×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৬ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

পূজা ভট্টের সঙ্গে লিভ ইন থেকে কঙ্কনার সঙ্গে বিচ্ছেদ, ব্যক্তিগত জীবনেও স্থায়িত্ব নেই রণবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদন
১৭ জানুয়ারি ২০২১ ১১:২১
রণবীর শোরে। একেবারে শূন্য থেকে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। পাশে দাঁড়ানোর জন্য বলিউডে কোনও পরিচিত ছিল না তাঁর। তাই বারবার থমকে থমকেই এগিয়েছে কেরিয়ার। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে পা দেওয়ার পর তাঁকে এসির যন্ত্রাংশ বিক্রি করে পেট চালাতে হয়েছে।

জালন্ধরে জন্ম রণবীরের। কিন্তু এক বছর বয়সেই তাঁর পরিবার মু্ম্বই চলে আসে। তাঁর বাবা এক জন ফিল্ম প্রযোজক ছিলেন। কিন্তু তিনি কেরিয়ারে সফল হতে পারেননি। বলিউডে আসার আগেই তাই ব্যর্থতা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন রণবীর। কোন পথে গেলে ব্যর্থতা আসতে পারে তার আন্দাজও ছিল।
Advertisement
রণবীর চেয়েছিলেন ফিল্মমেকার হতে। কেরিয়ারের শুরুতে প্রচুর স্ট্রাগল করতে হয়েছে তাঁকে। এমনও হয়েছে সেটে গিয়ে সারা দিন বসে থেকে বাড়ি ফিরেছেন। তাঁকে কোনও কাজ দেওয়া হয়নি।

বাধ্য হয়েই পকেটমানির জন্য টুকটাক কাজ করতে হয়েছে। টাইপ রাইটারের যন্ত্রাংশ, এসির যন্ত্রাংশ বিক্রি করে উপার্জন করেছেন।
Advertisement
তার পর বেশ কিছু শো-এ সেগমন্ট ডিরেক্টরের কাজ করেছেন। কিন্তু আশানুরূপ উপার্জন করতে পারছিলেন না তিনি। তার পরই ২০০২ সালে তাঁর অভিনয়ে আসা।

২০০২ সালে মনিষা কৈরালার বিপরীতে ডেবিউ করেন তিনি। ফিল্মের নাম ছিল ‘এক ছোটিসি লভ স্টোরি’। ২০০৩ সালে তাঁর পরবর্তী ছবি ‘জিসম’ সুপারহিট হয়। কিন্তু এই ফিল্মে খুব ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রণবীর। তাই সে ভাবে নজরে পড়েননি।

এই ফিল্মটি করার সময় থেকেই পূজা ভট্টের সঙ্গে পরিচয় এবং খুব কম দিনের মধ্যে তাঁরা ঘনিষ্ঠ হয়ে যান। মুম্বইয়ের বান্দ্রায় পূজার ফ্ল্যাটে লিভ ইন করতেন তাঁরা। কিন্তু বেশি দিন তাঁদের এই সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি।

রণবীরের অভিযোগ, পূজা মদ্যপানের পর নিজেকে ঠিক রাখতে পারতেন না। এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। অভিযোগ, এ রকম এক বার তুমুল অশান্তির পর পূজার ভাই নাকি তাঁকে লোহার রড দিয়ে মেরেও ছিলেন।

সে সব দিনের কথা পিছনে ফেলে অনেক এগিয়ে এসেছেন রণবীর। কিন্তু ভট্ট পরিবারের সঙ্গে এই অশান্তি তাঁর কেরিয়ারে যথেষ্ট ছাপ ফেলেছিল। অভিনয়ে অত্যন্ত সাবলীল হওয়া সত্ত্বেও তাই মুখ্য ভূমিকায় বেশি দেখা যায়নি তাঁকে।

২০০৩ থেকে ২০০৬ এই ৩ বছর তেমন কোনও কাজও পাননি তিনি। টুকটাক কিছু কাজ করলেও তাঁর অভিনয় চোখে পড়ত না কারও। ২০০৬ সাল ছিল তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে ভাল সময়।

এই বছরই ‘খোসলা কা ঘোসলা’ কমেডি ফিল্মে তাঁর অভিনয় পছন্দ করেন দর্শক। এর পর একাধিক ফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ আসতে শুরু করে।

তবে বরাবারই বলিউডের কমার্শিয়াল ফিল্মে তেমন অভিনয়ের সুযোগ তাঁর কাছে আসেনি। বরং সমান্তরাল ফিল্মের জনপ্রিয় অভিনেতা হয়ে উঠেছেন তিনি।

২০১৫ সালের ‘তিতলি’, পরের বছর ‘আ ডেথ ইন দ্য গুঞ্জ’, ‘করভি হাওয়া’, ‘হালকা’, ইরফান খানের সঙ্গে ‘আংরেজ়ি মিডিয়াম’-এ তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গিয়েছে।

প্রথমে পূজা ভট্ট এবং পরে কঙ্কনা সেনশর্মা। কেরিয়ারের মতোই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও যেন বারবারই থমকে গিয়েছে।

২০০৮ সালে দীর্ঘ দিনের পরিচিত বান্ধবী কঙ্কনা সেনশর্মাকে বিয়ে করেন তিনি। ‘ট্রাফিক সিগনাল’, ‘মিক্সড ডাবলস’, ‘গৌর হরি দস্তান’-এর মতো ফিল্মে একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তাঁরা।

কিন্তু বিয়ের পর তাঁদের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। বিয়ের ৫ বছর পর তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের এক সন্তান রয়েছে। তবে বিচ্ছেদ হলেও দু’জনের বন্ধুত্ব এখনও রয়েছে এবং সন্তানের দায়িত্ব দু’জনে মিলে ভাগ করে নেন।