Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

‘প্রেম আর কাজ আমি জীবনেও গুলিয়ে ফেলিনি’

কিন্তু অনেকেই পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় বলে তাঁর কাছে এসেছে। চলেও গিয়েছে। আনন্দবাজার ডিজিটালকে প্রথম ‘উমা’-র ট্রেলর দেখিয়ে ঝড়বাদলার বৈশাখি দ

১৮ এপ্রিল ২০১৮ ১৬:০৬
সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ছবি: সৃজিতের ইনস্টাগ্রাম পেজের সৌজন্যে।

সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ছবি: সৃজিতের ইনস্টাগ্রাম পেজের সৌজন্যে।

কথা ছিল তাঁর বাড়িতে আড্ডা হবে। মাঝ রাস্তায় প্ল্যান বদলে হাজির করলেন এক এডিট স্টুডিয়োতে। কোনও কথা বলার আগেই চোখের সামনে তখন জীবন্ত উমা আর তাঁর বাবা। সবুজ বন পেরিয়ে দিগন্তের দিকে ধেয়ে আসছে। ছবিতে ‘উমা’-র অকালবোধন আর কলকাতার বুকে কালবৈশাখী! পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের অনেক দিনের না বলা কথারা একে একে জড়ো হল।

উমার ট্রেলর দেখতে দেখতে বার বার মনে হচ্ছিল এখানেও এক বাচ্চা মেয়ে আছে...

ফেসবুক থেকে উমার জন্ম! আমি জানি এ ছবি মানুষের আবেগকে নাড়িয়ে দেবে। তবে এখন ফেসবুক খুলতে খুব ভয় করে। আমার মনে হয় মানুষের থেকে ইয়েতি অন্তত ভাল। ইয়েতি কোনও মেয়েকে ধর্ষণ করা বা স্কুল থেকে বের করে কোনও শিশুকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় না। নিজেকে মানুষ বলতে লজ্জা হয়!

Advertisement

সেই লজ্জা থেকেই উমা?

একদমই তাই। সম্পূর্ণ অপরিচিত একটা মেয়ের জন্য, কোনও আত্মীয় নয়, কোনও মা-বাবার বন্ধু নয়, গোটা একটা শহর বসন্তকালে দুর্গাপুজোর আয়োজনে সেজে উঠল। গল্পের অনুপ্রেরণা যার কাছ থেকে আমি পেয়েছি সেই ইভানের মা এই ছবির মুক্তির দিনেকলকাতায় আসবেন। আমি কানাডা যাব। ইভানের প্রিয় পার্কে ওই শহরের মানুষকে ‘উমা’ দেখানো হবে।

উমা আসলে আবেগের ছবি। ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘চতুষ্কোণ’-এর পরিচালক হঠাৎ ‘উমা’ করার রিস্ক নিচ্ছেন...

‘উমা’আমার বারো নম্বর ছবি। তবে এরকম নয় যে আমি বারো নম্বর ছবিতে অবশেষে রিস্ক নিলাম। আমি চাইলে ‘অটোগ্রাফ’ ২ বা ৩ তৈরি করতেই পারতাম, ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর সিক্যুয়েল করতে পারতাম, কিন্তু করিনি তো!

কেন?

আমি আসলে নাবিক। নদী, সমুদ্র, অতল ঢেউয়ের কাছে আমায় নোঙর ফেলতে হবে। দেখতে হবে স্রোত কোন দিকে যায়। শ্যাওলা ধরাতে চাই না।



‘আমি জানতাম ‘নির্বাক’ চলবে না’

সেই কারণেই ‘নির্বাক’ করা?

শ্রীকান্ত মোহতা আমায় বলেছিল, সৃজিত মুখোপাধ্যায় যদি ‘অটোগ্রাফ’, ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘মিশর রহস্য’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবি দিতে পারে তাকে আমি একটা ‘নির্বাক’দিতে পারি না? আমি জানতাম ‘নির্বাক’ চলবে না। খুব কম বাজেটে ছবি করেছিলাম।

খারাপ লাগেনি?

