Advertisement

নবান্ন অভিযান

সেই ফলতা! ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো, ছবি পোস্ট করে অভিযোগ বিজেপির, দাবি পুনর্নির্বাচনের, কথা শাহ-শুভেন্দুর

ফলতায় তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। নাম না-করে বিজেপির অভিযোগ সেই জাহাঙ্গিরের দিকে। অভিযোগ, বেশ কয়েকটি বুথে এমন ভাবেই ‘ভোট লুটের’ চেষ্টা করছে তৃণমূল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৭
BJP claims EVM tampering in Falta, says button taped by TMC

(বাঁ দিকে) অমিত শাহ এবং শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভোটের দিনে আবার আলোচনায় ডায়মন্ড হারাবের সেই ফলতা। ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলল বিজেপি। অভিযোগ, ফলতার কয়েকটি বুথের ইভিএমে নাকি ‘টেপ’ লাগানো রয়েছে। এমন একটি ছবি পোস্ট করে আবার ওই বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। ফলতার এই ঘটনা নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের।

কী অভিযোগ বিজেপির? তারা যে ছবি পোস্ট করেছে তাতে একটি ইভিএমের ছবি (যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) রয়েছে। সেই ইভিএমে তিন এবং চার বোতামের উপর ‘টেপ’ লাগানো। তিন নম্বরে রয়েছে বিজেপি প্রার্থী আর চারে সিপিএম। বিজেপির অভিযোগ, ভোটারেরা যাতে তাদের প্রার্থীকে ভোট দিতে না-পারেন, সেই কারণে ইচ্ছাকৃত ভাবে এই কাজ করেছে। বিজেপির অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করেছে।

ফলতায় তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। নাম না-করে বিজেপির অভিযোগ সেই জাহাঙ্গিরের দিকে। অভিযোগ, বেশ কয়েকটি বুথে এমন ভাবেই ‘ভোট লুটের’ চেষ্টা করছে তৃণমূল। এটাকে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বলে উল্লেখ করেছে বিজেপি। বিরোধী দলের আরও অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবেই ডায়মন্ড হারবারে জিতেছেন!

সোমবার থেকেই আলোচনায় ফলতা। রবিবার রাতে এই ফলতায় কয়েক জনের বাড়িতে যায় পুলিশ। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। সেই বিষয় তুলে রবিবার রাত থেকেই সরব। সেই আবহে সোমবার অজয়পালের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। সেখানে সামনে উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে ‘হুঁশিয়ারি’র সুরে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে অজয়পালকে। দাবি করা হচ্ছে, ভিডিয়োটি ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছেই। সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশেও ‘বার্তা’ দিতে দেখা গিয়েছে। তার পর থেকেই তৃণমূল অজয়ের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সেই অজয় এবং জাহাঙ্গির মুখোমুখি হন। ফলতায় তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে অজয়পালের কনভয় যাওয়ার সময় জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ওঠে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। তবে অজয়পাল দমেননি। দিনভর তিনি নিজের এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। ভোটের দিন সকাল থেকে তিনি বেরিয়ে পড়েছেন। খতিয়ে দেখছেন পরিস্থিতি।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
৬ মিনিট আগে
Suvendu Adhikari Amit Shah BJP Falta
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy