হতে পারে কংগ্রেসের বেশ কিছু নেতা বিজেপিতে গিয়ে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস বা অন্যান্য আঞ্চলিক দলে যে ভাবে ভাঙন ধরেছে, কংগ্রেসকে বিজেপি সেই ভাবে ভাঙতে পারেনি বলে দলের নেতাদের মনে করিয়ে দিলেন রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক, সমস্ত রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকে রাহুল মন্তব্য করেছেন, “এ থেকে স্পষ্ট যে, একমাত্র কংগ্রেসই বিজেপি-আরএসএসের সঙ্গে লড়তে পারে।” কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছেন, তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়কদের ভাঙানো ও কংগ্রেসের মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভার প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল, গণতন্ত্রের উপরে বিজেপির হামলারই দু’টি দিক। রাহুল আজ কংগ্রেসের বৈঠকে একে ‘ভোট চুরি’-র পরে ‘আসন চুরি’ আখ্যা দেন।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী প্রসঙ্গ আসে। তবে তার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের কংগ্রেসে মিশে যাওয়া বা ভবিষ্যতে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের আসন সমঝোতা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তৃণমূলের দল ভাঙাতে বিজেপির ‘প্রচেষ্টা’-কে কংগ্রেস ‘গণতন্ত্রের উপরে হামলা’ ও ‘বৃহত্তর উদ্বেগের কারণ’ হিসেবে দেখছে। এআইসিসি-তে পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত নেতা গুলাম আহমেদ মীর বলেন, “লোকসভা ভোট অনেক দূরে। আসন্ন পুর বা পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের বোঝাপড়া হবে কি না, রাজ্য নেতৃত্ব খতিয়ে দেখবেন। আসল বিষয়— বিজেপি যে ভাবে তৃণমূলের বিধায়ক, সাংসদদের চাপ দিয়ে নিজেদের দিকে টানছে, তা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক। এটা কংগ্রেস, তৃণমূলের বিষয় নয়। গণতন্ত্রের সঙ্কট।” তাঁর মতে, “তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়কেরা বিজেপির দিকে চলে যাচ্ছেন, এমন নয়। সর্বগ্রাসী বিজেপির দুশো আসনে জিতেও খিদে মেটেনি বলে তাঁদের টানছে।”
রাহুল বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের বৈঠকে অভিযোগ তুলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের অর্থনীতিকে শেষ করে দিয়েছেন।” মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি ও আসন চুরি’-র অভিযোগও তোলেন তিনি। কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেন, “এ হল ভোট চুরি, আসন চুরির ডাবল ইঞ্জিন।” কংগ্রেস বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জুনের শেষ থেকে তিন মাস ধরে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার অভিযানে নামবে।
বুধবারই কংগ্রেস নেতৃত্ব জানান, তৃণমূলের কংগ্রেসে মিশে যাওয়া নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে জল্পনা একেবারেই ভিত্তিহীন। তৃণমূলের তরফে এমন কোনও প্রস্তাব আসেনি। কংগ্রেস নেতৃত্বও এ নিয়ে কোনও প্রস্তাব দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, “কোনও মার্জার, ডিমার্জার, সাবমার্জার নিয়ে আলোচনা হয়নি।” তৃণমূল ভবিষ্যতে কংগ্রেসে যোগ দিতে পারে কি না, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “যদি কেউ রাহুল গান্ধীকে নেতা হিসেবে মেনে নেন, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, নির্ভয়ে বিজেপি-আরএসএসের সঙ্গে লড়তে চান, তা হলে তাঁদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা রয়েছে।”
জয়রামের যুক্তি, লোকসভা, রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিজেপি তৃণমূলের দল ভাঙাচ্ছে। কারণ দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন নেই বলে এপ্রিল মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসন পুনর্বিন্যাসের সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে পারেননি। তাঁর অহং ধাক্কা খেয়েছে। তাই তিনি আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে এবং তার পরে এক দেশ, এক ভোট বিল পাশ করাতে তৃণমূলের সাংসদদের ভাঙাতে শুরু করেছেন। জয়রামের দাবি, “তৃণমূল ভাঙিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লোকসভা, রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছনোর চেষ্টা সফল হবে না। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে এনডিএ-র লোকসভায় ৩৬২ জন, রাজ্যসভায় ১৬৩ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। শাহ তা ছুঁতে পারবেন না। সম্ভব বুঝলে মোদী সরকার প্রথমে রাজ্যসভায় বিল আনতে পারে। কিন্তু তাতে লাভ নেই। কারণ লোকসভায় বিল পাশ হবে না।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)