ভোটের দিনে আবার আলোচনায় ডায়মন্ড হারাবের সেই ফলতা। ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলল বিজেপি। অভিযোগ, ফলতার কয়েকটি বুথের ইভিএমে নাকি ‘টেপ’ লাগানো রয়েছে। এমন একটি ছবি পোস্ট করে আবার ওই বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। ফলতার এই ঘটনা নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের।
কী অভিযোগ বিজেপির? তারা যে ছবি পোস্ট করেছে তাতে একটি ইভিএমের ছবি (যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) রয়েছে। সেই ইভিএমে তিন এবং চার বোতামের উপর ‘টেপ’ লাগানো। তিন নম্বরে রয়েছে বিজেপি প্রার্থী আর চারে সিপিএম। বিজেপির অভিযোগ, ভোটারেরা যাতে তাদের প্রার্থীকে ভোট দিতে না-পারেন, সেই কারণে ইচ্ছাকৃত ভাবে এই কাজ করেছে। বিজেপির অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করেছে।
ফলতায় তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। নাম না-করে বিজেপির অভিযোগ সেই জাহাঙ্গিরের দিকে। অভিযোগ, বেশ কয়েকটি বুথে এমন ভাবেই ‘ভোট লুটের’ চেষ্টা করছে তৃণমূল। এটাকে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বলে উল্লেখ করেছে বিজেপি। বিরোধী দলের আরও অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবেই ডায়মন্ড হারবারে জিতেছেন! পরে শুভেন্দু এ বিষয়ে বলতে গিয়ে ফলতার নির্দিষ্ট দু’টি বুথের উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বর বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো হয়েছে। বিষয়টি তিনি শাহকে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন শুভেন্দু।
আরও পড়ুন:
সোমবার থেকেই আলোচনায় ফলতা। রবিবার রাতে এই ফলতায় কয়েক জনের বাড়িতে যায় পুলিশ। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। সেই বিষয় তুলে রবিবার রাত থেকেই সরব। সেই আবহে সোমবার অজয়পালের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। সেখানে সামনে উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে ‘হুঁশিয়ারি’র সুরে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে অজয়পালকে। দাবি করা হচ্ছে, ভিডিয়োটি ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছেই। সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশেও ‘বার্তা’ দিতে দেখা গিয়েছে। তার পর থেকেই তৃণমূল অজয়ের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সেই অজয় এবং জাহাঙ্গির মুখোমুখি হন। ফলতায় তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে অজয়পালের কনভয় যাওয়ার সময় জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ওঠে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। তবে অজয়পাল দমেননি। দিনভর তিনি নিজের এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। ভোটের দিন সকাল থেকে তিনি বেরিয়ে পড়েছেন। খতিয়ে দেখছেন পরিস্থিতি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত