যেখানে যেখানে ইভিএমে টেপ পাওয়া গিয়েছে, পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট নিয়ে সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল। বিজেপি অভিযোগ করেছে, ডায়মন্ড হারবারের ফলতায় কয়েকটি বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো রয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ফলতার ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বরে বুথে পুনর্নির্বাচন করানো হোক। তার পরেই মনোজ জানিয়ে দিলেন পুনর্নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা। তিনি জানান, আর কোনও বুথে ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষা না হলে সেখানেও হবে পুনর্নির্বাচন। এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, যে দুষ্কৃতীরা এই ধরনের কাজ করছে, তাদের চিহ্নিত করা হবে।
সিইও মনোজ বুধবার বলেন, ‘‘অবাধ ভোট করানো নিয়ে আমাদের জ়িরো টলারেন্স নীতি। যেখানে যন্ত্রের উপরে কালো বা সাদা টেপ মিলবে, সেখানে পুনর্নিবাচন করাব। রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে।’’ তার পরেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘কোনও যন্ত্রে টেপ মিললে রিপোল হবে সব বুথে। যে আসনে এ ধরনের বুথের সংখ্যা বেশি হবে, সেই পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেও রিপোল হতে পারে।’’
মনোজের দাবি, যে ইভিএমে টেপ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে, মকপোলের সময় সেখানে তার অস্তিত্ব মেলেনি। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের এসওপি (আদর্শ কার্যবিধি) রয়েছে। ইভিএম কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্বে থাকে। মকপোলের সময় (ওই ইভিএমে) টেপ ছিল না। ভোট দিতে গিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুষ্কৃতীরা এ সব করেছে।’’ মনোজ এ-ও জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হবে। কী ভাবে চিহ্নিত করা হবে, তা-ও জানিয়েছেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘‘সিসিটিভি ফুটেজে দেখব কে বা কারা বেশিক্ষণ ইভিএম যন্ত্রের কাছে ছিলেন। দেখা গেল, সকলে থাকছেন ২০ সেকেন্ড। কেউ হয়তো থাকছেন ৪০ সেকেন্ড। অনুসন্ধান করে আমরা তাঁদের চিহ্নিত করব। চিহ্নিত করে পদক্ষেপ করা হবে।’’ কারা এ সব করছেন? সেই প্রশ্নের জবাবে মনোজ বলেন, ‘‘সেলোটেপ কে লাগাচ্ছে, কী ভাবে জানব। ভোটার যে ভোট দিচ্ছেন, গোপন। সেই গোপনীয়তা ভাঙলে তিন মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে। সিসি ক্যামেরা শুধু দেখবে, কক্ষে কে প্রবেশ করছেন, কে বেরোচ্ছেন।’’
বিজেপির অভিযোগ, ফলতার কয়েকটি বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো রয়েছে। এমন একটি ছবি পোস্ট করে আবার ওই বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায় বিজেপি। আরও যে যে বুথের ইভিএমে টেপ লাগানো রয়েছে, সেখানেও পুনর্নির্বাচনের আর্জি জানায়। শুভেন্দু ফলতার দু’টি বুথের কথা উল্লেখও করেন। এর পরেই মনোজ কড়া পদক্ষেপের কথা জানান। তবে কত বুথে পুনর্নির্বাচন হবে, তা এখনই বলা যাবে না বলে জানান তিনি। মনোজের কথায়, ‘‘কত বুথে পুনর্নির্বাচন হবে, বলতে পারব না। কমিশন কত পুনর্নির্বাচনের আবেদন গ্রহণ করবে, জানি না। বুধবার বিকেলে প্রিসাইডিং অফিসার দেখে জানাবেন।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘যেখানে ভোটের স্বচ্ছতা, শুদ্ধতার সঙ্গে আপস করা হবে, সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে। পরিস্থিতির চাহিদা থাকলে হবে। অভিযোগ অনেক এসেছে। যেখানে টেপ লাগানোর প্রমাণ মিলেছে, সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
বুধবার ভোটের দিনে ভবানীপুর উত্তপ্ত হয়েছে। সেই নিয়ে মনোজ বলেন, ‘‘ভবানীপুরে কলকাতা পুলিশ ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। তবে এটা নির্বাচনের দিন হওয়া উচিত ছিল।’’ ভোট পরিদর্শনে কালীঘাট চত্বরে পৌঁছোতেই শুভেন্দুকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। বিক্ষোভের মুখে পড়ে ফোনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকেন শুভেন্দু। তার পরেই ঘটনাস্থলে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। শুভেন্দুর অভিযোগ, এলাকায় বহিরাগতদের ঢুকিয়েছে তৃণমূল। ‘বহিরাগতদের’ ধরতে বাহিনীর সঙ্গে দৌড়োতে দেখা যায় শুভেন্দুকেও। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। মনোজ বলেন, ‘‘আমি বলে দিয়েছিলাম, ভোট চললে বহিরাগত এলাকায় থাকতে পারবেন না। তাঁরা যাতে প্রবেশ করতে না পারেন, তা দেখার দায়িত্ব ওসির। প্রমাণ পেলে পদক্ষেপ করব।’’
আরও পড়ুন:
বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনও কোনও জায়গায় লাঠিচার্জ করার অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে সিইও মনোজ বলেন, ‘‘লাঠিচার্জ না করলে বলবেন, বাহিনী কী করছে? যেখানে যা প্রয়োজন হবে, করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। আগে বন্দুক থাকত। এখন বাহিনীর জওয়ানদের লাঠিও রয়েছে। প্রয়োজন পড়লে ব্যবহার করবে।’’ তিনি এ-ও জানিয়েছে যে, জওয়ানেরা আগে লাঠি ব্যবহার করেন না। প্রথমে চেষ্টা করেন, বিষয়টি মিটিয়ে নিতে।
বুধবার, দ্বিতীয় দফায় সাতটি জেলার (দুই কলকাতাকে আলাদা ধরলে আট) জেলার ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। কয়েকটিতে বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ উঠেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৩:৪২
পাঁচ রাজ্যের ভোটে ‘ঐতিহাসিক জয়ের’ হ্যাট্ট্রিক করবে বিজেপি! দাবি মোদীর, বললেন, ‘ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে’ -
১২:৫৮
‘বহিরাগত’ ধরতে বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দৌড় শুভেন্দুর, বিরোধী দলনেতাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ তৃণমূলের, স্লোগানযুদ্ধ -
১২:৫৭
সেই ফলতা! ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো, ছবি পোস্ট করে অভিযোগ বিজেপির, দাবি পুনর্নির্বাচনের, কথা শাহ-শুভেন্দুর -
সরাসরি
০৯:৪৩
দুপুর ৩টে: প্রথম দফা থেকে একটু পিছিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটদানের হার! সবচেয়ে বেশি সেই পূর্ব বর্ধমানেই, কোথায় কম -
০৭:৫৪
‘রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দিন’! শেষ দফার ভোটপর্বের শুরুতে আবেদন মোদীর, বিশেষ আর্জি মহিলা-যুব সম্প্রদায়কে