ভেনেজ়ুয়েলার মতোই আমেরিকা এ বার ইরানের তেল এবং গ্যাসের ভান্ডার দখলে নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘ভবিষ্যতে ইরানের প্রধান তেল ও গ্যাস কেন্দ্রগুলির নিয়ন্ত্রণ কব্জা করবে আমেরিকা। যার মধ্যে খার্গ দ্বীপও (হরমুজ় প্রণালী থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, পারস্য উপসাগরে ইরানে প্রধান তৈলকেন্দ্র) রয়েছে। ভেনেজুয়েলায় যে ভাবে করেছে সে ভাবেই।’’
বুধবার রাতের মার্কিন হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার সকালে জর্ডন, বাহরিন এবং কুয়েতের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে তেহরান হামলা চালায়। ইরান সামরিক অভিযান শুরু করতেই তড়িঘড়ি কিছু সময়ের জন্য কুয়েত বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘণ্টা কয়েক পরেই সমাজমাধ্যমে ট্রাম্পের হুঁমকি— ‘‘আমেরিকা আজ রাতে খুব কঠোর ভাবে আঘাত করবে।’’ আমেরিকার ধারাবাহিক হানায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ইতিমধ্যেই মারাত্মক ভাবে দুর্বল হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রেডার, বিমান বিধ্বংসী এবং অন্যান্য সব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি বেশিরভাগ আক্রমণাত্মক সক্ষমতা শেষ হয়ে গিয়েছে।’’ এর পরেই তাঁর ঘোষণা, ‘‘অত্যন্ত দ্রুত কোনও এক সময়ে আমরা খার্গ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল পরিকাঠামো দখল করব এবং তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেব। ঠিক যেমন আমরা ভেনেজ়ুয়েলায় করেছি। যার ফলাফল ভেনেজ়ুয়েলা এবং আমেরিকা দু’দেশের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক হয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
জানুয়ারির গোড়ায় দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজ়ুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করেছিল মার্কিন সেনা। নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল ভেনেজ়ুয়েলার তেলভান্ডারের। এর পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু হয়েছিল মার্কিন সেনার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। হামলা শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প বারবার খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্য করেছেন। ছোট হলেও কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি ইরানের তেল বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র। সে দেশের অপরিশোধিত তেলের অধিকাংশই রফতানি হয় খার্গ থেকে। প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল এই দ্বীপ থেকে রফতানি করা হয়। যার বড় অংশ চিনে যায়। ট্রাম্পের আক্রমণের পরোক্ষ লক্ষ্য তাই বেজিং বলেও মনে করছেন অনেকে। সংঘাতের এই আবহে ইরানের ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পশ্চিম এশিয়ায় ১৮টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে কুয়েত ও বাহরিনের বিমান ঘাঁটি এবং মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) সদর দফতর রয়েছে। ইরানি বাহিনী জর্ডনের আল-আজ়রাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায়ও স্বীকার করেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
২২:১০
‘ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছি’! ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে তৃতীয় হামলার পর বিবৃতি আমেরিকার -
১২:১০
সোভিয়েত পতনে ৬০০ কেজি পরমাণু বোমার ‘মশলা’ নিয়ে চম্পট! ৩২ বছর পর পারস্যে চলবে ‘প্রজেক্ট স্যাফায়ার’? -
২২:৪৫
‘আজকেই আবার ইরানের উপর হামলা হবে’, ট্রাম্প এ বার নতুন করে যুদ্ধের সূচনার কারণও জানিয়ে দিলেন -
পশ্চিম এশিয়ায় জোরদার হামলা ইরানের! ২১ মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান, আবার অশান্ত লেবাননও
-
সেনা নয়, হরমুজ়ে ভেঙে পড়া কপ্টারের পাইলটদের বাঁচাতে এ বার আমেরিকার নয়া ‘অবতার’-এর অভিযান! কী ভাবে উদ্ধার?