আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল চক্রী, হাফিজ সইদ ও তার সংগঠনকে সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিল পাকিস্তান।

শুধু হাফিজই নয়, পাক প্রেসিডেন্ট মামুন হোসেন গত শুক্রবার এমন একটি অর্ডিন্যান্সে সই করেছেন, যার ফলে রাষ্ট্রপুঞ্জ-ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী ও নিষিদ্ধ সবক’টি জঙ্গি সংগঠনের উপরেই পাক সরকার তাদের ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। এর ফলে জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ-ই-ইনসানিয়াৎ, লস্কর-ই-তইবার মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির দফতর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হবে। গত মাসেই পাক সরকার জামাত-উদ-দাওয়া-সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনকে আর্থিক সাহায্য করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এ বার আরও এক কদম এগিয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের জন্য জমি তৈরি করল ইসলামাবাদ।

জলে শিলা ভাসার মতো এমন ঘটনা কী করে ঘটে গেল, তা নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। ভারতীয় কূটনীতিকদের অনেকেই মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রবল চাপ ও প্যারিসে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বৈঠকের ঠিক আগেই এমন পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে ইসলামাবাদ। রাষ্ট্রপুঞ্জ ইতিমধ্যেই সইদকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এ নিয়েও কোনও হেলদোল ছিল না পাক সরকারের। বরং গত নভেম্বরে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বহাল তবিয়তেই দিন কাটছিল হাফিজের। কিন্তু ইসলামাবাদ বুঝতে পারছে, প্যারিসে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) এ বারের বৈঠকটি তাদের জন্য প্রবল সঙ্কট নিয়ে আসতে চলেছে। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চটি হাওয়ালা ও জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ জোগান দেওয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের ডান হাত। এর আগেও এখানে পাকিস্তানকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। যার পিছনে ছিল ভারতের উদ্যোগ। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ প্রস্তাবকে বাস্তবায়িত করতে, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক জঙ্গি ও সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে ইসলামাবাদ যে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি, তা এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরে চাপ বাড়িয়েছিল নয়াদিল্লি। জঙ্গি নেতারা যে পাকিস্তানে মহানন্দে বসে রয়েছে, আর তাদের অর্থের জোগানেও কোনও অসুবিধা হচ্ছে না— এ সব প্রশ্ন উঠে আসায় পাকিস্তানের নিন্দা করে কারণ জানতে চেয়েছিল এফএটিএফ।

এর পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের থেকে বড় ধাক্কা খায় ইসলামাবাদ। আফগানিস্তানে জঙ্গি দমনে সাহায্যের নাম করে বিপুল অঙ্কের টাকা বছর বছর
ধরে নিয়ে গিয়ে পাকিস্তান যে কোনও পদক্ষেপই করেনি, সে কথা স্পষ্ট ভাবে বলেছিলেন ট্রাম্প। এমনকী, পাকিস্তানকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যাও দিয়েছিলেন তিনি। বন্ধ করেছিলেন জঙ্গি মোকাবিলার নামে অর্থের বরাদ্দও।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের আশঙ্কা ছিল, জঙ্গি দমনের প্রশ্নে প্যারিসের বৈঠকে বিপুল ভাবে সমালোচিত হতে চলেছে তারা। এই উদ্বেগেই হাফিজদের উপর লাগাম কষার ইঙ্গিত দিল ইসলামাবাদ।