ধারণাটা ছিলই। তবে প্রমাণ ছিল না। ১৬৬৫ সালে লন্ডনে যে মহামারি হয়েছিল, তার কারণটা ঠিক কী— তা নিয়ে ধন্দ ছিল বিজ্ঞানীদের মনে। অবশেষে গত বছর লিভারপুল স্টেশনের কাছে খনন কার্য চালানোর সময়ে সে যুগের কিছু কঙ্কাল মিলেছে। তাদের ডিএনএ পরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞরা জানান, কঙ্কালগুলিতে প্লেগের জীবাণু ইয়ারসিনা পেস্টিসের উপস্থিতি স্পষ্ট।

১৬৬৫ সালে মহামারিতে লন্ডনে মারা গিয়েছিলেন প্রায় ১ লক্ষ মানুষ। তবে এত দিন পর্যন্ত সত্যিই প্লেগ হয়েছিল কি না তখন, সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য ছিল না বিজ্ঞানীদের কাছে।

গত বছর এলিজাবেথ লাইন নামের নতুন একটি ট্রেন রুট তৈরির জন্য খোঁড়াখুঁড়ি চলছিল শহরে। আর তখনই লিভারপুল স্ট্রিট স্টেশনের কাছে ৩৩০০-রও বেশি কঙ্কাল পাওয়া যায়। এলাকাটি বেদলাম কবরস্থান বলেই পরিচিত। আর সেখানেই ৪২টি কঙ্কাল মেলে। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এই ৪২টি কঙ্কালের বয়স প্রায় ৩০০ বছর।

তবে এই কঙ্কালগুলি থেকে ডিএনএ বার করা সহজ ছিল না। মূলত এদের দাঁত থেকেই ডিএনএ উদ্ধার করেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, দাঁতের এনামেল ডিএনএকে সুরক্ষিত রাখে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে অন্যান্য সংক্রমণের সম্ভাবনাও বেশ কম। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা এ রকম ২০টি কঙ্কাল থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করেন। তাদের মধ্যে ৫টিতেই ইয়ারসিনা পেস্টিসের উপস্থিতি টের পাওয়া গিয়েছে।