‘নির্বাক’ দেখার পর লোকে বলেছিল এত দিনে সৃজিত মুখোপাধ্যায় একটা ভাল সিনেমা বানাতে পেরেছে। আমি আবার ভাঙলাম ‘জুলফিকার’-এ। যার মুখ্য পাঁচটা চরিত্রই মুসলমান। পুরোদস্তুর কমার্শিয়াল ছবি। আর কলকাতা মানে শুধু হাওড়া ব্রিজ, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আর রসগোল্লা নয়। মেটিয়াবুরুজের মতো এলাকা কেন ছবিতে আসবে না?

‘জাতিস্মর’-এর বক্স অফিস কালেকশন কিন্তু দারুণ কিছু নয়!

শুনুন, আমার অন্য ছবির সঙ্গে তুলনা করলে বলা যায় ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর চেয়ে ‘জাতিস্মর’ কম ব্যবসা করেছে। কিন্তু সকলে হয়তো জানে না অনেক বড় বাজেটের দামি ছবির চেয়ে ‘জাতিস্মর’ অনেক ভাল ব্যবসা করেছে। মোদ্দা কথা, নিজেকে প্রত্যেক ছবিতে ভাঙতে হবে। এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা জরুরি।

এর উল্টো দিকও হয়। কেউ একের পর এক গোয়েন্দা ছবিতেই হয়তো হাত পাকিয়েছেন, কেউ একদম ঘরের গল্প বলছেন, তাঁরা খামোখা সরে আসবেন কেন?

আমি মানি একটা নিশ্চয়তার জায়গা থাকে।

আরও পড়ুন, টিজারে ‘উমা’র বোধন

আপনি তো সোজা কথা বলেন। একটু পরিচালকের উদাহরণ দিয়ে বলুন না...

দেখুন, অঞ্জনদাকে আমি বলেছিলাম আর ব্যোমকেশ কোরো না। একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে। অরিন্দম শীল যখন শবর ব্যোমকেশের পর ধনঞ্জয় করল আমি ভীষণ আগ্রহ নিয়ে ছবির মেকিং দেখেছি।

আর শিবপ্রসাদ-নন্দিতা? বক্স অফিসের সাফল্যের নিরিখে কী বলবেন?

ওঁরা যে ভাবে দর্শকের পালস ধরতে পারেন সেটা শেখার মতো। দেখুন, ভাঙার কথা আমি বলছি মানে এ রকম নয় যে যাঁরা ভাঙছেন না আমি তাঁদের বিরোধী। হিচকক বা উডি অ্যালেনতো নিজস্ব ধারায় চলে একটা ইতিহাস গড়েছেন।তবে যাঁরা ছবি নিয়ে ভাঙাচোরা করছেন, যেমন বিরসা দাশগুপ্ত, এটাও কারও ক্ষেত্রে দরকার। কিন্তু অন্যদিকে মৈনাক আবার ওর নিজস্ব ধারায় চলাফেরা করে ‘বিবাহ ডায়েরি’ দেখতে দর্শককে বাধ্য করেছে। আসলে আমাকে এক সময় বাক্সবন্দি করে ফেলার একটা চক্রান্ত হয়েছিল। আমি শুধু ‘অটোগ্রাফ’ বা ‘চতুষ্কোণ’-এর মতো ছবি তৈরি করব। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে চ্যালেঞ্জটা নিই।

আরও পড়ুন, ‘বোল্ড সিন নিয়ে আমার কোনও সমস্যা নেই’

সেই চ্যালেঞ্জের আর একটা ধাপ কি ওয়েব সিরিজ?

ওটাই তো ভবিষ্যৎ। যা সিনেমায় করতে পারব না তা-ই ওখানে করব।

তাহলে আপনার মুম্বই যাওয়া ব্যর্থ হয়নি?

