Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৩ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

বিরোধী দলনেতার পদ পেতে মরিয়া কংগ্রেস

নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি ০৪ জুলাই ২০১৪ ০৪:০০

লোকসভার বিরোধী দলনেতার পদ পেতে যে কোনও স্তর পর্যন্ত যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছে দল।

এমনিতে সরকার ও বিজেপি সূত্র দাবি করে আসছে যে, কংগ্রেসকে বিরোধী দলনেতার পদ কোনও ভাবেই দেওয়া হবে না। সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী সপ্তাহে। তার আগে ঘরোয়া ভাবে এই একই বার্তা দিচ্ছিল লোকসভার স্পিকারের দফতরও। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্ব আজ জানিয়ে দিলেন, এত সহজে জমি ছাড়বেন না তাঁরা।

লোকসভায় বিরোধী দলনেতার পদ কংগ্রেস পাবে কি না, তা নিয়ে ভোটের ফল ঘোষণার দিন থেকেই জলঘোলা চলছে। লোকসভা ভোটে কংগ্রেস এ বার মাত্র ৪৪টি আসন পেয়েছে। বিজেপি-র বক্তব্য, কংগ্রেস যেহেতু মোট আসনের দশ শতাংশও পায়নি তাই বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার যোগ্য তারা নয়। এ ব্যাপারে স্বাধীন ভারতের প্রথম স্পিকার গণেশ বাসুদেব মাভলঙ্কর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তারই দৃষ্টান্ত দিচ্ছে শাসক দল। সেই সিদ্ধান্ত মেনেই স্বাধীনতার পর প্রথম বাইশ বছর কোনও বিরোধী দলনেতা ছিলেন না( ব্যতিক্রম, প্রথম লোকসভায় এ কে গোপালন। তবে পদটি তখন নথিভুক্ত ছিল না)। কারণ কোনও বিরোধী দলই ১০ শতাংশ আসন পায়নি। ১৯৬৯ সালে প্রথম বিরোধী দলনেতা হন কংগ্রেস (ও)-র রাম সুভগ সিংহ। তাঁদের হাতে ১০ শতাংশের বেশি আসন ছিল। লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনের সচিবালয়ের তরফেও এই যুক্তিই দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

এই অবস্থায় কংগ্রেস নেতারা গোড়ায় স্থির করেছিলেন, তাঁরা বিরোধী দলনেতার পদ চাইবেন না। পরিবর্তে বিজেপি যে কংগ্রেসকে পদটি দিল না, তাই নিয়েই রাজনীতি করবেন। বলা হবে, বিজেপি ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে। কিন্তু রাহুল গাঁধী বিদেশ সফর সেরে ফেরার পর তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে এখন অবস্থান বদলেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। লোকসভায় কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খার্গে এবং মুখ্য সচেতক জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া আজ স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন। দলীয় সূত্রে বলা হয়, লোকসভায় কংগ্রেস যাতে বিরোধী দলনেতার পদ পায় সেই দাবিই জানানো হয়েছে।

কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, ১৯৭৭ সালে বিরোধী দলনেতার বেতন ও সুবিধা সংক্রান্ত আইনের সংশোধন করা হয়েছিল। সেই আইনেই বলা রয়েছে, লোকসভায় বিরোধী দলগুলির মধ্যে যাদের সদস্য সংখ্যা বেশি, সেই দলের এক জন নেতাকে সভার বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হবে। ২০০৯ সালে ওই আইন অনুযায়ীই সুষমা স্বরাজকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা নিয়োগ করা হয়েছিল। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক ও দলের মুখপাত্র শাকিল আহমেদ আজ এও বলেন, কংগ্রেস বিরোধী দলনেতার পদ না পেলে সংসদে সরব হবে। বিজেপি-র বিরুদ্ধে সংকীর্ণ রাজনীতির অভিযোগ এনে তোলপাড় করবে। সেই সঙ্গে আদালতেরও দ্বারস্থ হবে।

রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, এ সব কথা বলে আসলে স্পিকার এবং বিজেপি-র উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন কংগ্রেস নেতারা। এখন বিজেপি নরম হবে নাকি জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের কোমর আরও ভেঙে দিতে চাইবে, সেটাই দেখার। এও হতে পারে যে, কংগ্রেসকে কানিচোবানি

খাইয়ে তার পর শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলনেতার পদটি তাঁদের ছেড়ে দিয়ে দয়াদাক্ষিণ্য দেখাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

তবে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের তরফে যখন এ ব্যাপারে চড়া অবস্থান নেওয়া হচ্ছে, তখন দলের মধ্যেই অনেক নেতা কিন্তু এই অবস্থানের সঙ্গে সহমত নন। কংগ্রেসের একাধিক সাংসদের মতে, বিরোধী দলনেতা পদটির জন্য দল কেন এত ‘হ্যাংলামো’ করছে সেটাই বোধগম্য নয়। বরং স্পিকার কংগ্রেসকে এই স্বীকৃতি না দিলে, সেটাই রাজনৈতিক উপজীব্য হতে পারে। তা ছাড়া কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনার, লোকপাল-সহ একাধিক সাংবিধানিক পদে নিয়োগের জন্য যে কমিটি তৈরি করতে হয়, তাতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা থাকা জরুরি। সেই পদে যদি কেউ না থাকে, তখন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে কংগ্রেস।

এই নেতাদের মতে, কংগ্রেসের উচিত জনাদেশ মাথা পেতে নেওয়া। লোকসভায় কংগ্রেস দুর্বল, কিন্তু রাজ্যসভায় নয়। রাজ্যসভায় সরকারই সংখ্যালঘু। তাই সেখানে সরকারকে কোণঠাসা করতে আদা-জল খেয়ে নামা উচিত।

আপাতত জল যে আরও গড়াবে সন্দেহ নেই। পরশু সর্বদল বৈঠক ডেকেছেন স্পিকার। সেদিনও এ ব্যাপারে তুমুল বিতর্ক হতে পারে। ওই বৈঠকে যুক্তি সাজানোর জন্য এখন শরিকদেরও বোঝাতে নেমেছেন কংগ্রেস নেতারা।

আরও পড়ুন

Advertisement