Advertisement
E-Paper

চেষ্টা ছাড়াই ঝরছে মেদ, চওড়া হচ্ছে হাসি? বিপদ লুকিয়ে সেখানেই, সতর্ক করলেন চিকিৎসকেরা

খাওয়া-দাওয়ায় রাশ না টেনে, শরীরচর্চা না করেও ওজন কমছে? চেষ্টা ছাড়া মেদ ঝরলে, যে কেউ খুশি হতেই পারেন। তবে নেপথ্যে থাকতে পারে বড় কোনও অসুখও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ১১:০১
চেষ্টা ছাড়াই মেদ কমা খুশির কারণ না-ও হতে পারে?

চেষ্টা ছাড়াই মেদ কমা খুশির কারণ না-ও হতে পারে? — প্রতীকী চিত্র।

ওজন ঝরানো যেখানে রীতিমতো কষ্টসাধ্য, সেখানে চেষ্টা ছাড়াই গলছে মেদ? তাতেই কি উল্লসিত! পেট পুরে খেয়েও যদি পেটে-কোমরে মেদ না জমে, তা যেমন খুশির, তেমনই জিমে না গিয়ে, ডায়েট না করেও ওজন কমলে কে না খুশি হয়!

তেমনটাই হয়েছিল পৌলোমীর সঙ্গে। ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্য একটু বেশি ভাল পৌলোমীর। ওজন থাকত বাড়তির দিকেই। বছর ৩৫-এ পৌঁছে যখন চেষ্টা ছাড়াই মেদ ঝরা শুরু হয়েছিল, খুশি হয়েছিলেন। বন্ধুরাও জানতে চেয়েছিলেন রোগা হওয়ার রহস্য। ‘কিছুই করি না, এমনি ওজন কমছে’-সুলভ উত্তরে সকলে ভেবেছিলেন, গোপন ডায়েট, ফাঁস করবেন না বলেই এত কথা। তবে রহস্য ফাঁস হল মাস তিনেক পরে। ধরা পড়ল ডায়াবিটিস।

খাওয়াদাওয়ায় কোনও রাশ না টেনেই ওজন কমছিল রাশির। প্রথম দিকে বিষয়টি উপভোগ্য থাকলেও, হঠাৎ করে অনেকটা ওজন কমে যাওয়ায় সকলেরই প্রশ্ন জাগে। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানা যায়, সমস্যা থাইরয়েডের।

চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলছেন, ‘‘কোনও চেষ্টা ছাড়া আচমকা ওজন কমে যাওয়া সুলক্ষণ না-ও হতে পারে। বরং নেপথ্যে থাকতে পারে জটিল অসুখ। উপসর্গ না থাকলে, রোগ ধরা আরও কঠিন। কারণ, রোগী সচেতনই থাকেন না। তবে আচমকা অনেকটা ওজন কমে যাওয়ার বিষয়টি কিন্তু শুধু উল্লসিত হওয়ার নয়।’’ আর এক চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী জানাচ্ছেন, এই ক্ষেত্রে ওজন কমে সামগ্রিক ভাবে। শুধুমাত্র পেট বা কোমরের মেদ কমছে, তেমনটা কিন্তু হয় না। হঠাৎ করেই ওজন অনেকটা কমে গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

দীর্ঘ দিন শরীরচর্চা না করা বা বসে কাজের পরে কাউকে যদি কাজের প্রয়োজনে দৌড়ঝাঁপ বেশি করতে হয়, সে ক্ষেত্রে কিছুটা মেদ ঝরতে পারে। কিন্তু পরিশ্রম হয় না, শরীরচর্চার বালাই নেই, যথেচ্ছ খেয়েও যদি ওজন কমতে থাকে তবে তা স্বাভাবিক না-ও হতে পারে, ইঙ্গিত করছেন চিকিৎসকেরাই।

শরীরে নানা রকম অসুখ, মানসিক সমস্যা বাসা বাঁধলে বরং এমনটা হতে পারে। কোনও একটি রোগ নয়, একাধিক অসুখে ওজন কমে যেতে পারে।

ক্যানসার: স্বল্প সময়ে অনেকটা ওজন কমে যাওয়া ক্যানসারের কারণেও হতে পারে। সুবর্ণ জানাচ্ছেন, এ অসুখ হানা দিতে পারে নিঃশব্দেই। লক্ষণ যে প্রকাশ পাবেই, তেমন নয়। বাইরে থেকে কোনও মাংসল উপবৃদ্ধিও নজরে পড়তে না-ও পারে। শরীরের ভিতরে হওয়া কিছু ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ ওজন কমে যাওয়া।

ডায়াবিটিস: টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রেও অপ্রত্যাশিত ভাবে ওজন কমতে পারে। ইনসুলিন হরমোন গ্লুকোজকে কাজে লাগিয়ে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। কিন্তু ডায়াবিটিস হলে ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো উৎপাদিত হয় না, হলেও সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে খাবার থেকে প্রাপ্ত গ্লুকোজ রক্তে মিশলেও তা কোষ কাজে লাগাতে পারে না। শক্তির ঘাটতি মেটাতে শরীরে জমা চর্বিকে পেশি ব্যবহার করতে শুরু করে। ফলে, ওজন কমতে শুরু করে।

হাইপারথাইরয়েডিজ়ম: থাইরয়েডের সমস্যাতেও কারও কারও ওজন কমে। হরমোনটি বিপাকহার-সহ একাধিক শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ায় সহায়তা করে। কোনও কারণে থাইরয়েডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে বিপাকক্রিয়া দ্রুত হয়, অতিরিক্ত ক্যালোরি পুড়তে শুরু করে। ফলে, ওজন কমে যায়।

টিউবারকিউলোসিস: সংক্রমণজনিত কারণেও ওজন কমতে পারে। টিবি বা ক্ষয়রোগও নেপথ্যে থাকতে পারে। হতে পারে এইডসও। ফুসফুসে টিবি হলে কাশি হবে, জ্বর আসবে। তবে শরীরের অন্য কোনও স্থানে টিবি হলে উপসর্গ না-ও থাকতে পারে বলে মনে করাচ্ছেন চিকিৎসক সুবর্ণ। মেরুদণ্ড বা শরীরের অন্যান্য অংশের টিবিতে অনেক সময়েই কোনও উপসর্গ প্রকাশ পায় না। ব্যথাহীন ফোলা অংশ যে শুধু ক্যানসার হবে তা নয়, টিবিও হতে পারে। চিকিৎসকেরা রোগীকে পরীক্ষা করে তা বুঝতে পারেন।

মানসিক চাপ: কেউ যদি ক্রমাগত অবসাদ এবং উদ্বেগে ভোগেন, মানসিক চাপে থাকেন, তা হলেও ওজন কমতে পারে। কারণ, এই ধরনের সমস্যায় অনেকেরই খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। ফলে শরীরেও তার প্রভাব পড়ে।

পেটের সমস্যা: খাওয়া-দাওয়া ঠিক থাকা সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়ার নেপথ্যে পুষ্টি শোষণের সমস্যা থাকতে পারে। চিকিৎসক অরিন্দমের কথায়, খাচ্ছেন কিন্তু হজম হচ্ছে না, মলের সঙ্গে পুষ্টিগুণ বেরিয়ে যাচ্ছে। এমন ক্ষেত্রেও পুষ্টির অভাব হতে পারে। ওজন কমে।

ক্রনিক কিডনির অসুখ: কারও যদি দীর্ঘ দিন ধরে কিডনির সমস্যা থাকে। চিকিৎসা না হয়, ওজন কমতে পারে তখনও।

নেশা: মদ বা অন্য কোনও নেশা করার অভ্যাস থাকলে একটা সময়ের পরে গিয়ে ওজন কমা স্বাভাবিক।

কতটা ওজন কমলে চিন্তার

ওজন যেমন বেড়ে যায়, তেমন কারও কমতেই পারে। কিন্তু কতটা কমলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন? সুবর্ণ জানাচ্ছেন, বছরে ২ কেজি ওজন কমতেই পারে, কিন্তু কোনও কারণ ছাড়া কারও মাসে ২ কেজি কমে গেলে, ভাবতে হবে। শরীরের মোট ওজনের ৫ শতাংশ এক ধাক্কায় কমে গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি। কেউ শরীরচর্চা বা ডায়েট শুরু করেছেন। সেখানেও যদি দেখা যায়, খুব দ্রুত ওজন কমছে, সচেতন হওয়া প্রয়োজন তখনও। খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমা স্বাস্থ্যকর লক্ষণ নয়।

কোন ধরনের পরীক্ষায় ধরা যাবে অসুখ

ওজন কমার সম্ভাব্য কারণগুলি খতিয়ে দেখবেন চিকিৎসকেরা। অরিন্দম বলছেন, ম্যালিগন্যান্সির ভয় থাকেই। জরায়ু, গলব্লাডার, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে অনেক সময় লক্ষণ দেরিতে প্রকাশ পায়। ফলে, সিবিসি ( কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) কমে যাচ্ছে কি না দেখা দরকার। পেট সিটি স্ক্যান, রক্ত পরীক্ষা-সহ একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার চিহ্নিত করার জন্য। হিমোগ্লোবিন কমে গেলে সতর্ক হতে হবে। তা ছাড়া, পেটের সমস্যার জন্য ওজন কমছে কি না, জানতে হলে মল পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে, পুষ্টির অভাব হচ্ছে কি না, প্যারাসাইট বা ছত্রাক আছে কি না। এন্ডোস্কোপি করার প্রয়োজনও হতে পারে।

Weight Loss Health care
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy