এক মাসেরও কম বাকি রয়েছে প্রথম এবং দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের। তার আগে বিধানসভাভিত্তিক ভোটের কমিটি গড়ে দিল তৃণমূল। পোশাকি ভাষায় এই কমিটিগুলির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইলেকশন কমিটি’। শনিবার একাধিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে শাসকদলের তরফে। যেখানে জেলাভিত্তিক বিধানসভাগুলির ইলেকশন কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর জেলার পাঁচটি বিধানসভা এলাকা। এই কমিটিগুলিতে প্রার্থীর সঙ্গে চেয়ারম্যান, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সহ-আহ্বায়কের পদ দেওয়া হয়েছে এলাকার নেতাদের। এই ধরনের তালিকা প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে, বিভিন্ন জেলায় থাকা বিধানসভায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকলহ সামাল দিতেই কি এমন উদ্যোগ? যদিও গোষ্ঠীকলহ রুখতে এমন পদক্ষেপ, তা মানতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। এর আগেও বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট কমিটি ঘোষণা করেছে তৃণমূল।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর জেলা বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরের ইলেকশন কমিটির গঠনে বিশেষ নজর দিয়েছেন তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্ব। পাঁশকুড়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ঘোষিত কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে ৪৫ জন নেতাকে। ওই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তাই নির্বাচন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাঁকে চিফ অ্যাডভাইজ়ার করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন অসীম মাজি। ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটিতে রয়েছেন ৩৫ জন নেতা। নন্দকুমার বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটিতে ৩৬, মহিষাদল বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটিতে ৫৬, হলদিয়া বিধানসভার কমিটিতে ৫৯ জন নেতাকে রাখা হয়েছে।
পুরুলিয়া জেলার বান্দোয়ান বিধানসভা এলাকার কমিটি গঠন করা হয়েছে ১৮ জন নেতাকে নিয়ে। একই ভাবে বলরামপুরের কমিটিতে ৩৭, জয়পুর বিধানসভা কমিটিতে ৩৫, আড়ষা ব্লকের বিভিন্ন অংশ রয়েছে বলরামপুর, বাঘমুন্ডি, জয়পুর— এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। ৩০ জনকে নিয়ে পৃথক আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মানবাজার বিধানসভা এলাকার ৪৩, কাশীপুর বিধানসভার কমিটিতে ২৪, পারা বিধানসভার কমিটিতে ৩৪, রঘুনাথপুর বিধানসভার কমিটিতে ১২৬ জনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাওড়া জেলার শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে এ বার প্রার্থিবদল করেছে তৃণমূল। বিদায়ী বিধায়ক তথা ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিকে সরিয়ে বালির বিধায়ক চিকিৎসক রানা চট্টোপাধ্যায়কে শিবপুর কেন্দ্রের প্রার্থী করেছে শাসকদল। এ ক্ষেত্রে কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রার্থীকে দিয়ে মোট ২৮ জনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
একই ভাবে মালদা জেলার হবিবপুরে ইলেকশন কমিটি গঠন করা হয়েছে ১৮ জন নেতাকে নিয়ে। গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটিতে রয়েছেন ১৬ জন নেতা। হরিশ্চন্দ্রপুরে মন্ত্রী তজমুল হোসেনকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। বদলে ওই বিধানসভায় প্রার্থী হয়েছেন মতিবুর রহমান। ওই কেন্দ্রে ৯ জন নেতাকে নিয়ে কমিটি গঠন করে বিদায়ী মন্ত্রীকে কমিটির অ্যাডভাইজ়ার করা হয়েছে। রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটি গঠন করা হয়েছে ২৪ জন নেতাকে নিয়ে। মানিকচকের কমিটিতে রয়েছেন ২৯, মালদহ সদর বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটিতে ২৯, ইংরেজবাজারের কমিটিতে ৩১, মোথাবাড়িতে ২৭ এবং সুজাপুরের কমিটিতে ১৫ জন নেতাকে জায়গা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাড়োয়া বিধানসভার কমিটিতে রাখা হয়েছে ১৪ জনকে। এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিদায়ী বিধায়ক শেখ রবিউল ইসলামের বদলে প্রার্থী করা হয়েছে মুফতি আব্দুল মতিনকে। মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটিতে ১৬, সন্দেশখালির কমিটিতে ১৪, বসিরহাট দক্ষিণের কমিটিতে ৭৪ জনকে রাখা হয়েছে। এই কেন্দ্রেও বিদায়ী বিধায়ক চিকিৎসক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়কে টিকিট দেওয়া হয়নি। তাঁকে সেই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন সুরজিৎ মিত্র। বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রের কমিটিতে ২৬ জন, হিঙ্গলগঞ্জের কমিটিতে ৪০ জন নেতাকে রাখা হয়েছে। তৃণমূলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে হাড়োয়া ও মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট পরিচালনার যাবতীয় কাজকর্ম দেখবেন এলাকার নেতা আব্দুল খালেক মোল্লা। একই ভাবে বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক রফিকুল ইসলাম মণ্ডলকে বসিরহাট উত্তর ও বাদুড়িয়া কেন্দ্রের নির্বাচনের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বসিরহাট দক্ষিণের প্রার্থী সুরজিৎ মিত্রকে নিজের কেন্দ্রের পাশাপাশি সন্দেশখালি ও হিঙ্গলগঞ্জের ইলেকশন কমিটির যাবতীয় কাজকর্ম দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
এত বেশি সংখ্যায় নেতা নিয়ে কমিটি গঠনের অবশ্য ভিন্ন কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তৃণমূল রাজ্য স্তরের এক শীর্ষনেতা। গোষ্ঠীকলহের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে আড়াইশো থেকে ৩০০ বুথ রয়েছে। প্রত্যেকটি বুথেই আমাদের ১৫ জন করে বুথ স্তরের কমিটির সহকর্মী রয়েছেন। অর্থাৎ ৩০০ বুথ যদি ধরে নেওয়া যায়, তা হলে প্রায় এক একটি বিধানসভায় সাড়ে চার হাজার করে কর্মী ভোটপ্রক্রিয়া পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়াও আমাদের অঞ্চল কমিটি, ব্লক কমিটি ও জেলা কমিটি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করার জন্য বিধানসভার সব অঞ্চল এবং এলাকা থেকেই নেতা-কর্মীদের নিতে হয়। তাই সার্বিক ভাবে সমগ্র বিধানসভায় ভোটপ্রক্রিয়া মসৃণ ভাবে পরিচালনা করতেই এই কমিটিগুলি গঠন করা হয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত