শেষ পর্যন্ত কার দখলে গেল ‘আয়রন থ্রোন’? তা জানতে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় ‘গেম অব থ্রোনস’-এর দর্শকেরা। চূড়ান্ত পর্বের পরিণতি কি হতে চলেছে, তা অনুমান করে বাজারে ছড়িয়েছে নানা ‘স্পয়লার’ও। তবে আশ্চর্যের বিষয়, স্পয়লার নয়, মার্কিন ধারাবাহিকটির দর্শকেরা এখনও চর্চায় মেতে রয়েছেন গত রবিবারের ‘দ্য বেলস’ শীর্ষক পর্বটি নিয়েই। সিরিজ়টির ধারা মেনেই প্রেম, রাজনীতি এবং ক্ষমতা দখলের এই খেলায় বিভিন্ন সময়ে (বেশির ভাগই অপ্রত্যাশিত ভাবে) বলি হয়েছেন একের পর এক নানা চরিত্র। তবে গত পর্বের শুরুতেই খালিসি বা ড্যানেরিস টার্গেরিয়ানের নির্দেশে লর্ড ভ্যারিসের হত্যা বিশেষ ভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে দর্শকদের। এই নিয়ে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়াও। যার মধ্যে বিশেষ নজর কাড়ছে কয়েক জন চিনে নাগরিকের পোস্ট। যাঁদের দাবি, ওয়েস্টেরসের জনসাধারণের সু-স্বার্থের কথা ভাবার ‘দায়ে’ যে ভাবে প্রাণ দিলেন লর্ড ভ্যারিস তাতে তিনি এক জন সত্যিকারের কমিউনিস্টের মতো কাজ করেছেন!

ধারাবাহিকটির এটা অষ্টম তথা চূড়ান্ত সিজ়ন চলছে। বিভিন্ন সিজ়নের নানা সময়ে নানা চরিত্র যুক্ত হলেও লর্ড ভ্যারিস ছিলেন প্রথম সিজ়ন থেকেই চিত্রনাট্যের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। যেখানকার সিংহাসন নিয়ে এত লড়াই সেই কিংস ল্যান্ডিং-এর ‘মাস্টার অব হুইসপার্স’ বা প্রধান গুপ্তচর ছিলেন তিনি। যার দখল নিতে চান খালিসিও। তবে অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ভ্যারিস মনে করতেন, জনসাধারণের স্বার্থে জন স্নো-ই হবেন যোগ্য রাজা। ফলে সিংহাসনে তাঁরই বসা সাজে, খালিসির নয়। আর এই কথাটি টিরিয়নের মাধ্যমে খালিসির কানে পৌঁছতেই তাঁকে শেষ করে দেন ‘মাদার অব ড্রাগনস’ খালিসি। ফলে, সাধারণের জন্য ভাবতে গিয়েই আজ ভ্যারিসের এই পরিণতি বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি ওই চিনে নাগরিকদের। 

এমনকি, শেষমেশ লর্ড ভ্যারিসের ইচ্ছে মতো যদি জন স্নো-ই রাজা হয়, তা হলে তাঁর প্রথম বক্তৃতায় ভ্যারিসের এই ‘বলিদান’কে শ্রদ্ধা জানাতে ঠিক কী কী শব্দ প্রয়োগ করা উচিত তা-ও লিখে দিয়েছেন এক জন! তাঁর মতে, জনের বলা উচিত, “কমরেড ভ্যারিসের জীবন বর্ণময় এবং সম্মানের। গোড়া থেকেই কষ্ট সহ্য করে আসা ভ্যারিস দেশ এবং সর্বসাধারণের কল্যাণের জন্য একটা সুন্দর রাজ্যের স্বপ্ন দেখেছিলেন। গ্রেফতার হওয়ার পর নিজের সমস্ত অলঙ্কার খুলে ফেলে দিয়ে জীবনে প্রথম এবং শেষ বারের মতো ভ্যারিস বুঝিয়ে দিয়ে যান যে যতই রাজাদের জন্য কাজ করুন না কেন, আদতে তিনি এক জন সাধারণ মানুষ, ‘প্রলেতারিয়েতের’ই অঙ্গ।” খানিকটা মজা করে হলেও ভ্যারিসকে এক ‘বিপ্লবী শহিদ’ হিসেবে ব্যাখা করেছে ডুবান নামে একটি মুভি রিভিউ সাইট। ভ্যারিস সারা জীবন জনসাধারণের ভাল চেয়েছেন। তাঁদের জন্যে বীরের মতো মৃত্যুও বরণ করেছেন বলে দাবি করে তারা লিখেছে, ‘কমরেড ভ্যারিস দীর্ঘজীবী হন!’  

‘বিশ্বের শ্রমিকেরা এক হও!’,  কমিউনিজমের এই বিখ্যাত স্লোগানের ধাচে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ‘গেম অব থ্রোনস’ দর্শকদের এক হওয়ার ডাক দিয়েছেন আর এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী। তাঁর আহ্বান, “চলুন, নাইট কিং-কে (হোয়াইট ওয়াকারদের মধ্যে সবচেয়ে পুরনো যিনি) জাগিয়ে তুলি। শো-এর প্রযোজকদের নিয়ে এবং ভ্যারিসকে স্মরণ করে আমরা সকলে কমিউনিজমের পথে ঝাঁপিয়ে পড়ি!” 

তবে শুধু ভ্যারিসের বলিদানই নয়। কিংস ল্যান্ডিংয়ের সাধারণ মানুষের উপর খালিসির অতর্কিত প্রহার নিয়েও গর্জে উঠেছেন চিনের নেটিজেনরা। তাঁদের দাবি, ‘ম্যাড কুইন’ ড্যানেরিসের প্রত্যেকটি কাজ কমিউনিজমের মূল ভাবনার পরিপন্থি। ফলে তাঁকে নিয়ে ছড়িয়েছে নানা কটাক্ষমূলক মিম। সেরকমই একটি ভাইরাল মিমে দেখা যাচ্ছে, খালিসিকে এক বৌদ্ধ সাধু উপদেশ দিচ্ছেন, ‘‘ঘৃণা ঘৃণাকে কখনই শেষ করতে পারে না। ছুরি ফেলে বরং একটু শান্তির পথে হাঁটুন এ বার।’’