ভোটের মহাযুদ্ধ ভবানীপুরে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মহারণের কারণে গোটা রাজ্যের নজর এই বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে। সেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। মঙ্গলবার রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নন্দীগ্রামের বিডিও সুরজিৎ রায়ের নিয়োগ নিয়ে সরব হয় তৃণমূল। তৃণমূলনেত্রী মমতা স্বয়ং এ নিয়ে কমিশনকে নিশানা করেন। তার পরেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি চিঠি পাঠানো হয়েছে দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে। সঙ্গে ওই চিঠির প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত নির্বাচন কমিশনের সিইও মনোজ আগরওয়ালকেও। তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য তথা রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েনের দাবি, এই নিয়োগ ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
মমতা মঙ্গলবার কেরলে কমিশনের চিঠিতে বিজেপির প্রতীক নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসার বদল নিয়েও তোপ দাগেন। তিনি বলেন, ‘‘কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির ভোটের প্রতীক! ইসি তাহলে কার ইশারায় চলছে? নন্দীগ্রামের বিডিও চলে আসছেন ভবানীপুরে। ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসার বদল হয়েছেন। ব্যাকডোর থেকে খেলছেন কেন?’’
আরও পড়ুন:
কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবানীপুর কেন্দ্র রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই পরিস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সুরজিতের অতীত ভূমিকা ও তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুরজিৎ পূর্বে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাঁর কাজকর্ম ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বলে দাবি তৃণমূলের। বিশেষ করে বিজেপি নেতা তথা ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তোলা হয়েছে। শুভেন্দু এ বার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ায় এই নিয়োগ আরও বিতর্ক তৈরি করেছে বলে দাবি শাসকদলের।
তৃণমূলের অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে সুরজিতের মতো আধিকারিককে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে রাখলে ভোট প্রক্রিয়ার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল দাবি জানিয়েছে, অবিলম্বে তাঁকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কোনও আধিকারিককে নিয়োগ করা হোক। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারের পদটি নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটগ্রহণ থেকে ফলঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই পদে থাকা ব্যক্তির নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। অন্যথায় তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
এ ছাড়াও তৃণমূল অভিযোগ করেছে, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের পদে যুগ্মসচিব স্তরের আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। চিঠির শেষে নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে।
প্রথম, সুরজিৎকে অবিলম্বে রিটার্নিং অফিসারের পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। দ্বিতীয়, ভবানীপুর কেন্দ্রের জন্য নতুন করে নিরপেক্ষ আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে। তৃতীয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। ভোটের আগে এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে, বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। এখন দেখার, কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে এবং তা ভবানীপুরের ভোটে কী প্রভাব ফেলে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত