খেলার মাঠে ১০ বছরের কিশোরীকে ‘জঙ্গি’ বলেছিল বন্ধুরা। এক বন্ধুর মা আবার ‘বিপজ্জনক’ মনে করেছিল শিখ মেয়েটিকে। যার জবাব দিতে একটি ভিডিয়ো তৈরি করল লন্ডনের বাসিন্দা মুন্সিমার কৌর নামে ওই কিশোরী। যা টুইটারে পোস্ট করেন তার বাবা। মাথায় পাগড়ি পরে মুন্সিমার যেখানে বলছে, ‘‘বর্ণবিদ্বেষ দূর করতে গেলে শিখ সম্প্রদায় সম্পর্কে আরও জানাতে হবে।’’ বৃহস্পতিবার ভিডিয়োটি পোস্ট করার পরেই অন্তত ৫০ হাজার মানুষ দেখেন এটি। নেটিজেনদের ঢালাও প্রশংসা কুড়োয় দৃঢ়চেতা ওই কিশোরী।

ভিডিয়োয় মুন্সিমার জানিয়েছে, গত সোমবার প্লামস্টেডের একটি পার্কে খেলতে গিয়েছিল সে। সেখানে খেলছিল আরও দু’টি ছেলে ও দু’টি মেয়ে। প্রত্যেকের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তাদের সঙ্গে ওই কিশোরী যোগ দিতে গেলে ওই চার জন চিৎকার করে বলে, ‘‘তুমি খেলবে না। তুমি জঙ্গি’। মুন্সিমারের বক্তব্য, এই কথায় সে আঘাত পেলেও মাথা উঁচু করে হেঁটে বেরিয়ে আসে। পরের দিন আবার ওই একই পার্কে যায় ওই কিশোরী। এ দিন ন’বছরের একটি মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় তার। কিন্তু এক ঘণ্টা বাদে সেই বন্ধুর মা-ও এসে বলেন, মেয়েটি তার সঙ্গে খেলবে না। কারণ মুন্সিমার ‘বিপজ্জনক’। যদিও এ বার মায়ের আচরণের জন্য মুন্সিমারের কাছে ক্ষমা চায় তার নতুন বন্ধু।

পর পর দু’দিন একই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই কিশোরী বলেছেন, ‘‘এই অভিজ্ঞতা থেকে বুঝলাম, বহু মানুষের মধ্যেই শিখ সম্প্রদায় নিয়ে অজ্ঞতা রয়েছে। সবাই কিন্তু আমার মতো শক্ত মনের হয় না বা অভিভাবকদের সঙ্গে খোলাখুলি সব বিষয়ে আলোচনা করতে পারে না।’’ তাই এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে মাথা উঁচু করে তার মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছে ওই কিশোরী।