এক ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার গাড়ি থামিয়ে নাকা তল্লাশি। তাতেই ক্ষুব্ধ শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ। শুধু তৃণমূল প্রার্থী বলে বার বার নাকা তল্লাশি? এমন প্রশ্নই করলেন আধিকারিকদের। এল জবাব। তার পর খানিক বাগ্বিতণ্ডায় জড়ালেন তাঁরা। বুধবার হুগলির চাঁপদানির ঘটনা।
তৃণমূল প্রার্থী তন্ময়ের অভিযোগ, সকালে ভোটপ্রচারের জন্য তিনি যখন কলকাতা থেকে শ্রীরামপুরে আসছিলেন, তখন সিঙ্গুর বিধানসভার ঝাঁকারি এলাকায় নাকা তল্লাশি হয়। রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে বুট খুলে তল্লাশি চলে। তার পর ঘণ্টাখানেক পেরিয়েছে। চাঁপদানি বিধানসভা এলাকার চাঁপসরা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় আবার তাঁর গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা। আবার চলে তল্লাশি। কেন বার বার তল্লাশি? আধিকারিকেরা জানান, তাঁরা তাঁদের কাজ করছেন।
কিন্তু তন্ময়ের অভিযোগ, রাস্তায় অন্য যানবাহন থাকা সত্ত্বেও শুধু তাঁর গাড়িতেই তল্লাশি হয়। আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেন। চাঁপদানিতে গাড়ি থেকে নেমে কমিশনের আধিকারিকের কাছে জানতে চান আবার তল্লাশি কেন? ওই আধিকারিক গাড়িচালকের সঙ্গে কথা বলতে বলতে লিখছিলেন। সেই সময় তন্ময় আবার প্রশ্ন করে বলেন, ‘‘ভাল করে কথা বলুন। চমকাচ্ছেন কাকে? আপনাকে তো আটকাইনি। বার বার তল্লাশি করুন। কিন্তু তৃণমূল প্রার্থী বলেই এই তল্লাশি তো?’’ জবাবে ওই আধিকারিক জানান, তিনি কর্তব্য পালন করছেন মাত্র।
পরে তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘‘বিজেপি ভয় পেয়েছে। সেই জন্য কমিশনের সাহায্য নিচ্ছে। গাড়িতে তল্লাশি হোক। তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু শুধু আমার গাড়ি কেন, সেটাই প্রশ্ন।’’
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার জেলার বিভিন্ন জায়গায় নাকা তল্লাশি চালান কমিশনের আধিকারিকেরা। সঙ্গে ছিল পুলিশও। তল্লাশির সময় ছবিও তুলে রাখা হচ্ছে। কিন্তু তন্ময়ের দাবি, এক জন প্রার্থীর গাড়ি বার বার দাঁড় করিয়ে প্রচারে দেরি করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, পাশ দিয়ে অন্য গাড়ি চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে করা হচ্ছে। আমি আমার কাজ করছি। একবার ঘটলে কাকতালীয় বলে। বার বার হলে সেটা তো কাকতালীয় নয়।’’