অনিয়মিত ও নিম্ন মানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ তুলে অঙ্গনওয়াড়ি-কর্মীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন মহিলারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে মালদহের মানিকচক ব্লকের ভূতনির দক্ষিণ চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতের পুলিনটোলা বাঁধ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই কেন্দ্রে শিশু এবং প্রসূতিদের জন্য নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। খিচুড়িতে প্রায়ই পোকা দেখা যায়, যা খাওয়ার অযোগ্য। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভূতনির পুলিনটোলা বাঁধ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্না করা খাবার নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। বৃহস্পতিবার এলাকার মহিলাদের পাশাপাশি ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিশু ও প্রসূতিদের আত্মীয়-পরিজনেরা গিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। সুমতি মণ্ডল নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘‘এই কেন্দ্রে শিশু ও প্রসূতিদের চাল-হলুদ-লবণ দিয়ে সেদ্ধ করা জলের মতো খিচুড়ি পরিবেশন করা হয়। শিশুরা হাত দিয়ে তুলে সেই খিচুড়ি খেতে পারে না। তার উপর খিচুড়িতে থাকে পোকা। এ নিয়ে কোনও মা যদি অভিযোগ জানান, তবে তাদের গালমন্দ করার পাশাপাশি মারধর পর্যন্ত করা হয়।’’ অভিযোগ, বুধবার দুপুরে দুই শিশুর মা সেখানে খিচুড়ি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাদের মারধর করেন সংশ্লিষ্ট ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। আর এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘‘কোনও সপ্তাহে দু’দিন বা তিন দিন রান্না হয়, বাকি দিন রান্না বন্ধ। রান্না করা খাবারও নিম্ন মানের। মাসে এক দিন ডিম মেলে।’’
একাধিক অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রে যান পঞ্চায়েতের প্রধান শক্তি মণ্ডল। প্রধান বলেন, ‘‘এই কেন্দ্রের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়ে এসেছিলাম। বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি।’’ সংশ্লিষ্ট অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ফাল্গুনী মণ্ডল বলেন, "ভিত্তিহীন অভিযোগ। চাল, ডাল, পেঁপে, পটল, সয়াবিন আলু দিয়ে খিচুড়ি রান্না হয়। পঞ্চায়েত প্রধানের উস্কানিতে মহিলারা বিক্ষোভ দেখান।’’ যদিও প্রধান তা মানতে নারাজ। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিম্ন মানের খাবারের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)