ইবোলা রুখতে কিঞ্চিত্ আশার কথা শোনাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ইবোলা আক্রান্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি, সিয়েরা লিয়ন এবং লাইবেরিয়াতে আশাপ্রদ কাজ করছে ইবোলা প্রতিরোধকারী টিকা, বলে জানাল হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন ইবোলা আক্রান্তদের দেশগুলির মানুষজন। হু-র তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইবোলায়।

প্রায় চার দশক আগে ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলার প্রকোপের কথা জানতে পারা যায়। তার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫ বার আঘাত হেনেছে এই রোগ। কিন্তু প্রতি বারই আফ্রিকার ভিতরের দিকের দেশগুলিতেই তার প্রকোপ থেমে থেকেছিল। চিকিত্সকদের মতে, যথাযথ পরিকাঠামো থাকলে অনেক আগেই ইবোলাকে নিয়ন্ত্রণ করা যেত। কিন্তু আফ্রিকার এই দেশগুলিতে সেই পরিকাঠামো না থাকায় এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইবোলা।

কিন্তু কেন এত দিন ওষুধ তৈরির দিকে নজর দেয়নি ওষুধ-নির্মাতা সংস্থাগুলি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে উঠে আসে লাভসর্বস্ব ব্যবসায়ী দুনিয়ার তত্ত্ব। হু-র মতে যে হেতু আফ্রিকার এই দেশগুলির আর্থিক হাল খারাপ। তাই লাভ-লোকসানের সহজ হিসেব কষেই এত দিন প্রতিষেধক তৈরির কাজে হাত দেয়নি নির্মাতা সংস্থাগুলি। সেই কারণে রোগের প্রতিষেধক বানানোর কাজে উদ্যোগী হয় হু। কয়েকটি বহুজাতিক ওষুধ-নির্মাতা সংস্থার হাত ধরে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং সেনেগলের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যে ইবোলা আক্রান্তদের উপর প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হয়। চলতি মাসের গোড়াতেই এই কাজ করেন চিকিত্সকরা। হু-র তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশগুলি জুলাই মাসে অন্তত ৩০ জন ইবোলা রোগীর খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।