শুধু ওয়েব সিরিজ নয়, দুটো হিন্দি ছবির কাজও হবে। আর মুম্বই নয়। আমি ইংরিজি ছবিও করতে চাই।



‘বড় মাপের পরিচালক আছে যারা আজও সৃজিত মুখোপাধ্যায়কে ছোট করতে পারলে খুশি হয়’

আপনার সঙ্গে আড্ডায় একটা কথা বেরিয়ে এল। টলিউড এখন পাঁচটা পরিচালকে আটকে নেই!

কী বলছেন! মানসমুকুল পাল এসে গেছে, ইন্দ্রাশিস আচার্য দারুণ ছবি তৈরি করছে।পাভেল, ওর সঙ্গে চিত্রনাট্য শেয়ার করে লিখছি। দারুণ ছেলে। আমার নিজের প্রোডাকশন হাউস ওই জন্যই তো খোলা। প্রতীম ‘সাহেব বিবি গোলাম’থেকে ‘আহা রে মন’ করছে, একেবারে অন্য ধারা। ওর ছবিতে গান লিখেছি আমি। ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’র ট্রেলর দেখলে মনেই হবে না ওটা ওর প্রথম ছবি। অরিন্দম শীল কীভাবে সমর্থন করছে ওকে! দেখুন, যে ব্যাটসম্যানের ৫০ অ্যাভারেজ সে নতুন খেলোয়াড় মাঠে নামলে খুশি হবে। কাঠি করবে না।

মানে ইন্ডাস্ট্রিতে আর কাঠি হয় না। সবাই সকলের ভাল চায়। শুনতে কেমন লাগছে...

নাহ্, বড় মাপের পরিচালক আছে যারা আজও সৃজিত মুখোপাধ্যায়কে ছোট করতে পারলে খুশি হয়। নানা রকম স্ট্র্যাটেজিও নেয় তারা। আর সেই খবরও আমি পেয়ে যাই।

অনেক কাজের কথা হল...

হ্যাঁ। আনন্দবাজার ডিজিটালের সাক্ষাৎকারে আমায় কাজ নিয়ে এত কিছু বলতে দেওয়া হল।

নাহ্, একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। রাজনন্দিনী না জয়া আহসান?

ওরে বাবা! রাজনন্দিনী বাচ্চা মেয়ে। আমি ওর মেন্টর। ওর সব কিছু নিয়ে আমার বক্তব্য আছে।

আর জয়া?

(মনে হল একটু ব্লাশ করলেন। জাতিস্মরের সৃজিত বেরিয়ে এল)। জয়ার মতো অভিনেত্রী...জয়ার মতো মানুষ...জয়ার মতো নারী আমি খুব খুব কম দেখেছি। এই সম্পর্ক বন্ধুত্ব, প্রেম বা তার চেয়েও বেশি কিছু।



জয়ার সঙ্গে... ছবি: সৃজিতের ইনস্টাগ্রাম পেজের সৌজন্যে।

আর বিয়ে?

কার সঙ্গে কবে হবে জানি না। তবে আমি বিয়ে করব ভেবেই প্রেম করতে চেয়েছি। এমনও হয়েছে, কোনও আবেগঘন মুহূর্তে কেউ বলে ফেলেছে, ‘‘কাস্টিং-টা কী হল?’’ তার ছিঁড়ে গেছে সেই দিন... প্রেম আর কাজ আমি জীবনেও গুলিয়ে ফেলিনি।

মানে কাজটাই আসল...

বাবা চলে গেল যেদিন, শ্মশানে ওই চিতাভস্ম হাতে নিয়ে বুঝেছিলাম, সব ফুরিয়ে যাবে থেকে যাবে কাজ। আমার চলে যাওয়ার পর মনে হয় পেন ড্রাইভে আমার ওই ছবি, গান, অভিনয় থাকবে। ব্যস, এইটুকু আলো নিয়ে বাঁচি!

আরও পড়ুন

Advertisement