Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৩ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

প্রায়ই ঋষি-রণধীরের ভর্ৎসনার শিকার হতেন, কপূর পরিবারে পাত্তাই পেতেন না রাজীব!

নিজস্ব প্রতিবেদন
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৫:৫৯
রাজীব কপূরের উপর কি তাঁর পরিবারের অসম্ভব চাপ ছিল? বাবা এবং দাদাদের কাছে প্রায়ই ভর্ৎসনার শিকার হতে হত ছোট ভাই রাজীবকে? তাঁর মৃত্যুর পরে সংবাদমাধ্যমে সে রকমই দাবি করেছেন রাজা মুরাদ।

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা রাজা মুরাদ জানিয়েছেন, রাজীব তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তিনি রাজীবের পরিচালনা এবং প্রযোজনায় কাজ করেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে খুব কাছ থেকে দেখেছেন রাজীবকে।
Advertisement
স্মৃতিচারণায় রাজা মুরাদ বলেছেন ‘প্রেম রোগ’ ছবির কথা। ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবির পরিচালক ছিলেন রাজ কপূর। বাবার এই ছবিতে সহকারী পরিচালকের কাজ করেছিলেন রাজীব।

ছবির নায়ক ছিলেন ঋষি কপূর। তাঁর বিপরীতে নায়িকা ছিলেন পদ্মিনী কোলাপুরী। তাঁদের সঙ্গেই ছবির আর এক অভিনেতা ছিলেন রাজা মুরাদ। ছবির শ্যুটিঙের  সময় তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন রাজীব কপূরকে।
Advertisement
তিনি জানিয়েছেন, ছবির শ্যুটিংয়ে রাজীব সামান্য ভুল করলেই রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে যেতেন দাদা ঋষি। ইউনিটের বাকিদের সামনেই তিরস্কার করতেন ভাই রাজীবকে।

রাজা মুরাদের এও মনে আছে, দাদার বকাবকিতে বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করতেন না রাজীব। বরং, মাথা নিচু করে নিজের ভুল স্বীকার করে নিতেন তিনি।

সকলের সামনে দাদার কথার উত্তর না দিলেও পরে বন্ধু মুরাদের কাছে মনের কথা বলতেন রাজীব। তিনি নাকি দুঃখপ্রকাশ করতেন এই বলে যে, পরিবারে সবথেকে ছোট সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া খুব দুর্ভাগ্যজনক।

শোনা যায়, ছোট ছেলে রাজীবের কেরিয়ার নিয়ে বিন্দুমাত্র উৎসাহ ছিল না রাজ কপূরের। তিনি ব্যস্ত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে রণধীর এবং ঋষিকে প্রতিষ্ঠা করা নিয়েই।

সুপারহিট ‘হেনা’ ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করতে চেয়েছিলেন রাজীব। কিন্তু রাজ কপূর এবং রণধীর কপূরের পছন্দ ছিল ঋষি কপূর।

শেষ অবধি সেটাই হয়। ‘হেনা’-র নায়ক হন ঋষি কপূর। পাকিস্তানি নায়িকা জেবা বখতিয়ারের বিরুদ্ধে জুটি বেঁধে তাঁর অভিনয় বাজিমাত করেছিল বক্স অফিসে।

ছবির পরিচালক ছিলেন রাজ কপূর ও রণধীর কপূর। রাজীবের ভূমিকা ছিল রণধীরের সঙ্গে ছবির সহ-প্রযোজকের।

 পরিবারে কোণঠাসা হয়ে থাকলেও রাজীব কোনও দিন প্রকাশ্যে কপূর পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি।

 কপূর পরিবারে নাকি রাজীবের অবস্থা ছিল ফুটবলের মতো। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ধাক্কা খেতে হত তাঁকে। এমনই মত তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের।

মনের দুঃখ প্রকাশ্যে আনতেন না রাজীব। গুমরে থাকতেন নিজের মধ্যেই। মনে করেন রাজা মুরাদের মতো তাঁর অন্য ঘনিষ্ঠজন। রাজীবের মৃত্যুর পরে তাঁর গোপন এবং চাপা ক্ষোভ অবশেষে প্রকাশিত হচ্ছে বন্ধুদের মুখেই।