দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জেরে ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপে তখন ধুঁকছে প্রায় গোটা ইউরোপ। সে বার ত্রাতার ভূমিকা নিতে চেয়েছিল আমেরিকাই। সময়টা ১৯৪৭-এর জুন। তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব জর্জ সি মার্শাল ঘোষণা করেছিলেন ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর। উদ্দেশ্য— ক্ষুধা, দারিদ্র আর বিশঙ্খলার মোকাবিলায় গোটা ইউরোপের পাশে দাঁড়ানো। মুক্ত বাণিজ্যের কথাও বলা হয়েছিল সেই পরিকল্পনায়। বুধবার সত্তর বছর পূর্ণ হলো সেই ঐতিহাসিক মার্শাল প্ল্যানের। বার্লিনে বর্ষপূর্তি পালন করলেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল। তাঁর ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল প্রাক্তন মার্কিন বিদেশসচিব হেনরি কিসিঙ্গারকে! 

কিন্তু এখন তো পরিস্থিতি আলাদা। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ বলে উল্টো সুরে গাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার উপর আর ভরসা রাখা ঠিক হবে না বলে সম্প্রতি তোপ দেগেছিলেন মের্কেলও। আজ তা হলে কী হলো? এ দিন অবশ্য সরাসরি ট্রাম্পকে প্রায় কিছুই বলেননি মের্কেল। মুখে কুলুপ কিসিঙ্গারেরও। তবে একজোট হয়ে থাকাতেই যে সকলের  মঙ্গল, তা পরিষ্কার করে দেন জার্মান চ্যান্সেলর। তিনি বলেন, এতে মার্কিন স্বার্থও জড়িয়ে আছে। আজও মার্শাল প্ল্যান একই রকম প্রাসঙ্গিক
বলে মত তাঁর। তবে প্রয়োজনে, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে তুলে নিতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মের্কেল।