Advertisement

নবান্ন অভিযান

কমিশনে ‘ভরসা’ নেই! ডোমকলে স্ট্রংরুম পাহারায় নিজেদের উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা বসাল তৃণমূল, বাম, কংগ্রেস

সারা দিন নজরদারি চালাতে স্ট্রংরুমের থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অস্থায়ী তাঁবু তৈরি করা হয়েছে। সেখানে রাখা হয়েছে টিভি মনিটর, হার্ডডিস্ক-সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যাতে সিসিটিভি ফুটেজ সব সময় পর্যবেক্ষণ করা যায়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:১৯
ডোমকলের সেই স্ট্রং রুমের কাছে অস্থায়ী তাঁবুতে বসে চলছে পর্যবেক্ষণ।

ডোমকলের সেই স্ট্রং রুমের কাছে অস্থায়ী তাঁবুতে বসে চলছে পর্যবেক্ষণ। — নিজস্ব চিত্র।

প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই ইভিএম নিয়ে সজাগ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল এবং বিরোধী সিপিএম, কংগ্রেসও। প্রার্থী এবং দলের কর্মীদের একাংশ এ ক্ষেত্রে শুধু নির্বাচন কমিশনের উপরে ভরসা না-রেখে নিজেরাই সক্রিয় হয়েছেন। ডোমকল গার্লস কলেজের স্ট্রংরুমে, যেখানে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের কড়া প্রহরা রয়েছে। কমিশনের নজরদারিতে ‘সন্তুষ্ট’ না-হয়ে এ বার নিজেদের উদ্যোগে স্ট্রংরুমের বাইরে সিসি ক্যামেরা বসাল তৃণমূল, বিরোধী কংগ্রেস এবং সিপিএম।

সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি, ডোমকল ও রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে ডোমকল গার্লস কলেজের স্ট্রং রুমে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে কড়া নিরাপত্তা ও প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রার্থীদের একাংশের মধ্যে সেই নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় থাকায় তাঁরা আলাদা ভাবে নজরদারির ব্যবস্থা করেছেন। তৃণমূল, কংগ্রেস দুই দলের প্রার্থী এবং কর্মীরা শুক্রবার থেকে নিজেদের উদ্যোগে স্ট্রংরুমের চারপাশে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছেন। সেই সঙ্গে পালা করে দলীয় কর্মীদের বসিয়ে রাখা হচ্ছে এলাকায়। সর্বক্ষণ নজরদারি চলছে সেখানে। স্ট্রংরুমের আশপাশে কারা যাতায়াত করছেন, কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা যাচ্ছে কি না, সব কিছুই দেখা হচ্ছে ফুটেজে।

সারা দিন নজরদারি চালাতে স্ট্রংরুমের থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অস্থায়ী তাঁবু তৈরি করা হয়েছে। সেখানে রাখা হয়েছে টিভি মনিটর, হার্ডডিস্ক-সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যাতে সিসিটিভি ফুটেজ সব সময় পর্যবেক্ষণ করা যায়। রানিনগরের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেন বলেন, “আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাই না। তাই সিসি ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি কর্মীদের পালা করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নজরদারির জন্য।” একই সুর শোনা গিয়েছে রানিনগরের কংগ্রেস প্রার্থী জুলফিকার আলির কথাতেও। তাঁর দাবি, তাঁদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে, ডোমকলের সিপিএম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাঁরাও, শনিবার থেকে স্ট্রংরুমের কাছে সিসি ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি কর্মী মোতায়েনের ব্যবস্থা করছেন।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy