Advertisement
E-Paper

নন্দীগ্রামের ‘শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ’ বিডিও-কে ভবানীপুরে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব! সরানোর দাবি তৃণমূলের, কমিশনকে চিঠি

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার হিসাবে সুরজিৎ রায়ের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল চিঠি পাঠিয়েছে দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে। সঙ্গে ওই চিঠির প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত নির্বাচন কমিশনের সিইও-কেও।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৩
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভোটের মহাযুদ্ধ ভবানীপুরে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মহারণের কারণে গোটা রাজ্যের নজর এই বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে। সেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। মঙ্গলবার রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নন্দীগ্রামের বিডিও সুরজিৎ রায়ের নিয়োগ নিয়ে সরব হয় তৃণমূল। তৃণমূলনেত্রী মমতা স্বয়ং এ নিয়ে কমিশনকে নিশানা করেন। তার পরেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি চিঠি পাঠানো হয়েছে দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে। সঙ্গে ওই চিঠির প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত নির্বাচন কমিশনের সিইও মনোজ আগরওয়ালকেও। তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য তথা রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েনের দাবি, এই নিয়োগ ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

মমতা মঙ্গলবার কেরলে কমিশনের চিঠিতে বিজেপির প্রতীক নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসার বদল নিয়েও তোপ দাগেন। তিনি বলেন, ‘‘কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির ভোটের প্রতীক! ইসি তাহলে কার ইশারায় চলছে? নন্দীগ্রামের বিডিও চলে আসছেন ভবানীপুরে। ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসার বদল হয়েছেন। ব্যাকডোর থেকে খেলছেন কেন?’’

কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবানীপুর কেন্দ্র রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই পরিস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সুরজিতের অতীত ভূমিকা ও তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুরজিৎ পূর্বে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাঁর কাজকর্ম ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বলে দাবি তৃণমূলের। বিশেষ করে বিজেপি নেতা তথা ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তোলা হয়েছে। শুভেন্দু এ বার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ায় এই নিয়োগ আরও বিতর্ক তৈরি করেছে বলে দাবি শাসকদলের।

তৃণমূলের অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে সুরজিতের মতো আধিকারিককে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে রাখলে ভোট প্রক্রিয়ার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল দাবি জানিয়েছে, অবিলম্বে তাঁকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কোনও আধিকারিককে নিয়োগ করা হোক। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারের পদটি নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটগ্রহণ থেকে ফলঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই পদে থাকা ব্যক্তির নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। অন্যথায় তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

এ ছাড়াও তৃণমূল অভিযোগ করেছে, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের পদে যুগ্মসচিব স্তরের আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। চিঠির শেষে নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে।

প্রথম, সুরজিৎকে অবিলম্বে রিটার্নিং অফিসারের পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। দ্বিতীয়, ভবানীপুর কেন্দ্রের জন্য নতুন করে নিরপেক্ষ আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে। তৃতীয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। ভোটের আগে এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে, বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। এখন দেখার, কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে এবং তা ভবানীপুরের ভোটে কী প্রভাব ফেলে।

Mamata Banerjee Bhawanipur Suvendu Adhikari Nandigram
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy