×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৭ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

বি গ্রেড থেকে সলমনের ছবিতে, প্রত্যুষার প্রেমিকের জন্য ভাঙে এই নায়িকার দাম্পত্য

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১০:৫৮
সঞ্জয় দত্ত এবং দেব আনন্দের আত্মীয়া এই প্রাক্তন ভারতসুন্দরী বলিউডে পা রেখেছিলেন ভয়ের (হরর) ছবি দিয়ে। ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকার পরেও তাঁকে কাজ করতে হয়েছে দ্বিতীয় সারির ছবিতে। প্রথম সারির তারকাদের সঙ্গে কাজ করেও প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছতে পারেননি সহিলা চড্ঢা।

অভিনেত্রী হওয়ার অনুপ্রেরণা সহিলা পেয়েছিলেন তাঁর বাবা বিমলের কাছ থেকে। বিমল ছিলেন দেব আনন্দের সহকারী। আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ছোট থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল সহিলার। কিন্তু অভিনয় জীবনে পা রাখার আগেই সহিলার বাবা-মা মারা যান। ফলে ব্যক্তিগত জীবন, না কেরিয়ার কোনটা সামলাবেন, এই দ্বন্দ্বে তিনি বিধ্বস্ত হয়ে যান।
Advertisement
একটি দক্ষিণী ছবিতে ‘টারজান’-এর ভূমিকায় অভিনয় করে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন সহিলা। তাঁর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘লেডি টারজান’। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় ‘বীরানা’। এই ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন জেসমিন। সহ-নায়িকার ভূমিকায় ছিলেন সহিলা। বিপরীতে ছিলেন হেমন্ত বিরজে।

হেমন্ত-সহিলা জুটি অনেক ছবিতেই অভিনয় করে বাজিমাত করেছে। ‘জান লড়া দেঙ্গে’, ‘আজ কা স্যামসন’ এই জুটির অন্যতম সফল ছবি। একসঙ্গে কাজ করার সময় তাঁদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল বলে শোনা যায়।
Advertisement
বক্স অফিসে সুপারহিট হয়েছিল ‘বীরানা’। বলিউডের সুপারহিট হরর ছবিগুলির মধ্যে জনপ্রিয়তার প্রথম সারিতে পড়ে এই ছবিটি। কিন্তু প্রথম ছবিতে সাফল্যের পরেও সহিলাকে কিছু দ্বিতীয় সারির ছবিতে অভিনয় করতে হয়েছিল। ১৯৯২ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘মা’। এই ছবিতে কাদের খানের সঙ্গে তাঁর গানের দৃশ্যায়ন পছন্দ হয়েছিল দর্শকদের। এই ছবির সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় সারির ছবি থেকে মূলস্রোতে ফিরে আসেন তিনি।

১৯৯৪ সালে ব্লকবাস্টার ‘হম আপকে হ্যায় কৌন’-এ রীতার ভূমিকায় অভিনয় করেন সহিলা। এই ছবি তাঁকে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন পরিচয় পেয়ে জায়গা তৈরি করতে সাহায্য করে। এর পর ‘চাঁদ কা টুকরা’ ছবিতে তিনি সলমন খানের সঙ্গে অভিনয় করেন। এর পর ‘তিরচি টোপিওয়ালে’, ‘আন্টি নাম্বার ওয়ান’, ‘ওয়ান টু কা ফোর’-সহ বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন সহিলা।

বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করার পরে কেরিয়ার থিতু হওয়ার সময়েই বিয়ে করেন নেন তিনি। তাঁর স্বামী নিমাই বালিয়া হলেন সুনীল দত্তের বোন রাজরানি বালির ছেলে। নিমাই-সহিলার একমাত্র মেয়ের নাম ‘প্রিন্সেস’।

বিয়ের কিছু বছর পর থেকেই দাম্পত্যে ফাটল দেখা দেয়। সহিলার অভিযোগ ছিল, বিবাহিত নিমাই একইসঙ্গে অনেক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। ফলে মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন সহিলা। পরে তাঁদের মধ্যে সব ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়। আবার একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন দু’জনে।

২০০০ সালের পর থেকে অভিনয় করা কমিয়ে দেন সহিলা। তিনি আবার শিরোনামে উঠে আসেন ২০১৭ সালে। প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার ঘটনায়। প্রসঙ্গত, প্রত্যুষার তৎকালীন বয়ফ্রেন্ড রাহুল রাজ সিংহ ছিলেন সহিলার বিশেষ পরিচিত। স্বামীর সূত্রেই রাহুলের সঙ্গে তাঁর আলাপ। পরে রাহুল হয়ে ওঠেন প্রত্যুষার ‘রাখি ব্রাদার’।

এতটাই ঘনিষ্ঠ ছিল সম্পর্ক, সহিলার বাড়িতেই থাকতেন রাহুল। কিন্তু প্রত্যুষার রহস্যমৃত্যুতে অভিযুক্ত হওয়ার আগে থেকেই রাহুলের বিরুদ্ধে বহু ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের সঙ্গে তিনি প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ। ফলে রাহুলকে তাঁদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন সহিলার স্বামী নিমাই।

কিন্তু এই প্রসঙ্গে আরও এক বার নিমাইয়ের সঙ্গে সহিলার টানাপড়েন দেখা দেয়। সহিলার দাবি ছিল, রাহুল তাঁদের সঙ্গেই থাকবেন। শেষে নাকি এমন পরিস্থিতি হয়ে যায়, সহিলাকে তাঁর স্বামী দু’টো বিকল্প দেন। বাড়িতে হয় নিমাই থাকবেন, নয়তো তিনি নিজে থাকবেন।

এর পরেও সহিলা বেছে নেন রাহুলকেই। সে সময় তাঁদের সম্পর্ককে নিছক ‘ভাইবোনের’ সম্পর্ক হিসেবে দেখতে রাজি ছিলেন না নিমাই। তিনিই শেষ অবধি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। অভিযোগ, এর পরেও রাহুলের মধ্যে কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। তিনি নিমাইয়ের বাড়ি, গাড়ি, এমনকী, পোশাকও ব্যবহার করতেন।

অন্যদিকে সহিলার দাবি ছিল, নিমাইয়ের মধ্যে কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। তিনি আগের মতোই মহিলা অনুরাগী ছিলেন। কাম্যা পঞ্জাবি-সহ একাধিক মহিলার তিনি ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে অভিযোগ করেন সহিলা। কাম্যার জন্যই তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে দাবি সহিলার।

পরবর্তী সময়েও প্রত্যুষার মৃত্যুর পরে কাম্যা পঞ্জাবি নিমাইয়ের পাশে দাঁ‌ড়িয়ে আঙুল তুলেছিলেন রাহুলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, সে সময়েও সহিলা ছিলেন রাহুলের পাশে। প্রত্যুষার মৃত্যুর পরে নিমাই-সহিলা সম্পর্ক বরাবরের জন্য ভেঙে যায়।

বলিউডের সঙ্গে জড়িতে থাকলেও সহিলা আর অভিনয় করেন না। তাঁর কথায়, বিভিন্ন কাজের জন্য তিনি সময় পান না অভিনয়ের। বড় কোনও চরিত্রে সেভাবে সুযোগ না পেলেও সহিলার অভিনীত চরিত্রগুলি দাগ কেটে গিয়েছে দর্শকদের মনে।