ভারতের সবচেয়ে দামি বিক্রি হওয়া বাড়ি, কুমারমঙ্গলমের বাংলোর অন্দরমহল তাক লাগাবে
সমুদ্রের ধারের এই বাংলোটা যেন আচমকাই ইতিহাস গড়ে ফেলেছিল ২০১৫ সালে।
মুম্বইয়ের মালাবার হিলে সমুদ্রের ধারে বিশাল বাংলো জাটিয়া হাউস। সমুদ্রের ধারের এই বাংলোটা যেন আচমকাই ইতিহাস গড়ে ফেলেছিল ২০১৫ সালে।
২০১৫ সালে সজ্জন জিন্দলের ‘মাহেশ্বরী’কে পিছনে ফেলে ভারতের সবচেয়ে দামি বাংলো হিসাবে উঠে এসেছিল এই ‘জাটিয়া হাউস’।
আপাদমস্তক আভিজাত্যে মোড়া এই বাংলো ৪২৫ কোটি টাকায় জাটিয়া গোষ্ঠীর থেকে কিনে নেন আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর কর্ণধার কুমারমঙ্গলম বিড়লা।
পিরামল গোষ্ঠীর অজয় পিরামলের মতো ব্যবসা জগতের বহু রথী-মহারথীকে টপকে গিয়ে নিলামে এই বাংলো কিনে নিয়েছিলেন তিনি। এর আগে ভারতের কোথাও কখনও এত দামে কোনও বাড়ি বিক্রি হয়নি।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই জাটিয়া হাউস তিনি কিনে নিয়েছিলেন। তার আগে এই বাংলোয় থাকতেন পুদুমজি ইন্ডাস্ট্রির মালিক জাটিয়া পরিবার। মায়ানমার থেকে এ দেশের আসার পর ১৯৭০ সালে এম সি ভকিলের কাছ থেকে এই বাংলোটি কিনে নিয়েছিল জাটিয়া গোষ্ঠী।
আরও পড়ুন:
২০১৫ সালে বিড়লার কর্ণধার কুমারমঙ্গলমের কাছে হাতবদল হওয়ার আগে পর্যন্ত সেখানে জাটিয়াদের দুই ভাই অরুণ ও শ্যাম পরিবার নিয়ে থাকতেন।
কিন্তু শ্যাম জাটিয়ার তিন মেয়ে এবং অরুণ জাটিয়ার দুই মেয়ে অক ছেলে। পরিবারের মোট পাঁচ মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সদস্য সংখ্যা কমতে শুরু করে। তাই এত বড় আকারের বাংলো বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জাটিয়ারা।
১৯৫০ সালে তৈরি হয়েছিল এই বাংলো। অনেক পুরনো হওয়ায় বাংলোটার বাইরে কোনও আধুনিকতার ছাপ নেই ঠিকই, তবে বাংলোর বিশাল আকার আর রাজকীয় আসবাবপত্র এর রূপ বাড়িয়ে তুলেছে, বাংলোটির একটা আলাদা আভিজাত্য গড়ে দিয়েছে।
বাংলোর বাইরেটা আগাগোড়া সাদা রং করা। ২০টা বেডরুম রয়েছে এতে। এক একটা ঘর এতটাই বড় যে, তাতে ১০০ লোক দাঁড়িয়ে পড়তে পারবেন। আর এর হল রুমে ৭০০-৮০০ জন লোক একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। এই হল রুমেই জাটিয়া পরিবারের মেয়েদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
প্রায় ৩ হাজার বর্গ ফুট এলাকা জুড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলোটি। আর আশেপাশের বাগান মিলিয়ে মোট জায়গা ২৮ হাজার বর্গ ফুট! বাংলোর প্রায় সব ঘর থেকেই সমুদ্রের শোভা দেখা যায়।
তাক লাগানো সব বাংলো বিপুল দামে কেনার সুবাদে আরব সাগরের তীরের এই শহরে অবশ্য আগেও শিরোনামে এসেছে।
যেমন, এই মালাবার হিলেই ২০১১ সালে ৪০০ কোটি টাকায় নিলাম হয়েছিল মাহেশ্বরী হাউস। যা কিনেছিলেন শিল্পপতি সজ্জন জিন্দল। কুমারমঙ্গলমের নতুন ঠিকানার আগে পর্যন্ত এটাই ছিল ভারতে সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হওয়া বাংলো।
বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাড়ি অবশ্য মুকেশ অম্বানীর অ্যান্টিলিয়া। তবে এই বাড়ি অম্বানী কেনেননি, নিজে বানিয়েছিলেন। তাই বিক্রি হওয়া বাড়ির তালিকায় এই বাংলোটিই সবচেয়ে দামি।