কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণের জেরে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়াল। সোমবার আফ্রিকার এই দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ইবোলা সংক্রমণে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি ‘অত্যন্ত বেশি’, উগান্ডা ও প্রতিবেশী দেশগুলিতে এই রোগের প্রভাব তুলনায় কম।
৬ জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত হু-র তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোয় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫১৫। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইতুরি প্রদেশ। গত ১৫ মে স্বাস্থ্যকর্মীরা সবার প্রথম এই সংক্রমণ নিয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করলেও স্থানীয় মানুষজন তাতে আমল দেননি বলে অভিযোগ। তার পর থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইতুরি-র বিভিন্ন ব্লকে ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক এই সংক্রমণ। গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর সরকার যে সাম্প্রতিক তথ্য জানিয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ জন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন ১০ জন রোগী। অনেক ক্ষেত্রে আবার মৃতদের সমাহিত করতে গিয়ে স্থানীয় সশস্ত্র দুষ্কৃতী দলের আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের।
এই রোগ মোকাবিলায় হু-র সঙ্গে যৌথ ভাবে পদক্ষেপ শুরু করেছে কঙ্গো সরকার। শুক্রবার ‘আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ ও হু যৌথ ভাবে ইবোলা মোকাবিলার একটি পরিকল্পনা নেয়। এই পরিকল্পনার আওতায় আফ্রিকান দেশগুলিকে প্রাদুর্ভাবের প্রস্তুতি গ্রহণ, শনাক্তকরণ ও মোকাবিলায় সহায়তার লক্ষ্যে তারা ৫১.৮ কোটি আমেরিকান ডলার তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
কেনিয়াতেও ইবোলার সংক্রমণ বাড়ছে। আদালতের নিষেধ সত্ত্বেও আমেরিকান সরকার সেখানে ইবোলা-সংক্রমিত আমেরিকার নাগরিকদের জন্য নিভৃতবাস কেন্দ্র নির্মাণ করে। প্রতিবাদে কেনিয়ার নানিয়ুকি শহরে বিক্ষোভ দেখান নাগরিকেরা। দাবি, কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা-সংক্রমিতদের সংস্পর্শে আসা আমেরিকানদের চিকিৎসার ভার কেনিয়ার উপরে চাপাচ্ছে আমেরিকা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)