এ বারের নির্বাচনে যে কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে রাজ্যবাসীর নজর রয়েছে, তার অন্যতম পানিহাটি বিধানসভা। কারণ এই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে লড়াই করছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা। তাঁর বিপরীতে তৃণমূলের প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ। মূলত এই দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হলেও ময়দানে রয়েছেন সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত। রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী শুভাশিস ভট্টাচার্য। এ বার এই বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলল তৃণমূল। ওই সেক্টর অফিসারের বিরুদ্ধে গুরুতর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থও হল শাসকদল। তৃণমূলের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জানানো হয়েছে, পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের সেক্টর অফিসার অতনু চক্রবর্তী নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে একটি রাজনৈতিক দলের প্রচারের সামগ্রী নির্মাণের কাজে যুক্ত ছিলেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’ হ্যান্ডলে একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে কয়েক জন ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পতাকা ও অন্যান্য প্রচার সামগ্রী তৈরি করতে দেখা যায়। সেই ভিডিও (যার সত্যতা আনন্দবাজার ডট কম যাচাই করে দেখেনি) খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত হিসাবে অতনুর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অধীনে দায়িত্ব পালন করার সময় এ ধরনের কার্যকলাপ শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয় বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।
তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, একজন সেক্টর অফিসারের কাজ অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভোটগ্রহণের আগে বিভিন্ন এলাকায় স্পর্শকাতর বুথ বা ভোটার চিহ্নিত করা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় দেখা— এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর উপর বর্তায়। সেই প্রেক্ষিতে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করা নির্বাচনী আচরণবিধি, ‘রিপ্রেজ়েন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট’ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি করতে পারে। ফলে ভোট প্রক্রিয়ার উপর আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাই দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করা হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে আসন্ন নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত