Advertisement
E-Paper

‘অগ্নিবেগ’ হাতে পেল ভারতীয় সেনা, রাশিয়ার বন্ধুদেশের সহায়তায় তৈরি আত্মঘাতী ড্রোনের নাগালে ইসলামাবাদ

গত বছর অপারেশন সিঁদুরের পরে রাজস্থানের পোখরানে পরীক্ষার ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই ড্রোনটি নির্বাচন করেছিল। এর পরে যৌথ উদ্যোগে ভারতেই নির্মাণ করা হয় আত্মঘাতী ড্রোন ‘অগ্নিবেগ’।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১১:০০
জেট ইঞ্জিন চালিত কামিকাজ়ে ড্রোন।

জেট ইঞ্জিন চালিত কামিকাজ়ে ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত।

দেশে তৈরি মাঝারিপাল্লার ‘কামিকাজ়ে’ (আত্মঘাতী) ড্রোন এ বার চলে এল ভারতীয় সেনার হাতে। নাম ‘অগ্নিবেগ’। প্রাথমিক ভাবে ১০৬টি হামলাকারী ড্রোন বৃহস্পতিবার সেনাকে সরবরাহ করেছে দিল্লির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী সংস্থা এসএমপিপি।

সামরিক পরিভাষায় এ জাতীয় মাঝারিপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোনকে ‘পিসকিপার’ বলা হয়। ‘অগ্নিবেগে’র নকশা নির্মাণ এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এসএমপিপি-কে সহযোগিতা করেছে রাশিয়ার অন্যতম সামরিক সহযোগী বেলারুশ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এই ড্রোনগুলির অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় সেনাকে স্বল্পপাল্লার আর্টিলারি (হাউইৎজ়ার গোত্রের কামান) এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত সক্ষমতার মধ্যেকার ব্যবধান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিস্ফোরক বহনক্ষমতা বেশি হওয়ায় ‘অগ্নিবেগ’ শত্রুর কমান্ড সেন্টার, রেডার স্টেশন, রসদ ও গোলাবারুদ সরবরাহের লজিস্টিক হাব ইত্যাদি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারবে সহজেই।

ঘণ্টায় ৪৫০ কিমি গতিবেগে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, জেট ইঞ্জিন চালিত এই ‘কামিকাজ়ে’ ড্রোনের পাল্লা ১৮০ কিমি। অর্থাৎ, অনায়াসেই ভারতীয় ড্রোনের আওতায় এসে যাবে ইসলামাবাদ। গত বছর অপারেশন সিঁদুরের পরে রাজস্থানের পোখরানে পরীক্ষার ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই ড্রোনটি নির্বাচন করেছিল। এর পরে বেলারুশের ড্রোন নির্মাতা সংস্থা কেবি ইন্ডেলা ভারতেই এসএমপিপি-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রথম দফায় ১০৬টি ড্রোন নির্মাণ করে। এ সংক্রান্ত প্রযুক্তি হস্তান্তর (ট্রান্সফার অফ টেকনোলজি)-এর কাজও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই।

১০৬টি ড্রোনের মধ্যে ১০০টি যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য। বাকি ছ’টি প্রশিক্ষণের জন্য। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই আত্মঘাতী ড্রোনের ‘সার্কুলার এরর প্রোবাবল্‌’ (বৃত্তাকার সম্ভাব্য ত্রুটি) ৫ মিটারেরও কম। যার অর্থ হল, কোনও লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য যদি একই লক্ষ্যবস্তুতে ১০০টি ‘অগ্নিবেগ’ পাঠানো হয় তার মধ্যে অন্তত ৫০টি ড্রোন লক্ষ্যবিন্দুর ৫ মিটারের মধ্যে গিয়ে আঘাত হানবে। কেবি ইন্ডেলার সহায়তায় ‘অগ্নিবেগে’র নতুন সংস্করণ তৈরির কাজ শুরুর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। সেটি ঘণ্টায় ৭৫০ কিমি গতিতে উড়তে সক্ষম। পাল্লাও কিছুটা বেশি। প্রসঙ্গত, ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে রণাঙ্গনের ‘রিয়্যাল টাইম ডেটা’ পাওয়া সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে ড্রোনের জুড়ি মেলা ভার। শত্রুর অবস্থান থেকে শুরু করে হাতিয়ার বা জ্বালানির ডিপোর যাবতীয় তথ্য কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে থাকে এই ধরনের দূরপাল্লার মানববিহীন যান। ফলে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে নিয়ে কৌশল পাল্টে হামলা চালানোর সুযোগ পাবেন এ দেশের সেনা কমান্ডারেরা, যা সংঘাত পরিস্থিতিতে নিমেষে পরিস্থিতির বদল ঘটাতে পারে।

Kamikaze Drones Drone Kamikaze Drone Indian Army Drone Attack Operation Sindoor Defence Indian Defence System
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy