বর্ধমান পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর নাড়ুগোপাল ভকতকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বিজেপি নেতার বাড়িতে হামলায় নাম জড়িয়েছিল নাড়ুগোপালের। তার পর নির্বাচনী সভা থেকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রবিবার গভীর রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। সোমবার ধৃতকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে।
গত ২৪ মার্চ বর্ধমানে পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বালামহাট এলাকায় বিজেপি নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় তৃণমূল কাউন্সিলরের ‘দাদাগিরি’ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বালামহাটের বাসিন্দা বিজেপি নেতা মহাদেব মাল বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের সঙ্গে এলাকায় প্রচারে অংশ নেন। পরে নিজের বাড়িতে বিজেপি কর্মীদের জন্য খাবারের বন্দোবস্ত করেছিলেন। অভিযোগ, তার জেরে গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
মহাদেব জানান, তৃণমূল সমর্থিত দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হঠাৎ সেখানে উপস্থিত ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। পুলিশকর্মীর সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে । কাউন্সিলর ‘হুশিয়ারি’ দেন, তাঁর অনুমতি নিয়ে ওই এলাকায় পুলিশকে প্রবেশ করতে হবে।
আরও পড়ুন:
ওই মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের মধ্যে প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে গত রবিবার বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক খোকন দাসের সমর্থনে নির্বাচনী সভায় আবার ওই কাউন্সিলরের মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়। তিনি বলেছিলেন, ‘‘বর্ধমান শহরের সমস্ত ক্লাব আমার টাকায় চলে। অনেকেই এখন বেচাল করছে। ৪ তারিখের পর এর হিসাব হবে।’’
গভীর রাতে পুলিশ নাড়ুগোপালকে আটক করে প্রথমে তাঁকে আলমগঞ্জ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সোমবার সকালে পুলিশ ফাঁড়িতে যান তৃণমূল প্রার্থী খোকন। নাড়ুগোপাল তাঁর অনুগামী বলে এলাকায় পরিচিত। ব্যবসায়ী তথা কাউন্সিলরের গ্রেফতারি নিয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, ‘‘তৃণমূলকে বেকায়দায় ফেলতেই এ সব করা হচ্ছে। তবে এতে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়কে আটকানো যাবে না।’’ পাল্টা বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের মন্তব্য, ‘‘এই ঘটনায় আইনের প্রতি আস্থা বেড়ে গেল।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৫:০০
রাজ্যের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের চাকরির মেয়াদ ছ’মাস বাড়িয়ে দিল শাহের মন্ত্রক! দ্বিতীয় দফার ভোটের আগেই চিঠি এল নবান্নে -
১৪:৫০
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ৩৬ ঘণ্টায় ১৫৪৩ ‘ঝামেলাবাজ’কে গ্রেফতার করাল কমিশন, তালিকায় তৃণমূল কাউন্সিলরও -
১৪:০৪
৪৮ ঘণ্টা দল বেঁধে বাইকযাত্রা বন্ধ! তবে হাওয়া খেতে যেতে বাধা নেই, কমিশনের মামলায় বলল হাই কোর্ট, কী কী নির্দেশ -
১২:০৫
রাতের অশান্তির পর সকালেও থমথমে জগদ্দল, সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার তৃণমূলের কাউন্সিলর-সহ মোট চার জন -
১২:০১
‘৪ মে-র পরে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এই রাজ্যে আমাকে আসতেই হচ্ছে’! বললেন মোদী