সপ্তাহান্তের শুরুতেই ফের অশান্ত হংকং। গত দু’সপ্তাহের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ইতি পড়ছে আজ সকাল থেকে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে হয়েছে দাঙ্গা পুলিশকে। চলেছে লাঠিও। পুলিশের দাবি, পেট্রল বোমা, বেসবল স্টিক, ইট হাতে নিয়ে আজ মারমুখী ছিলেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের ঠেকাতেই লাঠিচার্জ করতে এবং কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে বাধ্য হয়েছে পুলিশ

আজ অশান্তির সূত্রপাত হয় কুয়োন তং এলাকা থেকে। হংকং প্রশাসন খুব সম্প্রতি ঘোষণা করেছিল, স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলের চারটি শহর কেন্দ্রিক জেলায় মোট ৪০০টি ‘স্মার্ট ল্যাম্পপোস্ট’ লাগানো হবে। যার সূচনা হবে কুয়োন তং থেকে। সেখানে ৫০টি এই ধরনের ল্যাম্পপোস্ট লাগানোর কথা ছিল। কিন্তু হংকংয়ের গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই অত্যাধুনিক বাতিস্তম্ভ শহরের বিভিন্ন এলাকায় লাগিয়ে চিনা প্রশাসন আসলে এখানকার মানুষের যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিক্ষোভকারীদের মুখ চিনে রাখার কৌশলও তার মধ্যে রয়েছে। ক্যারি ল্যামের প্রশাসন অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে জানিয়েছে, ট্র্যাফিক, বায়ু দূষণের মাত্রা, রোজকার আবহাওয়ার তথ্য জানতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। উল্টে এর প্রতিবাদেই আজ রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয় একটি শপিং মল এবং থানায় হামলা চলে বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। আজ যে প্রতিবাদ শান্ত ছিল না, তা মেনে নিয়েছেন বিক্ষোভকারীদের একাংশও। রায়ান নামে এক বিক্ষোভকারী আজ বলেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ অবস্থানে কিচ্ছু পাল্টাবে না। কোনও সমাধান বার হবে না। আমায় যদি গ্রেফতার করা হয়, বুঝবেন বিচার চেয়েছিলাম বলেই এই শাস্তি হল।’’