Advertisement
E-Paper

আমলা-পুলিশে ঢালাও বদলির বিরুদ্ধে মমতা নির্বাচনী ময়দানে নামিয়ে দিলেন রাজ্যবাসীকেই! হুঁশিয়ারি দিলেন, প্রতিরোধ হবে

একের পর এক আধিকারিক বদলি নিয়ে ফের একবার কমিশনকে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিজেপির সঙ্গে কমিশনের আঁতাঁতের অভিযোগও উস্কে দিলেন। জানালেন, রাজ্যবাসী এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেই।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৬:০৫
মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

পত্রাঘাত করেছিলেন আগেই। আক্রমণের ঝাঁজ এ বার আরও বৃদ্ধি করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমলা এবং পুলিশকর্তাদের ঢালাও বদলির বিরুদ্ধে নির্বাচনী ময়দানে নামিয়ে দিলেন রাজ্যবাসীকেই। পশ্চিমবঙ্গকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে হুঙ্কার দিলেন, প্রতিরোধ হবেই। এবং এই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে পশ্চিমবঙ্গের আমজনতা।

রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের বদলি নিয়ে কমিশনকে আগেই তোপ দেগেছেন মমতা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। গত সোমবারের মিছিল শেষেও এ নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন কমিশনকে। বিজেপি-তৃণমূল আঁতাঁত তত্ত্ব উস্কে বোঝাতে চেয়েছিলেন, সব বদলে দিলেও রাজ্যের শাসকদলকে প্যাঁচে ফেলা যাবে না। কারণ, অন্য সব কিছু বদলে দিতে পারলেও মানুষের মনকে বদলানো যাবে না। এ বার আমলা এবং পুলিশকর্তাদের বদলির বিরোধিতায় সেই রাজ্যবাসীকে আরও কাছে টানলেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গের সিনিয়র আধিকারিকদের এ ভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে বদলিকে কোনও আকস্মিক ঘটনা হিসাবে দেখতে চান না মুখ্যমন্ত্রী। বরং, এই ঘটনাগুলিকে বলপ্রয়োগ করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কারচুপির মাধ্যমে রাজ্যদখলের চেষ্টা বলেই মনে করছেন তিনি। মমতার অভিযোগ, রাজ্যে যা পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, তা দৃশ্যত এক ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতি শাসনের এক অঘোষিত রূপ’।

শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার থেকেই এগুলি করা হচ্ছে বলে বিজেপি এবং কমিশনকে বিঁধেছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী যখন এই অভিযোগ তোলেন, তার অব্যবহিত পরেই সাংবাদিক বৈঠকে বসে রাজ্য বিজেপি। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভায় বিজেপির সাংসদ রাহুল সিংহ সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন। তাঁর প্রশ্ন, “আপনি যে এক মাস আগে ৮৫ জনের মতো পুলিশ অফিসারকে পরিবর্তন করলেন। কেন করলেন? কিসের জন্য করলেন? তা হলে ওই ৮৫ জন অপদার্থ ছিল। সেই অপদার্থদের নিয়ে আপনি বছরের পর বছর সরকার চালালেন। আর ঠিক ভোটের আগে সরালেন। এটা কী ধরনের খেলা? আপনি সরাতে পারেন, তাতে কোনও দোষ নেই, অন্য ভাবে পরিবর্তন হলেই আপনি এ সব বলবেন?”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পোস্ট।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সমাজমাধ্যম।

ফেসবুকে মমতা লেখেন, রাজ্যবাসীর আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি এখন জোর করে, ভয় দেখিয়ে, কারচুপি করে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার করে রাজ্য দখলের অপচেষ্টা করছে। অপসারিত সরকারি আধিকারিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মমতা এই বদলি বিতর্কে জুড়ে দেন রাজ্যবাসীকেও। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গ কখনওই ভয়ের কাছে নত হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। পশ্চিমবঙ্গ লড়াই করবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বিভেদের কোনও এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে, রাজ্য তা প্রতিহত করবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, “বিজেপি কেন এত মরিয়া হয়ে উঠেছে? কেন রাজ্য এবং রাজ্যবাসীর উপর এমন ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে? স্বাধীনতার ৭৮ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও, নাগরিকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ সব করে ওরা ঠিক কোন তৃপ্তি পাচ্ছে?”

কমিশন রাজনৈতিক অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে— এই অভিযোগ আগেও তুলেছেন তৃণমূলনেত্রী। আধিকারিক অপসারণ বিতর্কে কমিশনের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ ফের একবার উস্কে দিলেন মমতা। কমিশন গত কয়েক দিনে যতগুলি বদলি নির্দেশিকা জারি করেছে, সেই সব নির্দেশিকার প্রতিলিপি একসঙ্গে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি লেখেন, নির্বাচন কমিশন যে ভাবে পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে বেছে নিয়ে নিশানা করছে, তা শুধু নজিরবিহীনই নয়, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশের আগেই ৫০ জনেরও বেশি সিনিয়র আধিকারিককে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের সিনিয়র আধিকারিকদের আকস্মিক ভাবে স্বৈরাচারী ভঙ্গিতে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মমতা। এই বদলিগুলিকে কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসাবে দেখছেন না তিনি। বরং, এগুলিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বলেই বর্ণনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী। নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশের আগেই ৫০ জনেরও বেশি সিনিয়র আধিকারিককে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মমতার। তিনি লেখেন, “আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র আধিকারিকদের বেছে বেছে পদ থেকে সরিয়ে ভিন্‌রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত চেষ্টার দিকেই ইঙ্গিত করে।”

রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকে শীর্ষ স্তরে একের পর এক আমলা এবং পুলিশকর্তাকে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণার রাতেই মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। যা কমিশনের সাম্প্রতিক অতীতে কার্যত নজিরবিহীন। সেই রাতেই দায়িত্ব থেকে সরানো হয় স্বরাষ্ট্রসচিবকেও। এর পরে রাজ্যের পুলিশপ্রধান, কলকাতার পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার পদে একের পর এক বদলির নির্দেশিকা জারি করে কমিশন। ভোট ঘোষণা হতেই ঝাঁকে ঝাঁকে আধিকারিক বদলি শুরু করেছে কমিশন।

কমিশনের জারি করা বদলি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ওই আধিকারিকদের নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও পদে বসানো যাবে না। অথচ সেই একই আধিকারিককে কেন অন্য রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর বিতর্কে ধারাবাহিক ভাবে কমিশন এবং বিজেপি-র আঁতাঁতের অভিযোগ তুলে আসছেন মমতা। এ বার রাজ্যের আমলা এবং পুলিশকর্তাদের বদলি নিয়ে কমিশনকে তোপ দাগতে গিয়ে রাজ্যবাসীর ‘হেনস্থা’র কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাজ্যে এসআইআর-এর কাজ চলাকালীন ২০০-র বেশি মৃত্যু হয়েছে বলে লিখেছেন মমতা। একই সঙ্গে তিনি লেখেন, কমিশনের কাজে তাদের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বই প্রতিফলিত হচ্ছে। এবং এর মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে ধারাবাহিক ভাবে সমস্যার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত (সাপ্লিমেন্টারি) ভোটার তালিকা কেন এখনও প্রকাশিত হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা।

Mamata Banerjee TMC BJP Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy