Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

রাহুল ফিরে আসার মুখেই বিতর্ক বাড়ালেন দুই নেতা

অজ্ঞাতবাস থেকে ফিরে কিছু দিনের মধ্যেই কংগ্রেসের সভাপতি পদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রাহুল গাঁধীর। কিন্তু তার আগে আজ মুখ খুলে নতুন বিতর্ক তৈরি করল

নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি ০৬ এপ্রিল ২০১৫ ০৩:১৬

অজ্ঞাতবাস থেকে ফিরে কিছু দিনের মধ্যেই কংগ্রেসের সভাপতি পদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রাহুল গাঁধীর। কিন্তু তার আগে আজ মুখ খুলে নতুন বিতর্ক তৈরি করলেন কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ এবং মুখপাত্র সন্দীপ দীক্ষিত।

কী বলেছেন এই দুই নেতা?

রাহুলের ছুটি নেওয়ার সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি দিগ্বিজয় জানিয়েছেন, রাহুল সভাপতি হলেও কংগ্রেসের শীর্ষ পদে থাকবেন সনিয়া গাঁধী। তিনিই দলকে নেতৃত্ব দেবেন। আর দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের ছেলে সন্দীপের মতে, সনিয়াকে এখন বড্ড প্রয়োজন কংগ্রেসের। দলের সভাপতি পদ তিনি কাউকে দিতেই পারেন।

Advertisement

কিন্তু নেতৃত্ব হস্তান্তর করাযায় কি? তাঁর কথায়, ‘‘কেন্দ্রে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলিকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা এক মাত্র সনিয়ারই রয়েছে।’’

সনিয়াও যে ইদানীং অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, তা তাঁর গতিবিধিতেই স্পষ্ট। কেন্দ্রের জমি বিলের বিরোধিতা করে রাজ্যে রাজ্যে সফর করছেন। চড়া সুরে কেন্দ্রকে চিঠিও লিখেছেন। অথচ এই সনিয়াই প্রায় দু’বছর ধরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জমি তৈরি করছিলেন। তা হলে ফের কেন সক্রিয় হলেন সনিয়া?

কংগ্রেস নেতাদের মতে, এর কারণ দু’টি। প্রথমত, লোকসভা ভোট ও একের পর এক বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের ভরাডুবির পরে প্রশ্ন উঠেছে গাঁধী পরিবারের মাহাত্ম্য কি তবে শেষ হয়ে গেল? তা যে নয়, সেটা বোঝাতেই সনিয়াকে হাল ধরতে হয়েছে। কারণ তিনি জানেন, গাঁধী পরিবারের মাহাত্ম্য শেষ হওয়ার বার্তা গেলে দলটাই ভেঙে যাবে। অনিশ্চিত হয়ে পড়বে ছেলের ভবিষ্যত্‌। দ্বিতীয়ত, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বর্তমানে যা সমীকরণ তাতে একা কংগ্রেসের পক্ষে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে বিপাকে ফেলা সম্ভব নয়। তার জন্য বিরোধী শক্তিগুলিকে এক ছাতার তলায় আনতে হবে। কিন্তু সনিয়া জানেন, লালু-মুলায়ম-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা রাহুলের নেতৃত্ব মানবেন না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতেও, মোদীর মোকাবিলা করার উচ্চতা রাহুলের নেই। তা রয়েছে সনিয়ারই। সে ক্ষেত্রে তিনি অপরিহার্য। আবার মমতা-নীতীশ-লালু-মুলায়মদেরও সনিয়াকে প্রয়োজন। কারণ, তাঁরা আঞ্চলিক শক্তি। জাতীয় স্তরে তাঁদের মোদী বিরোধী লড়াইয়ে কোনও মুখ নেই। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষেই হালফিলে সক্রিয় হয়েছেন সনিয়া।

এই পরিস্থিতিতে আজ মুখ খোলেন দিগ্বিজয়-সন্দীপ। দিগ্বিজয় বলেন, “এটা ঠিকই কংগ্রেসে প্রজন্মের পরিবর্তন প্রয়োজন। রাহুলের সভাপতি হওয়া উচিত। কিন্তু তার পরেও কংগ্রেসের মার্গদর্শক এবং ইউপিএ-র সভানেত্রী থাকবেন সনিয়া। সে ক্ষেত্রে ক্ষমতার দু’টি কেন্দ্র নিয়ে বিভ্রান্তিরও স্থান নেই। কারণ, শীর্ষে থাকবেন সনিয়া, বাকিরা তাঁর নীচে।”

আর সন্দীপ বলেন, “১৯৯৮-এর থেকেও এখন সনিয়াকে কংগ্রেসের বেশি প্রয়োজন। তাঁরই দলের সভানেত্রী থাকা উচিত। একমাত্র তাঁরই ক্ষমতা রয়েছে কংগ্রেসকে টেনে তোলার। ২০১৪ সালের ভোটে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর সনিয়া যে ভাবে কংগ্রেসকে লড়াইয়ে নামিয়েছেন, তা আর কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না।”

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত, এও হতে পারে যে, সাংগঠনিক বিষয় ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মা-ছেলে এ ভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আগাম বার্তা দেওয়ার জন্যই পরিকল্পিত ভাবে মুখ খুলছেন দিগ্বিজয়রা। যাতে এটা মনে না হয়, ছেলে সভাপতি হওয়ার পরেও মা কেন সক্রিয়। বা মা সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও কেন ছেলেকে সভাপতি করা হল?

আরও পড়ুন

Advertisement