Advertisement

নবান্ন অভিযান

পাঁচ রাজ্যের ভোটে ‘ঐতিহাসিক জয়ের’ হ্যাট্‌ট্রিক করবে বিজেপি! দাবি মোদীর, বললেন, ‘ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে’

পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিনটিকে গণতন্ত্রের উৎসবের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। রাজ্যের ভোটারদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৪২
বুধবার উত্তরপ্রদেশের হরদইয়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বুধবার উত্তরপ্রদেশের হরদইয়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: পিটিআই।

পাঁচ রাজ্যের ভোটে ‘ঐতিহাসিক জয়’ পাবে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্বের মাঝে এমনটাই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুধু তা-ই নয়, বিহারের ভোট এবং গুজরাতের পুরসভা-পঞ্চায়েত ভোটের উদাহরণ টেনে তাঁর দাবি, এ বারে জয়ের হ্যাট্‌ট্রিক করবে পদ্মশিবির। পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতাও জানালেন তিনি।

বুধবার উত্তরপ্রদেশের হরদই থেকে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন মোদী। সেখান থেকেই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিনটিকে গণতন্ত্রের উৎসবের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। বুধবারের ভোটপর্ব নিয়ে মোদী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিপুল ভোটদানের খবর আসছে। প্রথম দফার মতোই বহু সংখ্যক জনতা ভোটদানের জন্য বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন। লম্বা লম্বা লাইনের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। গত ছয়-সাত দশকে যা হয়নি, যা কল্পনাও করা যেত না— এ বার সেটাই হচ্ছে। ভয়মুক্ত বাতাবরণে পশ্চিমবঙ্গে ভোট হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দিচ্ছেন।”

পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের হার এবং ‘ভয়মুক্ত পরিবেশে’ নির্বাচন প্রসঙ্গে মোদী আরও বলেন, “এটাই দেশের সংবিধান এবং দেশের মজবুত গণতন্ত্রের পুণ্য প্রতীক।” প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও সাধারণ জনতাকে বুথমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের মহান জনতার প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা নিজেদের অধিকার নিয়ে এত সজাগ। তাঁরা বিপুল সংখ্যায় ভোটদান করছেন। এখনও ভোটদান শেষ হতে বেশ কয়েক ঘণ্টা বাকি আছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের জনতাকে অনুরোধ করব, গণতন্ত্রের পর্বে এমনই উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করুন।”

কথা প্রসঙ্গে, বিহারের নির্বাচন এবং গুজরাতের পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করেন মোদী। ওই দুই নির্বাচনেই যে বিজেপি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবিরের জয় এসেছে, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিহারের ভোটে বিজেপি-এনডিএ বিপুল জয় পেয়েছে। ইতিহাস রচনা করেছে। গতকালই গুজরাতে মহানগরপালিকা, নগরপালিকা, জেলাপঞ্চায়েত, নগরপঞ্চায়েতের ভোটের ফল এসেছে। ৮০-৮৫ শতাংশ নগরপালিকা এবং পঞ্চায়েত বিজেপি জিতে নিয়েছে। আমার বিশ্বাস, পাঁচ রাজ্যের ভোটে ঐতিহাসিক জয়ের হ্যাট্‌ট্রিক করবে বিজেপি। ৪ মে-র ফলাফল বিকশিত ভারতের সংকল্পকে মজবুত করবে। দেশের বিকাশের গতিতে নতুন শক্তি দেবে। দেশের দ্রুত বিকাশের জন্য আমাদের দ্রুত আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে।”

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Narendra Modi BJP TMC West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy