক প্রাপক বিজেপি-ঘোষিত তিনহাজারি ভাতা পাবেন? দলের তরফ থেকে কী জানালেন স্মৃতি