Advertisement
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Mizoram CM

শুক্রবার শপথ নেবেন মিজ়োরামের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী জ়েডপিএম নেতা লালডুহোমা

জ়োরাম পিপলস্‌ মুভমেন্ট (জ়েডপিএম) নেতা লালডুহোমা শুক্রবার সকালে মিজ়োরামের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করবেন। আইজ়লের রাজভবনে হবে অনুষ্ঠান।

An image of ZPM leader Lalduhoma

মিজ়োরামের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন জ়োরাম পিপলস্‌ মুভমেন্ট (জ়েডপিএম) নেতা লালডুহোমা। —ফাইল চিত্র।

আনন্দবাজার অনলাইন ডেস্ক
কলকাতা শেষ আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:২৭
Share: Save:

মিজ়োরামের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন জ়োরাম পিপলস‌্ মুভমেন্ট (জ়েডপিএম) নেতা লালডুহোমা। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে তিনি শাসকদল মিজ়ো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ)-কে পর্যুদস্ত করেছেন। শুক্রবার মিজ়োরামের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি শপথ গ্রহণ করবেন। আইজ়ল শহরে রাজভবনে শুক্রবার সকাল ১১টায় মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তার প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে।

রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি থাকলেও বিকল্প বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে বিধানসভা ভবনেও। আবহাওয়ার কারণে বাধা এলে সেখানেই শপথ নেবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

মিজ়োরামের বিধানসভায় ৪০টি আসনের মধ্যে লালডুহোমার নেতৃত্বে জ়েডপিএম জিতেছে ২৭টিতে। শাসকদল এমএনএফ পেয়েছে মাত্র ১০টি আসন। অন্য দিকে, বিজেপি মিজ়োরামে মাত্র দু’টি আসনে জয় পেয়েছে। একটি আসন পেয়েছে কংগ্রেস।

মিজ়োরামে দু’দশকের দ্বিমেরু রাজনীতির প্রথা ২০১৮ সালেই ভেঙে দেন লালডুহোমা। কংগ্রেসকে তৃতীয় স্থানে ঠেলে দিয়ে তিনি দখল করেছিলেন বিরোধী দলনেতার পদ। এই লালডুহোমা একসময় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান ছিলেন। সে সময় তিনি ছিলেন দাপুটে আইপিএস অফিসার। ১৯৮২ সালে অসম থেকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে সোজা ইন্দিরার নিরাপত্তা অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। ইন্দিরা জানতে পেরেছিলেন, ১৯৭৭ সালে আইপিএস হওয়ার আগে রাজ্য প্রশাসনিক সার্ভিসের অফিসার হিসাবে মিজ়োরামের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী সি ছুংগার সহায়ক ছিলেন তিনি। লালডুহোমার রাজনৈতিক জ্ঞান দেখে ইন্দিরাই ১৯৮৪ সালে ফের তাঁকে মিজ়োরামে পাঠান। পুলিশের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে লোকসভার সাংসদ হন লালডুহোমা। দায়িত্ব পান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিরও।

রাজীব গান্ধীর জমানায় লালডেঙ্গার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের সঙ্গে ঐতিহাসিক মিজ়ো চুক্তির মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওই রাজ্যে শান্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ঘটনাচক্রে, সে সময় মিজ়ো বিদ্রোহীদের অন্যতম নেতা ছিলেন জ়োরামথাঙ্গা। শান্তিচুক্তির পরে মিজ়োরামের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন লালডেঙ্গা।

এর পরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালথানহাওলার সঙ্গে সংঘাতের জেরে কংগ্রেস ছেড়ে প্রথমে মিজ়ো ন্যাশনাল ইউনিয়ন গড়েন লালডুহোমা। পরে যোগ দেন আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী টি সাইলোর নেতৃত্বাধীন পিপলস কনফারেন্সে। পরের গন্তব্য ছিল লালডেঙ্গার দল এমএনএফ। লালডেঙ্গার মৃত্যুর পরে তাঁর উত্তরসূরি জোরামথাঙ্গার সঙ্গে বিরোধের জেরে লালডুহোমা তৈরি করেছিলেন জ়োরাম ন্যাশনালিস্ট পার্টি (জ়েডএনপি)। সেই দল এ বার মিজ়োরামে ক্ষমতায় এল।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE