দলত্যাগী সাত সাংসদের মধ্যে অন্তত পাঁচ জনকে কথা দিয়েছিলেন, পরের দফায় আবার রাজ্যসভায় পাঠাবেন। শুক্রবার বৈঠকের জন্য নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরীবাল। কিন্তু তাঁর সঙ্গে সেই বৈঠকে বসার আগেই রাঘব চড্ঢার সঙ্গে আম আদমি পার্টি ছেড়ে দেন ছয় সাংসদ। একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এনডিটিভি।
রাঘব যে বিজেপি-তে যাবেন, তা একপ্রকার প্রত্যাশিত ছিল আপ নেতৃত্বের কাছে। তবে বাকি ছয় সাংসদের অসন্তোষ আঁচ করতে পেরে সক্রিয় হয়েছিলেন নেতৃত্ব। এমনটাই বলছে সূত্র। সেই সূত্রই বলছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ছ’জনকে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে ডেকেছিলেন কেজরীবাল। কিন্তু সেই বৈঠক আর হয়নি। শুক্রবারই রাঘব জানিয়ে দেন, তিনি দল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে দল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক। সেই মতো শুক্রবার তিন জন বিজেপি-তে যোগদান করেন। সেই সঙ্গে আপ ছেড়ে বিজেপি-তে যোগদানের কথা ঘোষণা করেন হরভজন সিংহ, রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রম সাহনি এবং স্বাতী মালিওয়াল।
সূত্র বলছে, কেজরী বিক্ষুব্ধদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজ্যসভায় তাঁদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পরের দফায় তাঁদের মনোনীত করা হবে। সেই নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার ডেকেও পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারই তাঁরা বিজেপি-তে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন বলে দাবি দলত্যাগীদের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের। তবে তাঁরা সংঘবদ্ধ ভাবে সেই নিয়ে আলোচনা করেননি। ওই সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন।
আরও পড়ুন:
২০২২ সাল থেকে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন অশোক। রাঘবের সঙ্গে কিছু দিন আগে সংঘাত প্রকট হয় কেজরীর। তার পরে তাঁকে রাজ্যসভার উপদলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেন আপ প্রধান। সেই পদে নিযুক্ত করা হয় অশোককে। তাঁর বাড়িতে গত বছর ধরে ছিলেন কেজরী। শুক্রবারই সেই বাড়ি থেকে তাঁর জন্য দিল্লি সরকারের বরাদ্দ সরকারি বাংলোয় চলে যান কেজরী। তার পরেই অশোক বিজেপি-তে যোগদানের কথা জানান। সূত্রের খবর, আপ নেতৃত্বের কাছে অশোকের এই দলত্যাগ ছিল অপ্রত্যাশিত। যেখানে রাঘবের দলত্যাগ ছিল প্রত্যাশিত। স্বাতীর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসেই। কেজরীর এক ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, সেই কারণে রাঘব, স্বাতী ব্যতীত বাকি পাঁচ সাংসদের সঙ্গে কেজরী আলোচনার চেষ্টা করেন বলে খবর। যদিও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।