Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বিনোদন

ব্রিটিশ যুবরাজকে প্রকাশ্য চুম্বন, কৈশোরেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন পদ্মিনী কোলাপুরী

নিজস্ব প্রতিবেদন
৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ ১০:৪৫
অভিনেত্রী না হয়ে গায়িকা হলেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারতেন। এমনটাই বলা হয় পদ্মিনী কোলাপুরী সম্পর্কে। অনেকেই জানেন না, আটের দশকের এই সুপারহিট নায়িকা মঙ্গেশকর পরিবারের দূর সম্পর্কের আত্মীয়।

পদ্মিনীর জন্ম ১৯৬৫ সালের ১ নভেম্বর। তাঁর বাবা পন্ধরীনাথ কোলাপুরী ছিলেন নামী ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী এবং বীণাবাদক। মা নিরূপমা ছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার গ্রাউন্ড স্টাফ। তিনি জন্মগতভাবে কোঙ্কনি পরিবারের মেয়ে ছিলেন। ফলে ছোট থেকেই মিশ্র সংস্কৃতিতে বড় হন পদ্মিনী।
Advertisement
তিন বোনের মধ্যে পদ্মিনী ছিলেন দ্বিতীয়। বড় বোন শিবাঙ্গী এবং ছোট বোন তেজস্বিনীও অভিনয় করেছেন। শিবাঙ্গী বিয়ে করেন অভিনেতা শক্তি কপূরকে। তাঁদের মেয়ে শ্রদ্ধা এবং ছেলে সিদ্ধান্ত বলিউডের এই প্রজন্মের অভিনেতা। ছোট বোন তেজস্বিনী বিয়ে করেছেন পঙ্কজ সারস্বতকে। তাঁদের একমাত্র মেয়ের বয়স চার বছর।

বিনোদন দুনিয়ায় পদ্মিনীর আত্মপ্রকাশ গায়িকা হিসেবে। ‘ইয়াদোঁ কি বরাত’, ‘কিতাব’, ‘দুশমন দোস্ত’-সহ কিছু সিনেমায় তিনি বোন শিবাঙ্গীর সঙ্গে শিশুশিল্পী হিসেবে গান গেয়েছেন।
Advertisement
পরবর্তীকালেও গানের ধারা বজায় রেখেছিলেন পদ্মিনী। ‘বিধাতা’, ‘দানা পানি’-সহ নিজের কিছু ছবিতে তিনি প্লে-ব্যাক করেছিলেন। গান করেছেন কিশোর কুমারের সঙ্গেও। বাপ্পি লাহিড়ীর সঙ্গে তাঁর অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে। বাপ্পির সঙ্গে পদ্মিনী পারফর্ম করেছেন লন্ডনের অ্যালবার্ট হলে।

শিশুশিল্পী হিসেবে পদ্মিনীর প্রথম অভিনয় ১৯৭৫ সালে, ‘ইশক ইশক ইশক’ ছবিতে। আশা ভোঁসলের কথায় তাঁকে সুযোগ দেন দেব আনন্দ। এর পর আর সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি প্রতিভাময়ী পদ্মিনীকে। অভিনয় করেন ‘ড্রিমগার্ল’, ‘সজন বিনা সুহাগন’, ‘গ্যহ্‌রাই’-এর মতো ছবিতে।

এই সময়ে পদ্মিনীর সব থেকে উল্লেখযোগ্য কাজ ১৯৭৮ সালে, ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ ছবিতে। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ছবির নায়িকার ভূমিকায় কাজের সুযোগ পান পদ্মিনী। মেয়ের কাজ বেড়ে যাওয়ায় পদ্মিনীর মা এয়ার ইন্ডিয়ার চাকরি ছেড়ে দেন। তিনিই প্রাথমিক ভাবে মেয়ের শুটিংয়ের সূচি সামলাতেন।

পরিচিতি ও খ্যাতির পাশাপাশি এই সময়ে পদ্মিনী জড়িয়ে পড়েন বিতর্কেও। ১৯৮০ সালে ভারতসফরে এসেছিলেন প্রিন্স চার্লস। সৌজন্য সাক্ষাতের পরে চার্লসের গালে চুম্বন করেছিলেন পদ্মিনী। পনেরো বছরের কিশোরীর প্রকাশ্যে এই আচরণ মেনে নিতে পারেনি তৎকালীন সংবাদমাধ্যম। বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। (ছবি: ফেসবুক)

১৯৮০ সালে ‘ইনসাফ কা তরাজু’ ছবিতে তাঁর বলিষ্ঠ অভিনয় পায়ের তলায় শক্ত জমি এনে দেয়। হলিউডি ছবি ‘লিপস্টিক’-এর রিমেক এই ছবিতে পদ্মিনী অভিনয় করেছিলেন ধর্ষিতার ভূমিকায়।

পাশাপাশি তাঁর কেরিয়ারে উল্লেখযোগ্য ছবি ‘আহিস্তা আহিস্তা’, ‘বিধাতা’, ‘প্রেমরোগ’, ‘মজদুর’, ‘সওতন’, ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’ ‘বেওয়াফাই, ‘সুহাগন’ এবং ‘হাম ইন্তেজার করেঙ্গে’। পর্দায় ঋষি কপূর এবং মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল সুপারহিট।

পরিশ্রমী বলে ইন্ডাস্ট্রিতে সুনাম ছিল পদ্মিনীর। গায়ে জ্বর নিয়েও তিনি শুটিং করেন ‘দো দিলোঁ কি দস্তান’ ছবির। নবাগত অনিল কপূরের সঙ্গে তিনি ‘ওহ সাত দিন’ ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হন। ছবিটি সুপারহিট হয়। অনিল কপূরকে পরিচিতি পেতে সাহায্য করে। পরবর্তী কালে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে পদ্মিনীর প্রতি বারবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পর্দার ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’।

‘অ্যায়সা প্যায়ার কঁহা’ ছবির শুটিংয়ের সময় পদ্মিনীর সঙ্গে আলাপ হয় প্রযোজক প্রদীপ শর্মার। আলাপ থেকে প্রণয়। সংক্ষিপ্ত প্রেমপর্বের পরে দু’জনে বিয়ে করেন ১৯৮৬ সালে। ছেলে প্রিয়ঙ্কের জন্মের পরে ছবি করা কমিয়ে দেন পদ্মিনী। নয়ের দশকে তিনি অভিনয় প্রায় করেননি বলেই চলে। তবে এই সময়ে ১৯৯৯ সালে তাঁর প্রযোজনায় মুক্তি পায় নাগেশ কুকুনুরের ‘রকফোর্ড’ ছবিটি।

২০০৪ সালে দীর্ঘদিন পরে ইন্ডাস্ট্রিতে ফিরে আসেন পদ্মিনী। অভিনয় করেন মরাঠি ছবি ‘মন্থন’ এবং ‘চিমনি পখর’-এ। নতুন ইনিংসে প্রশংসিত হয় তাঁর কাজ। এর পর তিনি অভিনয় করেন হেলেনের সঙ্গে ‘মেরা বচপন’ ছবিতে। শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’-এর অনুসরণে মালয়লম ছবি ‘কর্মযোগী’-তেও তাঁকে দেখা গিয়েছে।

২০১৩ সালে কমেডি ছবি ‘ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো’-তে শাহিদ কপূরের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন পদ্মিনী। এর পরের বছরগুলিতে আবার ছবিতে অভিনয় বেশ কমিয়ে দেন তিনি। বিরতি কাটিয়ে সম্প্রতি তাঁকে দেখা গেল আশুতোষ গোয়ারিকরের পরিচালনায় ‘পানিপথ’ ছবিতে গোপিকা বাঈ-এর ভূমিকায়।

কাজ করেছেন টেলিভিশনেও। আইকনিক মেগা সিরিয়াল ‘কিঁউ কি সাস ভি কভি বহু থি’ থেকে স্মৃতি ইরানি বিদায় নেওয়ার পরে তুলসি ভিরানির চরিত্রে পদ্মিনীরই অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু কোনও এক কারণে চরিত্রটি চলে যায় গৌতমী কপূরের কাছে।

‘এক দুজে কে লিয়ে’, ‘সিলসিলা’, ‘রাম তেরি গঙ্গ মইলি’-র মতো সুপারহিট ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ প্রথমে এসেছিল পদ্মিনীরই কাছে। কিন্তু ব্যস্ত সূচির জন্য তিনি সে সুযোগ ফিরিয়ে দেন। এখন তিনি দেশের বিভিন্ন শহরে অভিনয় ও মডেলিং শেখানোর প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। রয়েছে নিজের বুটিকও।