Advertisement
E-Paper

সাধারণ পাম্প থেকে একলপ্তে পেট্রল, ডিজ়েল কিনতে পারবে না শিল্প এবং বাণিজ্য সংস্থাগুলি! নির্দেশিকা কেন্দ্রের

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো বাল্ক ব্যবহারকারীদের বাজারদর অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু খুচরা পাম্পে পেট্রল-ডিজেলের মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। তাই কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সাধারণ পাম্পের দিকে ঝুঁকেছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৯:২৭

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

শিল্প-বাণিজ্য সংস্থাগুলির সরাসরি পেট্রল পাম্প থেকে পেট্রল ও ডিজেল কেনার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। পরিবর্তে তাদের পাইকারি (বাল্ক) বিক্রয় কেন্দ্র থেকে পেট্রল-ডিজেল সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে এই বিধিনিষেধ, যা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বিশেষ করে ডিজেলের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি। একলপ্তে যারা বেশি পরিমাণ ডিজ়েল কেনে (বাল্ক), তাদের ক্ষেত্রে তেলের দাম খুচরো গ্রাহকদের তুলনায় বেশ খানিকটা চড়া। তাই ওই বাল্ক ডিজ়েলের ক্রেতারা তুলনায় কম দামে সাধারণ পাম্প থেকে বেশি করে তেল কিনছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাল্ক ব্যবহারকারীরা মূল্য পার্থক্যের কারণে পেট্রল পাম্প থেকে জ্বালানি কিনতে শুরু করায় কিছু অঞ্চলে এই চাহিদা বৃদ্ধি দেখা গেছে। দিল্লিতে পেট্রল পাম্পে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৯৫.২০ টাকা হলেও বাল্ক বিক্রয়কেন্দ্র এর মূল্য ১৩৪.৫০ টাকা।

এই মূল্য পার্থক্যের মূল কারণ হল, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলি ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে পশ্চিম এশিয়া সংকটের ফলে ব্যয় বৃদ্ধির ধাক্কা থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে খুচরা মূল্যে কিছু ছাড় দিয়েছিল। টেলিকম টাওয়ার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বা অন্যান্য কাঁচামাল-সংক্রান্ত প্রয়োজনে ডিজেল ব্যবহারকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো বাল্ক ব্যবহারকারীদের বাজারদর অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু খুচরা পাম্পে পেট্রল-ডিজেলের মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।

এই পরিস্থিতিতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ১১ জুন ২০২৬ তারিখে ‘মোটর স্পিরিট অ্যান্ড হাই স্পিড ডিজেল (টেম্পোরারি রেগুলেশন অফ সাপ্লাই থ্রু রিটেল আউটলেট) অর্ডার ২০২৬’ জারি করে জানিয়েছে, ‘‘বিশ্বের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহ শৃঙ্খল, তেলবাহী জাহাজ চলাচল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। যার ফলে এই পদক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়েছে।’’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা গেছে যে দেশের কিছু অংশে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে মোটর স্পিরিট (পেট্রল) এবং হাইস্পিড ডিজেলের বিক্রি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেছে, কারণ শিল্প, বাণিজ্যিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক উপভোক্তারা খুচরা ও বাল্ক বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যের কারণে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র (পেট্রল পাম্প)-মুখী হয়েছেন।” নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক উপভোক্তাদের পেট্রল পাম্পের পরিবর্তে বাল্ক বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ডিজেল শুধুমাত্র যানবাহনের জ্বালানি ট্যাঙ্কেই ভরতে হবে। অন্য কোনও পাত্রে ভরা যাবে না। এছাড়া প্রতিদিন প্রতি গ্রাহক বা যানবাহনের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ লিটার পর্যন্ত ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এ ভাবে কেনা ডিজেল পুনরায় বিক্রি করা যাবে না। এর আগে মে মাসের শেষপর্বে কেন্দ্র জানিয়েছিল, দেশের পাম্পে পেট্রল-ডিজ়েলের চাহিদা নিয়ে সমস্যা নেই। গ্রাহকেরা তা সব সময়ে পাবেন। কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সেখান থেকে শিল্পের জন্য বাণিজ্যিক গ্রাহকেরা বেশি করে ডিজ়েল কেনায় সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল কেন্দ্রের তরফে।

সংক্ষেপে
  • উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। এই আবহে তেল এবং গ‍্যাস সরবাহ নিয়ে সর্বত্র সমস্যা দেখা গিয়েছে। সঙ্কট দেখা যাচ্ছে ভারতেও।
  • গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি দু’টি গ্যাস বুক করার মাঝে ন্যূনতম ২৫ দিনের ব্যবধান রাখতে হবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
  • গ্যাসের আকাল হতে পারে এই আতঙ্কে কেওয়াইসি আপডেট করার দীর্ঘ লাইন পড়তে দেখা যাচ্ছে গ্যাসের অফিসগুলির সামনে।
industrial sector Petrol price Diesel Price Petrolium Petrol Diesel
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy