ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করল মার্কিন বাহিনী। পাল্টা জবাব তেহরানেরও। দু’পক্ষের সংঘর্ষে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম এশিয়া। মঙ্গলবার হরমুজ় প্রণালীর কাছে ভেঙে পড়ে মার্কিন সেনার একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরান ওই হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আর তার পরই জবাবি হামলার পথে আমেরিকা। মার্কিন কর্তাদের মতে, হরমুজ় প্রণালীর আশপাশে থাকা ইরানের বেশ কয়েকটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-সহ সামরিক শক্তিতে আঘাত হানা হয়েছে। মার্কিন হামলার ‘কঠোর জবাব দেওয়া’র অঙ্গীকার তেহরানেরও। ইতিমধ্যেই আমেরিকার পঞ্চম নৌবহরে হামলা চালিয়েছে ইরান।
আল জাজ়িরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের জাস্ক এবং বন্দর আব্বাসে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তবে ধারাবাহিক এই হামলার ব্যাপ্তি সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই কোনও পক্ষের কাছেই। ইরানের সংবাদসংস্থা তাসমিন জানিয়েছে, কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সিরিক-সহ দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানও পর পর বিস্ফোরণের শব্দ কেঁপে উঠেছে।
মার্কিন কর্তাদের উদ্ধৃত করে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানে তিন দফা হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে এ-ও জানানো হয়েছে, মার্কিন বাহিনী কোনও অসামরিক এলাকায় হামলা চালায়নি। যদিও ইরানের আর এক সংবাদসংস্থা ফার্স জানিয়েছে, সিরিকের বেমানিতে দু’টি জলের ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের কারণে ফেটে গিয়েছে।
মার্কিন বাহিনী হামলা চালানোর পর কড়া জবাব দিয়েছে ইরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরানের ‘পরীক্ষা’ নেওয়ার চেষ্টা করছে আমেরিকা। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও ধরনের হামলার জবাব দেওয়া থেকে কখনওই বিরত থাকবে না। অর্থাৎ, আরাঘচি বুঝিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব তাঁরা দেবেনই। আমেরিকাকে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘যদি নিরাপদে থাকতে চাও তো আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাও।’’
আরও পড়ুন:
আরাঘচির দাবি যে ‘ভুয়ো’ নয়, তার ‘প্রমাণ’ দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, তারা মার্কিন হামলার জবাবে বাহরিনে আমেরিকার পঞ্চম নৌবহরের উপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সামরিক ‘আগ্রাসন’ চলতে থাকলে আরও কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ করা হবে।
আমেরিকার সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার তাদের অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনার তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই হামলার নেপথ্যে রয়েছে ইরানি ড্রোন। তবে এই হামলা ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে আমেরিকা। তবে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের পরই ইরানের বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। পাল্টা জবাব ইরানেরও।
দিন কয়েক ধরেই আমেরিকা এবং ইরান উভয় পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। সেই আবহেই হরমুজ় প্রণালীতে মার্কিন হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। আর তার পর থেকেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। উল্লেখ্য, হরমুজ় প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরানকে ঠেকাতে অ্যাপাচে হেলিকপ্টার, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, এফএ-১৮ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আসছে মার্কিন বাহিনী।