Advertisement
E-Paper

সেনা নয়, হরমুজ়ে ভেঙে পড়া অ্যাপাচে কপ্টারের পাইলটদের বাঁচাতে এ বার আমেরিকার নয়া ‘অবতার’-এর অভিযান! কী ভাবে উদ্ধার?

পশ্চিম এশিয়া আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে গত কয়েক দিন ধরে। ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আবার সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। সেই আবহে সোমবার মার্কিন সেনার একটি কপ্টার ভেঙে পড়ে হরমুজ়ে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ০৯:৫৯
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

হরমুজ় প্রণালীর কাছে সোমবার ভেঙে পড়েছিল মার্কিন সেনার অ্যাপাচে হেলিকপ্টার। ভেঙে পড়া সেই কপ্টারের পাইলটদের উদ্ধারে নয়া ‘অবতার’ নামাল আমেরিকা। কোনও রক্ত-মাংসের সেনা নয়, কিংবা কোনও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও নয়, পাইলটদের উদ্ধারে এ বার সামুদ্রিক ড্রোনকে কাজে লাগাল মার্কিন সেনা। যা সম্পূর্ণ ভাবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পরিচালিত। যুদ্ধক্ষেত্রে এই প্রথম এই ধরনের সামুদ্রিক ড্রোনকে উদ্ধারের কাজে লাগাল আমেরিকা। এই ড্রোনের মাধ্যমেই দুই পাইলটকে সুরক্ষিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন বাহিনী।

পশ্চিম এশিয়া আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে গত কয়েক দিন ধরে। ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আবার সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। সেই আবহে সোমবার মার্কিন সেনার একটি কপ্টার ভেঙে পড়ে হরমুজ়ে। তার পর থেকেই জল্পনা জোরালো হতে শুরু করে মার্কিন কপ্টারটিকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। যদিও আমেরিকার এই দাবিকে নস্যাৎ করেছে তারা। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ়। এই প্রণালী ইরানের দখলে। তেমন আবার হরমুজ়ের দু’প্রান্ত অবরুদ্ধ করে রেখেছে আমেরিকা। সামরিক সংঘাতের এই আবহে মার্কিন কপ্টার ভেঙে পড়তেই দুই পাইলটকে উদ্ধারে সময় নষ্ট করেনি মার্কিন নৌবাহিনী।

তাই এ বার আর কোনও উদ্ধারকারী কপ্টার বা সেনা না পাঠিয়ে সামুদ্রিক ড্রোনের মাধ্যমেই দুই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নয়া এই ‘অবতার’ হল ২৪ ফুটের সারোনিক কর্সেয়ার। এটি স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক ভেসেল। এগুলিকে ড্রোনবোটও বলা হয়। এই ভেসেলগুলি সাড়ে ৪০০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে জলের মধ্যে ছুটতে পারে। টেক্সাসেক সারোনিক টেকনোলজিস নামে একটি সংস্থা এই সামুদ্রিক ড্রোনের নির্মাতা।

২০২১ সালে আমেরিকা ‘টাস্কফোর্স ৫৯’ নামে নৌসেনার একটি নতুন শাখা তৈরি করে। এর প্রধান কার্যালয় বাহরিনে। মার্কিন নৌসেনার এই বাহিনী মানববিহীন সামরিক অস্ত্র পরিচালনায় দক্ষ। মার্চের শেষের দিকে পশ্চিম এশিয়ায় নৌসেনার এই শাখাকে মোতায়েন করেছে আমেরিকা। শুধু তা-ই নয়, প্রচুর সামুদ্রিক ড্রোনও মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর হাতে দু’ধরনের সামুদ্রিক ড্রোন রয়েছে। সমুদ্রের উপরে এবং সমুদ্রের গভীরে কোনও অভিযানের জন্য এই ড্রোন ব্যবহার করা হয়। তবে সারোনিক কর্সেয়ার সামুদ্রিক ড্রোনকে উদ্ধারকাজে এই প্রথম ব্যবহার করল মার্কিন সেনা।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
US-Iran Conflict
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy