নজরে দ্বিতীয় দফার ভোট। ভোটযুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বনাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দ্বিতীয় দফার ভোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভবানীপুর। এই আসন থেকে লড়াই করছেন তৃণমূলনেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। গত বিধানসভা ভোটে শুভেন্দুর কাছেই নন্দীগ্রামে পরাস্ত হতে হয় মমতাকে। পাঁচ বছর পর রাজ্য রাজনীতির দুই মহারথী আবার মুখোমুখি মহারণে।
সিঙ্গুর বিধানসভার ডিসিআরসি সেন্টার করা হয়েছে সিঙ্গুর গভর্নমেন্ট কলেজে। সকাল থেকেই সেখানে ভোটকর্মীরা ইভিএম-সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে রওনা দিচ্ছিলেন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের দিকে। দুপুরে ডিসিআরসি-তে অসুস্থ হয়ে পড়েন এক ভোটকর্মী। সেখানে উপস্থিত অন্যান্য ভোটকর্মী তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকদের খবর দেন। এখন অভিষেক দাস নামে ওই ভোটকর্মীর চিকিৎসা চলছে সিঙ্গুর ট্রমা কেয়ার সেন্টারে।
সন্ধ্যা থেকে ভোটকর্মীদের তৎপরতা। তার মধ্যে ছোট্ট সুমাইয়া মাকে ছাড়তে নারাজ। রাতে তো মাকে ছাড়া ঘুমাবেই না। পোলবার রাজহাটের বাসিন্দা সামিমা খাতুন দাঁড়পুর জুনিয়র বেসিক স্কুলের শিক্ষিকা। ভোটের ডিউটি করতে ডিসিআরসিতে এসেছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল চার বছরের কন্যা সুমাইয়া। রাতে মাকে ছাড়া ঘুমোয় না সে। মা ভোটের কাজে যাবে শুনে কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছে খুদে। তাই মেয়েকে নিয়েই চলে এসেছেন ওই শিক্ষিকা। তিনি জানান,তাকে রিজ়ার্ভে রাখা হবে। কিন্তু বুধবার ভোট, রাতে থাকতে হলে মেয়ে বাড়িতে কান্নাকাটি করবে ভেবে তাকে নিয়েই চলে এসেছেন। মাতৃবিয়োগ হয়েছে ১৪ দিন আগে। তার মধ্যে ভোটের ডিউটি করতে বাঁকুড়া থেকে চুঁচুড়া গিয়েছেন গজেন্দ্রকুমার গড়াই। ডিভিসি-র কর্মী মঙ্গলবার হুগলি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজে ডিসিআরসি-তে গিয়েছিলেন। ভোটের দায়িত্ব পড়েছে চুঁচুড়ায়।
মায়ের হাত ধরে ছোট্ট সুমাইয়া
দ্বিতীয় দফায় রাজ্য রাজধানী কলকাতায় ভোট। এ ছাড়া উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া এবং নদিয়ায়ও ভোটগ্রহণ হবে। কলকাতার ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ, চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, কলকাতা বন্দর, জোড়াসাঁকো, মানিকতলা, শ্যামপুকুর, কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় নির্বাচন রয়েছে। এ ছাড়া হাওড়া জেলায় হাওড়া উত্তর, হাওড়া মধ্য, বালি, শিবপুর, সাঁকরাইল, পাঁচলা, হাওড়া দক্ষিণ, উলিবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া উত্তর, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, শ্যামপুর, উদয়নারায়ণপুর, আমতা, জগৎবল্লভপুর, ডোমজুড় ভোট রয়েছে। হুগলির সিঙ্গুর, চাঁপদানি, উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, চুঁচুড়া, বলাগড়, চন্দননগর, পাণ্ডুয়া, হরিপাল, জাঙ্গিপাড়া, চণ্ডীতলা, সপ্তগ্রাম, তারকেশ্বর, ধনেখালি, আরামবাগ, পুরশুড়া, গোঘাট ও খানাকুলেও ভোটপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনতা। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ, রায়না, জামালপুর, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর, মন্তেশ্বর, কালনা, মেমারি, ভাতার, কাটোয়া, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম, গলসি, পূর্বস্থলী উত্তর ও পূর্বস্থলী দক্ষিণ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা, বাসন্তী, কুলতলি, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, সাগর, কুলপি, রায়দিঘি, মন্দিরবাজার, জয়নগর, বারুইপুর পূর্ব, ক্যানিং পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর, সোনারপুর দক্ষিণ, ভাঙড়, কসবা, যাদবপুর, সোনাপুর উত্তর, টালিগঞ্জ, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, মহেশতলা, বজবজ, মেটিয়াবুরুজে ভোট রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা, স্বরূপনগর, বাদুড়িয়া, হাবরা, অশোকনগর, আমডাঙা, বিজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, ব্যারাকপুর , খড়দা, দমদম উত্তর, পানিহাটি, কামারহাটি, বরানগর, দমদম, রাজারহাট নিউটাউন, বিধাননগর, রাজারহাট গোপালপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসাত, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মীনাখাঁ, সন্দেশখালি, বসিরহাট দক্ষিণ, বসিরহাট উত্তর, হিঙ্গলগঞ্জে নির্বাচন রয়েছে।নদিয়ার করিমপুর, তেহট্ট, পলাশীপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, কৃষ্ণনগর উত্তর, নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, কৃষ্ণগঞ্জ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, চাকদা, কল্যাণী, হরিণঘাটা কেন্দ্রে ভোট বুধবার।
বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয়ে যাবে মকপোল। ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টায়, শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টায়।
দ্বিতীয় দফার ভোটে ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়— ৫০৭ কোম্পানি। এর মধ্যে বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ১১২ কোম্পানি বাহিনী। বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ৬২ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে ভোটের দিন। বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে থাকছে ১৬০ কোম্পানি। কলকাতায় বুথের সংখ্যা ৫,১৭২। ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে রাজ্যের রাজধানীতে।
মোট ৪১ হাজার একটি বুথে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে। তার মধ্যে প্রধান বুথের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৩০১। অতিরিক্ত বুথ রয়েছে ১ হাজার ৭০০টি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রত্যেক বুথেই ভোটগ্রহণের সময় ওয়েব কাস্টিং চলবে। দ্বিতীয় দফায় আদর্শ বা মডেল বুথের সংখ্যা ২৫৮। মহিলা পরিচালিত বুথ থাকছে ৮,৮৪৫টি।
দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় রাজ্যে ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন। এর মধ্যে তফসিলি জাতি (এসসি)-র জন্য ৩৪টি আসন এবং তফসিলি জনজাতি (এসটি)-র জন্য সংরক্ষিত একটি আসন। আয়তনে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র কলকাতার জোড়াসাঁকো, সবচেয়ে বড় নদিয়ার কল্যাণী। তবে ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হুগলি জেলার চুঁচুড়া। সেখানে ২.৭৫ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। ভোটারের সংখ্যার নিরিখে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া। ওই কেন্দ্রে ১.১৭ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। প্রথম দফায় প্রবাসী ভোটার রয়েছেন ১৪৬ জন।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy