প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেনের সাসপেনশন প্রত্যাহার করল তৃণমূল। আরজি কর-কাণ্ডের আবহে তাঁকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছিল। দলের তরফে তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার জানান, এখন থেকে দলের হয়ে সব রকম কাজ করতে পারবেন তিনি। যদিও নিলম্বিত হওয়ার পরেও চুপ করে বসে থাকেননি তিনি। সাসপেন্ড হওয়ার পরে দলবিরোধী কথাও বলেননি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাসপেন্ড করা হয় শান্তনুকে। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর-কাণ্ডের সময় কিছু মন্তব্যের কারণে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তাঁর। সেই কথাবার্তার কারণেই কি তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল? শান্তনু নিজে যদিও জানিয়েছিলেন, সেটা তিনি মনে করেন না। কারণ, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তিনি অনেক আগে মুখ খুলেছিলেন। তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদের কথায়, ‘‘সন্দীপ ঘোষের হাত ধরে আরজি করের অব্যবস্থার কথা নিয়ে আমি আগেও বলেছি। আমি আরজি কর আন্দোলনে মদত দিইনি। এমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি মদত দিতে পারে না। কিন্তু ঠিক কথা হয়তো ঠিক জায়গায় পৌঁছোয়নি। আমি আন্দোলনের সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলিনি।’’
সাসপেন্ড হওয়ার পরেও দলের বিরুদ্ধে তিনি কোনও কথা বলেননি। সব সময় বলেছেন, এটা দলের সিদ্ধান্ত। দল যা ভাল বুঝেছে, করেছে। তবে চুপ করে কী বসেছিলেন? না, তা-ও তিনি করেননি। কী করেছেন? ২০২৫ সালের গোড়ায় নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে ‘সেবাশ্রয়’ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে সাতটি বিধানসভায় শিবিরে চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা, সেই চিকিৎসকদের সঙ্গে নেতৃত্বের সেতুবন্ধন করানোর কারিগর ছিলেন শান্তনু। ২০২৫ সালে ডিসেম্বরে আবার নিজের লোকসভা কেন্দ্রে ‘সেবাশ্রয়’-এর আয়োজন করেন অভিষেক। সেখানেও শান্তনুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
আরও পড়ুন:
গত বছরে শান্তনুর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছিল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। দু’বছরের জন্য তাঁর ডাক্তারি লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন না করিয়েই ‘এফআরসিপি গ্লাসগো’ নামে একটি বিদেশি ‘ডিগ্রি’ ব্যবহার করতেন শান্তনু। পরে হাই কোর্ট রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। মাঝের এই সময়ে শান্তনু তৃণমূলের হয়ে দেওয়াল লিখন করতে দেখা গিয়েছে। সেই ছবি তিনি নিজেই পোস্ট করেন সমাজমাধ্যমে।
এ বার রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে শান্তনুর সাসপেনশন তোলা হল। যখন সাসপেনশন তোলা হল, তখন তৃণমূলের অভ্যন্তরে চিকিৎসক সেলের রাজনীতিতে অনেকে তাঁকে দেখতে চান। আরজি কর পর্বে যে সকল চিকিৎসক জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুদীপ্ত রায়। শ্রীরামপুরের বিধায়ক সুদীপ্তের সঙ্গে শান্তনুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ‘মধুর’। এ বার সুদীপ্তকে বিধানসভা ভোটে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। নির্মল মাজিকে হাওড়া গ্রামীণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো হয়েছে হুগলি গোঘাটে। গত বার ভোটে ওই আসনে জিতেছিল বিজেপি। অর্থাৎ কঠিন আসনে পাঠানো হয়েছে নির্মলকে। এই পরিস্থিতিতে শান্তনুর সাসপেনশন তুলে দলের মূলস্রোতে ফেরানো হল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত