×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৬ মে ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

দেশের প্রথম মহিলা পরিচালক, ইনি বলিউডের এক নায়িকার প্রমাতামহী

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৮ নভেম্বর ২০২০ ১০:০০
মীরা নায়ার, জোয়া আখতার, দীপা মেহরা, অপর্ণা সেন কিংবা ফারহা খান। ভারতীয় ফিল্মের মহিলা পরিচালকের প্রসঙ্গ উঠলে এঁদের নাম খুব সহজেই মুখে চলে আসে। এঁদের নাম শোনেননি এমন ফিল্মরসিক খুঁজে পাওয়া দুস্কর।

অথচ প্রায় ১০০ বছর আগে ছুঁৎমার্গ ভেঙে ভারতীয় ফিল্মে মীরা নায়ার, ফারহা খানদের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন যিনি তাঁকে দেশবাসী ভুলতে বসেছে।
Advertisement
ফাতিমা বেগম। ভারতের প্রথম মহিলা পরিচালক হিসাবে গণ্য করা হয় তাঁকে। অথচ ইতিহাসে তিনি জায়গা করে নিলেও হাতে গোনা কয়েক জনই মাত্র তাঁর নাম শুনেছেন।

তাঁর সম্পর্কে খুব বেশি তথ্যও পাওয়া যায় না। অনেকের মতে তিনি গুজরাতের নবাব তৃতীয় সিদি ইব্রাহিম মহম্মদ ইয়াকুত খানের বেগম ছিলেন। কিন্তু নবাবের পারিবারের সদস্যদের তালিকায় কোথাও তাঁর নাম পাওয়া যায় না।
Advertisement
ফাতিমার তিন মেয়ে জুবেইদা, সুলতানা এবং শেহজাদিকেও নবাব নিজের মেয়ে বলে কোথাও উল্লেখ করেননি।

তাঁর জন্ম ভারতের কোন জায়গায় হয়েছিল সে তথ্যও নেই। শুধু এটুকু জানা যায়, ১৮৯২ সালে ভারতের এক মুসলিম পরিবারে জন্ম তাঁর।

ভারতীয় ফিল্মে মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে উঠে আসা ফাতিমার অবদান অনেক। ফিল্মে অভিনয় এবং পরিচালনা করে মহিলাদের শুধুমাত্র কেরিয়ার গড়ে তোলার নতুন দিশাই শুধু দেখাননি তিনি, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জড়তাও কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেন।

ভারতীয় ফিল্মে তখন শুধুমাত্র পুরুষদেরই জায়গা ছিল। মহিলার বেশে পুরুষরাই অভিনয় করতেন। আর কোনও সম্ভ্রান্ত পরিবারের মহিলাদের ফিল্মে প্রবেশ ছিল একেবারেই নিষিদ্ধ। হাতে গোনা যে কয়েক জন মহিলা ফিল্মে অভিনয় করতেন তাঁদের একেবারে ভাল চোখে দেখা হত না।

সেই হাতে গোনা কয়েক জনের মধ্যেই অন্যতম ছিলেন ফাতিমা। শুধু অভিনয়েই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি হাতে ক্যামেরাও তুলে নিয়েছিলেন।

মাত্র ৪ বছরের ফিল্ম কেরিয়ারে তিনি নির্বাক ফিল্মের নায়িকা থেকে পরিচালনায় হাত দেন। এর পাশাপাশি অবশ্য ফিল্মে অভিনয়ও করতেন।

তাঁর প্রথম অভিনীত ফিল্ম ১৯২২ সালে ‘বীর অভিমন্যু’। এর ৪ বছর পর তিনি ‘ফাতিমা ফিল্মস’ গড়ে তোলেন। সেটাই পরে ভিক্টোরিয়া ফাতিমা ফিল্মস নামে পরিচিত হয়।

তাঁর পরিচালনায় প্রথম ফিল্ম ‘বুলবুল ই পেরিস্তান’। সুপারহিট এই ফিল্মটিই ছিল প্রথম দেশীয় ফিল্ম যেখানে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছিল। তখনকার বিগ বাজেট ফিল্ম ছিল এটি। প্রচুর স্পেশ্যাল এফেক্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। এর আগে আর কোনও ফিল্মে স্পেশ্যাল এফেক্ট ব্যবহার করা হয়নি।

এর পর ১৯২৯ সালে ‘গডেস অব লাক’ ফিল্মটিও ছিল তাঁর পরিচালিত। ১৯৩৮ সালের ‘দুনিয়া ক্যায়া হ্যায়?’ ছিল তাঁর শেষ অভিনীত ফিল্ম।

ফাতিমা ফিল্ম কেরিয়ার শুরু করেছিলেন অনেকটাই দেরিতে। তিনি ফিল্মে পা দেওয়ার আগে তাঁর ৩ মেয়ে নির্বাক ফিল্মে অভিনয় শুরু করে দিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম ফিল্ম ‘বীর অভিমন্যু’-তে তাঁর সঙ্গে ৩ মেয়েকেও স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যায়।

কোনও পরিবারের সমস্ত সদস্যই একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করছেন ফিল্ম ইতিহাসে প্রথম ঘটনা এটিই।

ফাতিমা বলিউড মডেল এবং অভিনেত্রী রিয়া পিল্লাইয়ের প্রমাতামহী।

১৯৮৩ সালে ৯১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। শেষ জীবনে মেয়ে জুবেইদা তাঁর পাশে ছিলেন।