দুপুর ৩টেতেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হারে সমস্ত নজিরকে ছাপিয়ে গিয়েছিল এ বারের ভোট। বিকেল ৫টায় সেই ব্যবধান আরও বাড়ল। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি কেন্দ্রে ৮৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়ল বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দু’দফা মিলিয়ে ৯১.৬৮ শতাংশ ভোট ৫টার মধ্যেই যন্ত্রবন্দি হয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ৯২.৪৭। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের সর্বোচ্চ হার ছিল ২০১১ সালে। ‘পরিবর্তনের’ সেই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ। বুধবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোট পড়ে ৮৬.৩৫ শতাংশ।
দ্বিতীয় দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৭৫ হাজার ২৯৯। অর্থাৎ, হিসাব বলছে, ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়ে গিয়েছে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ৫৪ হাজারের সামান্য কিছু বেশি। দু’দফা মিলিয়ে বুধবার ৫টা পর্যন্ত পড়ল ৬ কোটি ২৫ লক্ষ ৭৬ হাজারের বেশি ভোট। রাজ্যে এ বার মোট ভোটার ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৩। ভোট শেষের এক ঘণ্টা বাকি থাকতেই এ বার ভোটদানের হার দাঁড়িয়ে গেল ৯১.৬৮ শতাংশে।
প্রথম দফায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছিল ৮৯.৯৩ শতাংশ। সেই নিরিখে দ্বিতীয় দফা প্রথম দফাকেও ছাপিয়ে গেল। গত বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন হয়েছিল। ওই দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩০৪। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ২২ হাজার ১৬৮ জন। শতাংশের নিরিখে ৯৩.১৯ শতাংশ ভোটার।
প্রথম দফায় ভোটদানের চূড়ান্ত হার ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে কমিশন (৯৩.১৩ শতাংশ)। দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ৮৯.৯৯ শতাংশ। দুই দফা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ভোটের হার ৯১.৬৮ শতাংশ, যা ইতিমধ্যেই ২০১১ সালের ভোটদানের হার (৮৪.৩৩)-কে ছাপিয়ে গিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত