Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘বিজেপি যা বলে সেটাই বলতে হয় কমিশনকে’! সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে ববি-শশী-অসীমের খোঁচা, স্ট্রংরুমকাণ্ডের পর নয়া দাবি

শুক্রবার সন্ধ্যায় সিইও অফিসে গিয়েছিল তৃণমূলের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল। তৃণমূলের দুই প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা ছাড়াও ছিলেন কাউন্সিলর অসীম বসু।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ২১:১৭
TMC on Strong Room Incident

সাংবাদিক বৈঠকে অসীম বসু, শশী পাঁজা এবং ফিরহাদ হাকিম। ছবি: সংগৃহীত।

প্রযুক্তির যুগে সিসি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনও কাজের কথা নয়! প্রতিটি স্ট্রংরুমে ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ রাখতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। শুক্রবার রাজ্য সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে এমনই দাবি তুললেন ফিরহাদ হাকিম (ববি), শশী পাঁজা এবং অসীম বসু। পাশাপাশি, কমিশনকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার পরামর্শ দিলেন তাঁরা। বিদায়ী মন্ত্রী তথা কলকাতা বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদের খোঁচা, ‘‘আসলে বিজেপি আজ যা বলে, সেটাই কমিশনকে আগামিকাল বলতে হয়।’’

ভোটপর্ব মেটার পরে শুরু হয়েছে স্ট্রংরুম বিতর্ক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তৃণমূলের ধর্না-বিক্ষোভ এবং বিজেপির পাল্টা জমায়েত সরগরম ছিল উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতার দুই গণনাকেন্দ্র— ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল। প্রথম জায়গাটিতে তৃণমূলের প্রার্থী কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজার পাশাপাশি হাজির হয়েছিলেন বিজেপির দুই প্রার্থী তাপস রায় এবং সন্তোষ পাঠক। দ্বিতীয় জায়গায় উপস্থিত হন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ। স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তোলে তৃণমূল। কারচুপির অভিযোগ করেন তৃণমূলনেত্রী।

তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের করিডরে বসে যে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছিল, সেই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ইমেল করে জানানো হয়েছিল। তাদের তরফে আরও জানানো হয়, স্ট্রংরুমে বিদ্যুৎ সংযোগ রাখা যায় না। আইন মেনে তাই টর্চ নিয়ে কাজ চলছিল। তা-ই নিয়েই আঙুল তুলেছে শাসকদল।

এই প্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিইও অফিসে গিয়েছিল তৃণমূলের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। তৃণমূলের দুই প্রার্থী ফিরহাদ এবং শশী ছাড়াও ছিলেন কাউন্সিলর অসীম। শশী বলেন, ‘‘মনোজ অগ্রবালকে মেল করেছিলাম একটি বিশেষ কারণে। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মেলের জবাব আসেনি। উনি হয়তো অন্যান্য কাজে ব্যস্ত। তাই আমরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অ্যাডিশনাল সিইওকে জানিয়েছি।’’ তার পর শশী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্ট্রংরুমে যে সমস্ত সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে, সেগুলোর কয়েকটি মাঝেমধ্যেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যা বাঞ্ছনীয় নয়। শশীর কথায়, ‘‘এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হুগলির হরিপাল, জলপাইগুড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। রামপুরহাট, ঘাটালে একই ঘটনা ঘটেছে। সন্দেহ হয়, সেখানে অন্য কিছু হচ্ছে কি না। এগুলোই দুশ্চিতার কারণ।’’ কমিশনকে স্বচ্ছ ভাবে কাজ করার কথা বলে তৃণমূলের দাবি, সমস্ত স্ট্রংরুমের সিসি ক্যামেরা ঠিক করতে হবে। যেখানে যেখানে ফুটেজ পাওয়া যায়নি, তার পুরো রেকর্ডিং কমিশনকে দেখাতে হবে। অনুশীলন সমিতির স্ট্রংরুমের প্রসঙ্গ টেনে শশী বলেন, ‘‘পোস্টাল ব্যালটের কাজ হচ্ছিল। কিন্তু কেউ কোনও খবর জানতে পারেননি। কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির কাছে খবর ছিল না। তাই সন্দেহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের অভিযোগ নস্যাৎ করার মতো জায়গা নেই। তার পরেও মাঝরাতে কমিশনের বিবৃতি অপমানজনক। কেন সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির অনুপস্থিতে পোস্টাল ব্যালট খোলা হল? কেন সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ নেই? আমরা তো কেবল স্বচ্ছতার দাবি করেছি। আমরা কোনও পাবলিসিটির (প্রচারের) জন্য ওখানে যাইনি। আমাদের অভিযোগের পরেই কিন্তু নোডাল অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’’

ফিরহাদ বলেন, ‘‘আমরা আমাদের দায়ত্ব পালন করছি। কমিশনও যাতে নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে, সেটা মনে করিয়ে দেওয়াও আমাদের কর্তব্য।’’ ফিরহাদের যুক্তি, পোস্টাল ব্যালট তো চিরকালই আলাদা জায়গায় রাখা হয়। কেন স্ক্রুটিনি একই ‘ভেনু’তে করতে হল, সেটাও প্রশ্ন। ফিরহাদের সংযোজন, ‘‘আমরা সংঘাতে যেতে চাই না। কিন্তু সন্দেহ গভীরতর হচ্ছে। শুধু স্বচ্ছতার কথা বললে হবে না, স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করাটাও জরুরি।’’

তৃণমূলের যুক্তি, ভোটের দিন ওয়েবকাস্টিং হয়েছে। এখন আধুনিক প্রযুক্তির সময় কমিশন যদি বলে কয়েকটি সিসিটিভি-তে কিছু ক্ষণের জন্য প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছে, সেটা বাঞ্ছনীয় নয়।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
১৬ মিনিট আগে
TMC Strong Room
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy