Advertisement
E-Paper

নোলান গুড়

শীত পড়তে না পড়তেই ‘ইন্টারস্টেলার’য়ের রসে মজেছে কলকাতার দর্শক। কেন? লিখছেন প্রিয়াঙ্কা দাশগুপ্তক্রিস্টোফার নোলানের ‘মেমেন্টো’ থেকে এ দেশে আমির খানের ‘গজনী’ দেখা দর্শকের সংখ্যা অনেক বেশি। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ জানেন যে আমিরের ছবির মূল অনুপ্রেরণা ছিল নোলানের ‘মেমেন্টো।’ তবে শুধুমাত্র এই জন্যই যে গোটা দেশে নোলানের নতুন ছবি ‘ইন্টারস্টেলার’ জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেটা বলা ভুল। বক্স অফিস রিপোর্ট দেখে বলা যেতেই পারে যে ইংরেজি ছবির দর্শকের কাছে ‘ইন্টারস্টেলার’ এখন মাস্টওয়াচ লিস্টের শীর্ষে। বোঝো না-বোঝো, ছবিটা নাকি দেখে ফেলতেই হবে গোছের ভাব। না হলে পিছিয়ে পড়ার ভয়!

শেষ আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৪ ০১:০৮

ক্রিস্টোফার নোলানের ‘মেমেন্টো’ থেকে এ দেশে আমির খানের ‘গজনী’ দেখা দর্শকের সংখ্যা অনেক বেশি। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ জানেন যে আমিরের ছবির মূল অনুপ্রেরণা ছিল নোলানের ‘মেমেন্টো।’ তবে শুধুমাত্র এই জন্যই যে গোটা দেশে নোলানের নতুন ছবি ‘ইন্টারস্টেলার’ জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেটা বলা ভুল। বক্স অফিস রিপোর্ট দেখে বলা যেতেই পারে যে ইংরেজি ছবির দর্শকের কাছে ‘ইন্টারস্টেলার’ এখন মাস্টওয়াচ লিস্টের শীর্ষে। বোঝো না-বোঝো, ছবিটা নাকি দেখে ফেলতেই হবে গোছের ভাব। না হলে পিছিয়ে পড়ার ভয়!

কিন্তু কেন এই ক্রেজ? কলকাতা শহরে ইংরেজি সিনেমার চর্চা থাকলেও খানিকটা অদ্ভুত ভাবে সেই ছবি দেখার জন্য হলে খুব একটা ভিড় হয় না। পাইরেটেড ডিভিডি থেকে টরেন্ট ডাউনলোড করে অনেকেই পছন্দের ইংরেজি ছবিগুলো আগেভাগে দেখে ফেলেন। এই ট্রেন্ডের মাঝে কেন তা হলে কলকাতা গা ভাসিয়ে দিচ্ছে ‘ইন্টারস্টেলার’য়ে? “দ্বিতীয় সপ্তাহে বলিউডের হিন্দি রিলিজ ‘কিল দিল’য়ের থেকে ‘ইন্টারস্টেলার’ ভাল করছে। এমনকী এই শিশুদিবসে স্কুলের বাচ্চাদের এই ছবিটা দেখানো হয়েছে! বহু দিন পরে আমরা একটা ইংলিশ ছবির জন্য এত ভাল রেসপন্স পাচ্ছি। এক সময় ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের ছবিগুলো এই রকম জনপ্রিয়তা পেত,” বলছেন আইনক্সের আঞ্চলিক অধিকর্তা শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায়।

এই জনপ্রিয়তার কারণেই তাই তৃতীয় সপ্তাহে এসেও ছবিটা রমরমিয়ে চলছে সারা শহর জুড়ে। আইনক্সের প্রত্যেকটা হলেই তিনটে থেকে চারটে শো রয়েছে ছবিটার। সৃজিত মুখোপাধ্যায় অবশ্য ‘ব্র্যান্ড নোলান’কেই এই চাহিদার কারণ হিসেবে দেখছেন। “এত বছর ধরে নোলান পর পর ভাল ছবি করে আসছেন। স্বাভাবিক ভাবেই দর্শক উত্‌সাহী। জানতে চায় যিনি ‘দ্য ডার্ক নাইট’, ‘ইনসেপশন’য়ের মতো ছবি তৈরি করেছিলেন তাঁর নতুন ছবিটা কেমন হয়েছে।”

ভীষণ ব্যস্ততার মধ্যেও দেব দেখে ফেলেছেন ছবিটা। “আমার বোন এ সব ছবি দেখতে ভালবাসে। আমার জন্য তো টিকিটও কেটে রাখে। তাই আমাকে ওর বডি গার্ড হয়ে যেতে হয়!” হেসে হেসে জানাচ্ছেন দেব। ‘ইন্টারস্টেলার’ দেখে তিনি খুশি। “অনেক সময় সায়েন্স-ফিকশন মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। আর ছবির একটা ইমোশনাল কোর রয়েছে, যেটা সাধারণত সায়েন্স-ফিকশনে দেখা যায় না। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক, ছেলের বড় হয়ে ওঠা এই সব অনুভূতি নিয়ে তো আমরা এদেশে ছবি করি। ‘ইন্টারস্টেলার’ য়ের মতো সায়েন্স ফিকশন যে একই রকম অনুভূতি উস্কে দেবে তা ভাবিনি। কিছু দৃশ্যে তো আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল,” বলছেন দেব।

সৃজিতের ছবিটা ভাল লাগলেও, তার ‘ইমোশনাল কোর’য়ের ব্যাপারটা নতুন লাগেনি। “পরশুরামের একটা ছোটগল্প পড়েছিলাম। নাম ‘রেবতীর পতিলাভ’। সেখানেই আমি এই ‘ইমোশনাল কোর’, টাইম ডিফারেন্স ব্যাপারটার সঙ্গে প্রথম পরিচিত হই,” জানাচ্ছেন তিনি। ছবি তৈরির দিক থেকে যে কোনও নোলান ছবির স্ট্যান্ডার্ডেই এটাকে রাখা যায় বলেই মনে করছেন তিনি। তবে তাঁর প্রিয় তিনটি নোলান ছবির মধ্যে প্রথম স্থানে রাখবেন ‘দ্য ডার্ক নাইট’কে। দ্বিতীয় স্থানে ‘মেমেন্টো’। তৃতীয় স্থানে ‘ইনসেপশন’।

শুধু ছবিটা নয়, কলকাতায় এখন অনেকেই ‘ইন্টারস্টেলার’ নিয়ে তৈরি নোলানের কমিক স্ট্রিপেও উত্‌সাহী। ফেসবুক-এ শেয়ার হচ্ছে নোলানের ‘ইন্টারস্টেলার’য়ের হারিয়ে যাওয়া চ্যাপ্টার নিয়ে একটা কমিক স্ট্রিপ। নাম ‘অ্যাবসোলিউট জিরো’, যার কেন্দ্রবিন্দু এ ছবির এক চরিত্র (যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন)। কলকাতায় ছবিটা মুক্তি পাওয়ার দিনই সেটা দেখেছেন ‘চন্দ্রবিন্দু’র অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। “নোলানের চাহিদার সঙ্গে টাইম র্যাপ-এর ইউনিকনেস দর্শককে টানছে। এটা শুধুমাত্র একটা ফিল্ম নয়। দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল আমিও চলে যাচ্ছি ‘ওয়ার্মহোল’য়ের মধ্যে দিয়ে। দেখে মনে হল একটা সিনেম্যাটিক এক্সপেরিয়েন্স। এই নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ পাওয়ার লোভেই এই ছবি দেখার ক্রেজ। কমিক স্ট্রিপ নিয়ে ক্রেজটার কারণটাও তাই,” বলছেন অনিন্দ্য।


অনেক সময় সায়েন্স-ফিকশন
মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়।
এ ক্ষেত্রে তা হয়নি।
অনুভূতিপ্রবণ ছবি
দেব


ব্র্যান্ড নোলানের জন্যই এ ছবির
চাহিদা এত বেশি। দর্শক জানতে
চাইছে এ বার পরিচালক
নতুন কী দিলেন
সৃজিত


মুক্তির প্রথমদিনেই ছবিটা
দেখেছি। এ শুধু একটা
সিনেমা নয়। দেখাটাই
একটা অভিজ্ঞতা
অনিন্দ্য

যাঁরা ছবিটা দেখেছেন তাঁদের মধ্যে সব্বাই যে ছবিটা নিয়ে একদম লাফালাফি করছেন এমনটাও দাবি করা যায় না। অনিন্দ্যর নিজের মনে হয়েছে কিছু জায়গায় ছবি একটু স্লো। হ্যান্স জিমের-এর মিউজিক স্কোর নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হলিউড এ নিয়ে সরব। টিপ্পনী কেটে কলকাতায় কেউ কেউ বলছেন এ ছবির স্কোর নাকি বস্তাপচা বাংলা ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের মতোই শুনতে লাগছে! মাঝেমাঝে এতটাই লাউড যে সংলাপই শোনা যাচ্ছে না। পাছে কেউ ভাবে এটা বিদেশে আইম্যাক্স থিয়েটারের অডিয়ো সিস্টেমের গোলযোগের জন্যই হচ্ছে, নোলান নিজে মুখ খুলেছেন এই সাউন্ড স্কোর বিতর্ক নিয়ে। পরিষ্কার জানিয়েছেন যে ইচ্ছে করেই সাউন্ড মিক্সটা করেছেন একটা লেয়ার্ড এফেক্টের জন্য!

এত তর্কবিতর্ক-জনপ্রিয়তার মাঝে অনেক অস্কারোলোজিস্টের ধারণা যে ‘ইন্টারস্টেলার’ এ বছর পাঁচটা অস্কার পেয়ে যেতেই পারে। তার মধ্যে থাকতে পারে বেস্ট এডিটিং, সাউন্ড এডিটিং, সাউন্ড মিক্সিং আর ভিস্যুয়াল এফেক্টস। গত বছর মহাকাশযাত্রা নিয়ে তৈরি ‘গ্র্যাভিটি’ পেয়েছিল সাতটা অস্কার। সে রেকর্ড কি ছুঁতে পারবে ‘ইন্টারস্টেলার’? ‘গ্র্যাভিটি’ আর ‘ইন্টারস্টেলার’য়ের মধ্যে তুলনা করলে দেবের অবশ্য বেশি পছন্দ ‘গ্র্যাভিটি’। সৃজিতেরও তাই। এ বছর সেরা ছবির পুরস্কারের দৌড়ে ‘ইন্টারস্টেলার’য়ের থেকে ‘বয়হুড’, ‘আনব্রোকেন’, ‘বার্ডম্যান’, ‘দ্য ইমিটেশন গেম’, ‘গন গার্ল’কে এগিয়ে রাখছেন অনিন্দ্য।

এত দিন ধরে এত ভাল ছবি বানিয়েও সেরা পরিচালকের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডটা জোটেনি নোলানের কপালে। ‘ইন্টারস্টেলার’কে দিয়ে কি শিঁকে ছিঁড়বে নোলানের? গত বছর ‘ডালাস বায়ার্স ক্লাব’য়ের জন্য সেরা অভিনেতার অস্কার পেয়েছিলেন ‘ইন্টারস্টেলার’য়ের নায়ক ম্যাথিউ ম্যাকনাহি। কিন্তু পরিচালক নোলান নিজে এখনও অস্কারের স্বাদ পাননি। তবে সে বিভাগে প্রতিযোগিতাও কম নেই। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি (‘আনব্রোকেন’) থেকে ক্লিন্ট ইস্টউড (‘আমেরিকান স্নাইপার’) সব্বাই এখনও সেরা পরিচালকের দৌড়ে।

কাউন্টডাউন শুরু হয়েই গিয়েছে। জানুয়ারিতে মনোনয়ন প্রকাশের জন্য।

insterteller christopher nolan deb srijit anindya priyanka dasgupta
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy