Advertisement

নবান্ন অভিযান

বিজেপির দাবি করা দু’টি বুথেই হতে পারে পুনর্নির্বাচন! ইঙ্গিত দিয়ে সিইও মনোজ বললেন, ‘পরিস্থিতি দাবি করলে আরও হবে’

ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এলাকায় ‘বহিরাগত’ প্রবেশ করিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যের সিইও মনোজ জানিয়েছেন, প্রমাণ মিললে পদক্ষেপ করা হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০০
ইভিএমে ‘টেপ’ বসানোর অভিযোগ নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা বললেন সিইও মনোজ অগ্রবাল।

ইভিএমে ‘টেপ’ বসানোর অভিযোগ নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা বললেন সিইও মনোজ অগ্রবাল। ছবি: সংগৃহীত।

যেখানে যেখানে ইভিএমে টেপ পাওয়া গিয়েছে, পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট নিয়ে সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল। বিজেপি অভিযোগ করেছে, ডায়মন্ড হারবারের ফলতায় কয়েকটি বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো রয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ফলতার ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বরে বুথে পুনর্নির্বাচন করানো হোক। তার পরেই মনোজ জানিয়ে দিলেন পুনর্নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা। তিনি জানান, আর কোনও বুথে ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষা না হলে সেখানেও হবে পুনর্নির্বাচন। এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, যে দুষ্কৃতীরা এই ধরনের কাজ করছে, তাদের চিহ্নিত করা হবে।

সিইও মনোজ বুধবার বলেন, ‘‘অবাধ ভোট করানো নিয়ে আমাদের জ়িরো টলারেন্স নীতি। যেখানে যন্ত্রের উপরে কালো বা সাদা টেপ মিলবে, সেখানে পুনর্নিবাচন করাব। রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে।’’ তার পরেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘কোনও যন্ত্রে টেপ মিললে রিপোল হবে সব বুথে। যে আসনে এ ধরনের বুথের সংখ্যা বেশি হবে, সেই পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেও রিপোল হতে পারে।’’

মনোজের দাবি, যে ইভিএমে টেপ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে, মকপোলের সময় সেখানে তার অস্তিত্ব মেলেনি। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের এসওপি (আদর্শ কার্যবিধি) রয়েছে। ইভিএম কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্বে থাকে। মকপোলের সময় (ওই ইভিএমে) টেপ ছিল না। ভোট দিতে গিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুষ্কৃতীরা এ সব করেছে।’’ মনোজ এ-ও জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হবে। কী ভাবে চিহ্নিত করা হবে, তা-ও জানিয়েছেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘‘সিসিটিভি ফুটেজে দেখব কে বা কারা বেশিক্ষণ ইভিএম যন্ত্রের কাছে ছিলেন। দেখা গেল, সকলে থাকছেন ২০ সেকেন্ড। কেউ হয়তো থাকছেন ৪০ সেকেন্ড। অনুসন্ধান করে আমরা তাঁদের চিহ্নিত করব। চিহ্নিত করে পদক্ষেপ করা হবে।’’ কারা এ সব করছেন? সেই প্রশ্নের জবাবে মনোজ বলেন, ‘‘সেলোটেপ কে লাগাচ্ছে, কী ভাবে জানব। ভোটার যে ভোট দিচ্ছেন, গোপন। সেই গোপনীয়তা ভাঙলে তিন মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে। সিসি ক্যামেরা শুধু দেখবে, কক্ষে কে প্রবেশ করছেন, কে বেরোচ্ছেন।’’

বিজেপির অভিযোগ, ফলতার কয়েকটি বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো রয়েছে। এমন একটি ছবি পোস্ট করে আবার ওই বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায় বিজেপি। আরও যে যে বুথের ইভিএমে টেপ লাগানো রয়েছে, সেখানেও পুনর্নির্বাচনের আর্জি জানায়। শুভেন্দু ফলতার দু’টি বুথের কথা উল্লেখও করেন। এর পরেই মনোজ কড়া পদক্ষেপের কথা জানান। তবে কত বুথে পুনর্নির্বাচন হবে, তা এখনই বলা যাবে না বলে জানান তিনি। মনোজের কথায়, ‘‘কত বুথে পুনর্নির্বাচন হবে, বলতে পারব না। কমিশন কত পুনর্নির্বাচনের আবেদন গ্রহণ করবে, জানি না। বুধবার বিকেলে প্রিসাইডিং অফিসার দেখে জানাবেন।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘যেখানে ভোটের স্বচ্ছতা, শুদ্ধতার সঙ্গে আপস করা হবে, সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে। পরিস্থিতির চাহিদা থাকলে হবে। অভিযোগ অনেক এসেছে। যেখানে টেপ লাগানোর প্রমাণ মিলেছে, সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

বুধবার ভোটের দিনে ভবানীপুর উত্তপ্ত হয়েছে। সেই নিয়ে মনোজ বলেন, ‘‘ভবানীপুরে কলকাতা পুলিশ ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। তবে এটা নির্বাচনের দিন হওয়া উচিত ছিল।’’ ভোট পরিদর্শনে কালীঘাট চত্বরে পৌঁছোতেই শুভেন্দুকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। বিক্ষোভের মুখে পড়ে ফোনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকেন শুভেন্দু। তার পরেই ঘটনাস্থলে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। শুভেন্দুর অভিযোগ, এলাকায় বহিরাগতদের ঢুকিয়েছে তৃণমূল। ‘বহিরাগতদের’ ধরতে বাহিনীর সঙ্গে দৌড়োতে দেখা যায় শুভেন্দুকেও। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। মনোজ বলেন, ‘‘আমি বলে দিয়েছিলাম, ভোট চললে বহিরাগত এলাকায় থাকতে পারবেন না। তাঁরা যাতে প্রবেশ করতে না পারেন, তা দেখার দায়িত্ব ওসির। প্রমাণ পেলে পদক্ষেপ করব।’’

বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনও কোনও জায়গায় লাঠিচার্জ করার অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে সিইও মনোজ বলেন, ‘‘লাঠিচার্জ না করলে বলবেন, বাহিনী কী করছে? যেখানে যা প্রয়োজন হবে, করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। আগে বন্দুক থাকত। এখন বাহিনীর জওয়ানদের লাঠিও রয়েছে। প্রয়োজন পড়লে ব্যবহার করবে।’’ তিনি এ-ও জানিয়েছে যে, জওয়ানেরা আগে লাঠি ব্যবহার করেন না। প্রথমে চেষ্টা করেন, বিষয়টি মিটিয়ে নিতে।

বুধবার, দ্বিতীয় দফায় সাতটি জেলার (দুই কলকাতাকে আলাদা ধরলে আট) জেলার ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। কয়েকটিতে বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ উঠেছে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy