কতটা দূষিত দিল্লি! একই জায়গার কয়েক দিনের ব্যবধানে তোলা ছবি আপনাকে ভয় পাইয়ে দেবে
ঝকঝকে আকাশ, ঝলমলে রোদ। গত অগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দিল্লির পরিবেশের ছবিটা ছিল এ রকমই। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানেই সেই পরিবেশ অবিশ্বাস্য ভাবে পাল্টে গিয়েছে। ধোঁয়াশায় ঢেকে গিয়েছে আকাশ। দূষণের মাত্রা পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে। গত দু’মাস আগের ছবি, অক্টোবরে দিল্লির ছবি ধরা পড়েছে। ফারাক দেখলে চমকে উঠবেন। ছবি সৌজন্য টুইটার।
ঝকঝকে আকাশ, ঝলমলে রোদ। গত অগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দিল্লির পরিবেশের ছবিটা ছিল এ রকমই। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানেই সেই পরিবেশ অবিশ্বাস্য ভাবে পাল্টে গিয়েছে।
ধোঁয়াশায় ঢেকে গিয়েছে আকাশ। দূষণের মাত্রা পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে। গত দু’মাস আগের ছবি, অক্টোবরে দিল্লির ছবি ধরা পড়েছে। ফারাক দেখলে চমকে উঠবেন। ছবি সৌজন্য টুইটার।
চরম দূষণে ধূঁকছে দিল্লি। প্রাণ ওষ্ঠাগত রাজধানীর। গত কয়েক দিন ধরেই বাতাসের গুণগত মানের সূচক (একিউআই) বিপজ্জনক থেকে অতি বিপজ্জনকের মধ্যে ঘোরাঘুরি করছে।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্ট অনুযায়ী, আনন্দ বিহারে একিউআই ছিল ৪৬৭, লোধি রোডে ৩৯২, অশোক বিহারে ৪৪৬, আর কে পুরমে ৩৯৯, জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ৪১৩, দিল্লি ইউনিভার্সিটি নর্থ ক্যাম্পাসে ৪৪৬।
প্রতি বছর দিওয়ালির পর পরই রাজধানীর পরিবেশটা বদলে যেতে শুরু করে।
আরও পড়ুন:
এক দিকে, আতসবাজির ধোঁয়া, তার উপর পার্শ্ববর্তী দুই রাজ্য পঞ্জাব ও হরিয়ানায় শস্যের গোড়া পোড়ানো— দুইয়ের মিশেলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে রাজধানী।
দূষণাসুরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রতি বছরই রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয় না।
এ বছরও একই পরিস্থিতির শিকার রাজধানী। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর দূষণের মাত্রাটা অন্যান্য বারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। বেশ কয়েক জায়গায় একিউআই পৌঁছে গিয়েছে ৯৯৯-তে।
জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়েছে রাজ্য সরকারকে। স্কুল, কলেজ সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
দূষণ ঠেকাতে গাড়ির জোড়-বিজোড় নীতিও চালু করেছে কেজরীবাল সরকার। তার পরেও কি অবস্থা শুধরোবে, এখন এই উদ্বেগটাই কুরে কুরে খাচ্ছে রাজ্যবাসীকে।
পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের অবস্থাও শোচনীয়। এই তিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বাতাসের গুণগত মানের সূচকও অতি বিপজ্জনক।
ধোঁয়াশা এমন ভাবে গ্রাস করেছে নয়ডা, গাজিয়াবাদ, গুরগাঁও এবং ফরিদাবাদকে যে, স্কুল, কলেজ সব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে প্রশাসনকে।
আবহাওয়া দফতর প্রথমে বলেছিল, বৃষ্টি হলেই এই বিষ-বাতাস থেকে কিছুটা মুক্তি মিলবে। রবিবার দিল্লিতে হালকা বৃষ্টি হয়। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হয়। ছবি: প্রত্যুষ রায় দাশগুপ্ত।
আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘মহা’র প্রভাবে পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও দিল্লিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দূষণের গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে এখন এই ‘মহা’র উপরই ভরসা রাখছে উত্তরের রাজ্যগুলো। ছবি: প্রত্যুষ রায় দাশগুপ্ত