E-Paper

নাম নেই বাণেশ্বর ও বিবেকানন্দের, নজরে দুই নেত্রী

জল্পনা ছিল দলের অন্দরে। সেই মতো বিজেপির দখলে থাকা বলরামপুর ও রঘুনাথপুরে প্রার্থী বদল করা হল। রঘুনাথপুরে বিদায়ী বিধায়ক বিবেকানন্দ বাউরির পরিবর্তে প্রার্থী হয়েছেন দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক মামণি বাউরি।

শুভ্রপ্রকাশ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:০১

—প্রতীকী চিত্র।

কোথাও জেতা আসনে ফের জয়ের লক্ষ্যে বিদায়ী বিধায়কদের বদলে আনা হল নতুন মুখ। তো কোথাও আবার গত ভোটে জয়ী প্রার্থীদের উপরেই ভরসা রাখলেন নেতৃত্ব। এটাই পুরুলিয়ায় বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকার নির্যাস। তবে জেলার তিন কেন্দ্র—বাঘমুণ্ডি, জয়পুর ও পুরুলিয়ায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। বাঘমুণ্ডি আসনের দাবিদার এনডিএ-র শরিক আজসু। অন্য দিকে, দলের ‘শক্ত ঘাঁটি’ এবং লোকসভায় দশ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে থাকা বাঘমুণ্ডিতে এ বারে দলেরই প্রার্থী দেওয়ার দাবি তুলেছেন বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। জেলা নেতৃত্বের দাবি, শীঘ্রই বাকি তিন আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

জল্পনা ছিল দলের অন্দরে। সেই মতো বিজেপির দখলে থাকা বলরামপুর ও রঘুনাথপুরে প্রার্থী বদল করা হল। রঘুনাথপুরে বিদায়ী বিধায়ক বিবেকানন্দ বাউরির পরিবর্তে প্রার্থী হয়েছেন দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক মামণি বাউরি। দল সূত্রে খবর, বিবেকানন্দকে ফের প্রার্থী করার সিদ্ধান্তে ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছিল বিধানসভা এলাকার তিন ব্লক ও একমাত্র পুরশহরের দলের মণ্ডল সভাপতিদের বড় অংশ। পরিবর্তে বেছে নেওয়া হয়েছে নিতুড়িয়া ব্লকের বাসিন্দা ‘লড়াকু’ নেত্রী হিসাবে পরিচিত মামণিকে। তৃণমূলের একাংশও মানছে, প্রার্থী বদলে ওই আসনে লড়াই কিছুটা কঠিন হতে পারে।

বলরামপুরে বিদায়ী বিধায়ক বাণেশ্বর মাহাতোকে ফের প্রার্থী না করার গুঞ্জন ছিল। তা-ই সত্যি হল। বিজেপির ‘শক্ত ঘাঁটি’ হওয়া সত্ত্বেও ওই আসনে লোকসভায় পিছিয়ে পড়েছিল দল। তা ছাড়া, দলের এক শীর্ষ ও প্রভাবশালী নেতা চেয়েছিলেন, বলরামপুরে দলের জয় নিশ্চিত করতে প্রার্থী বদল করতে। ওই নেতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা জলধর মাহাতোকেই প্রার্থী করা হয়েছে। তবে বাণেশ্বর প্রার্থী না হওয়ায় তাঁর অনুগামীরা শেষ পর্যন্ত কোন পথ নেবেন, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এ দিকে, কর্মীদের একাংশের তরফে প্রার্থী বদলের দাবি থাকলেও কাশীপুরে ফের কমলাকান্ত হাঁসদার উপরে ভরসা রেখেছে দল। সূত্রের খবর, ওই বিধানসভায় ভাল সংখ্যায় আদিবাসী ভোট রয়েছে। মূলত সেই সমীকরণেই ফের টিকিট পেলেন কমলাকান্ত। তেমনই পাড়া বিধানসভায় বিদায়ী বিধায়ক নদিয়ারচাঁদ বাউরিকেই ফের প্রার্থী করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, নদিয়ারচাঁদের কোনও ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ছিল না। তা ছাড়া, গত কয়েক বছর ধরে জনসংযোগ ও দলের কর্মীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন তিনি। দলীয় নেতৃত্বের সুনজরে থাকা নদিয়ারচাঁদকে নিয়ে তাই কোনও বিতর্ক দানা বাঁধেনি।

তবে তৃণমূলের দখলে থাকা মানবাজার দখল করতে বিজেপি ভরসা রেখেছে সুবক্তা ও ‘লড়াকু’ নেত্রী হিসেবে পরিচিত বছর তিরিশের ময়না মুর্মুর উপরে। গত লোকসভা ভোটের আগে পুরুলিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করে নজর কেড়েছিলেন ময়না। তার আগে জেলা পরিষদের আসনে প্রার্থী হয়ে ভাল লড়াই দিয়েছিলেন। মানবাজারে তাঁর প্রার্থী হওয়া এক প্রকার নিশ্চিত ছিল বলে দাবি। পাশাপাশি, আদিবাসী অধ্যুষিত তৃণমূলের জেলার অন্যতম শক্ত ঘাঁটি বান্দোয়ানে শাসক দলকে কঠিন লড়াইয়ে ফেলতে দল ভরসা রেখেছে দীর্ঘ সময়ের নেতা তথা ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক লবসেন বাস্কের উপরে।

দলের রাজ্য নেতা বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর দাবি, দল নানা ভাবে বিচার-বিবেচনা করে ও সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছিল। কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি তার সামগ্রিক বিশ্লেষণ করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP purulia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy