নতুন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্যাক্ট’ (অভিবাসন ও শরণার্থী সংক্রান্ত চুক্তি) কার্যকর করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে সবক’টি সদস্যরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইইউ কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস লামার্ট।
দু’বছরের ধারাবাহিক প্রস্তুতির পর নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়েছে জানিয়ে লামার্ট বলেন, ‘‘এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি বড় সাফল্য। নতুন অভিবাসন এবং শরণার্থী বিষয়ক নীতিতে সীমান্ত আরও নিরাপদ করা, সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং অবৈধবাসীদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’’ এর পরেই ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেনের মন্তব্য উদ্ধৃত করে লামার্ট বলেন, ‘‘অভিবাসন একটি যৌথ ইউরোপীয় সমস্যা।’’ পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে নতুন করে ইউরোপে শরণার্থী-সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই আবহে ইইউ-র সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যেই মানবাধিকার আন্দোলনকারীদের একাংশ ইইউ-র নতুন অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এর ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও উরসুলা নতুন অভিবাসন নীতি সংক্রান্ত চুক্তিকে ‘ন্যায্য ও দৃঢ়’ বলে বর্ণনা করে বলেন ‘‘এটি আমাদের সীমান্তকে আরও নিরাপদ করবে, সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সংহতি তৈরি করবে এবং আশ্রয় ও প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত আরও কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।’’ প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র ২০১৫ সালে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ আশ্রয়ের সন্ধানে ইউরোপে এসেছিলেন। যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার নাগরিক। যাঁরা প্রাণ বাঁচাতে পায়ে হেঁটে মহাদেশ জুড়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছিল। তার পর থেকে অভিবাসন নীতি কড়া হওয়ার দাবি উঠতে শুরু করেছিল ইউরোপের অন্দরে। শেষ পর্যন্ত তাতে ঐকমত্য হল ২৭টি সদস্যরাষ্ট্রের।